লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভব্য

চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ

খালিল চৌধুরী, লোহাগড়া

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে আলোচনা। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ, মতবিনিময় ও জনসংযোগ। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৬-নং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সৌদি আরব প্রবাসী কমিনিউটির সর্বজন সু-পরিচিত ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজের সর্বত্র একটি অংশে ইতিবাচক আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার এলাকাবাসী।।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সৌদি আরব প্রবাসী কমিনিউটি সুপরিচিত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ ৬-নং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের (৮-নং ওয়ার্ড়) মজিদার পাড়ার মরহুম মুহাম্মদ খুলুমিয়ার সুযোগ্য পুত্র।

স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পূর্ণ ও নিবেদিত একজন সমাজকর্মী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ। তিনি মজিদার পাড়া সমাজ উন্নয়ন কমিটি প্রধান সমন্বয়ক, কর্ণফুলী টাওয়ার-চট্টগ্রামের সভাপতি ও লোহাগাড়া সমিতি-চট্টগ্রাম এর প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক। এছাড়াও লোহাগাড়া ফোর এইচ ক্লাব, একুশে পরিবার লোহাগাড়া সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এদিকে প্রবাসে কমিনিউটিদের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সৌদি আরব শাখা, মদিনা প্রবাসী ফোরাম, মদিনা বাংলাভিশন দর্শক ফোরাম, সিপ্লাস টিভি দর্শক ফোরাম, চুনতি সিরাতুন্নবী (সঃ) মাহফিল পরিচালনা কমিটি মদিনা মনোয়ারা শাখা সভাপতি ও সাতকানিয়া লোহাগাড়া বিজনেস ফোরামের আহবায়ক এবং সাকানিয়া-লোহাগড়া ঐক্য পরিষদ, লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি-সৌদিআরব উপদেষ্টা ও গারাংগিয়া আলীয়া মাদ্রাসা তোলাবায়ে সাবেকিন প্রবাসী কমিটি সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য,দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কমিনিউটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজ এলাকার সামাজিক সংগঠন ও সমাজ এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন।

৬-নং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করেন, যিনি নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থাকবেন এবং নাগরিক সমস্যার কার্যকর সমাধানে আন্তরিক ভূমিকা পালন করবেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হতে পারেন।

ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সচেতন মহল বলেন, প্রবাসে কমিনিউটি সংগঠন-সহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ’র সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ তাকে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাদের দাবি, মানুষের ভালোবাসা পেলে তিনি নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

অন্যদিকে স্থানীয় এলাকার একাংশের মতে, লোহাগাড়া সদর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনিয়নের নেতৃত্বে এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যিনি ব্যবসায়ী সমাজ, নাগরিক সেবা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করতে পারবেন। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের নেতৃত্বের প্রত্যাশা থেকেই তারা বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীকে মূল্যায়ন করছেন।

ভোটারদের চূড়ান্ত মতামতই নির্ধারণ করবে আগামী নেতৃত্ব।লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বেশকয়েকজন ভোটার বলেন, লোহাগাড়া সদরের উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধার সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং সেবার মান বৃদ্ধির জন্য মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি।”

এ বিষয়ে আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসী কমিনিউটি আমার কাছে ক্ষমতার নয়, মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকার জনগণ যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন এবং দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাহলে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ, দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের চূড়ান্ত মতামতই নির্ধারণ করবে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের আগামী নেতৃত্ব। তাই নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের সুযোগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মালামাল উচ্ছেদ করে সড়কে ফুটপাত দখলমুক্ত করলো চসিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী সড়কে ফুটপাত দখল করে রাখা দোকানের মালামাল উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

চসিক সূত্র জানায়, বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন দোকানের মালামাল রাখা হয়েছিল। এতে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল।অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখল করে রাখা এসব মালামাল জব্দ করা হয়। পরে ফুটপাতটি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। চসিক জানিয়েছে, জনস্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ঠেকাতে জেলা পুলিশের সাইবার টিমকে বিশেষ নির্দেশনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত শনাক্ত, যাচাই ও প্রতিরোধে এ নির্দেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের (বিপিএম) সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য শনাক্ত, তথ্যের সত্যতা যাচাই, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিশেষ করে দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপ ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছড়ানো তথ্য সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা এবং ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এমন কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় পুলিশ সুপার গুজব শনাক্তের পর দ্রুত তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য তুলে ধরে কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচারের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন।এ সময় গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ, সময়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বলা হয়, কোনো ঘটনা বা তথ্য নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে। যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচার করতে হবে।পাশাপাশি থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা পোস্ট শেয়ার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কোনো কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত, দ্রুত সত্যতা যাচাই এবং সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ