টানা বৃষ্টিতে আবার ডুবল সড়ক-অলিগলি, নগরজীবনে দূর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাতভর বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে রাতভর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এসব এলাকায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষসহ পথচারীরা। এই বৃষ্টি বৃষ্টি কারও বাসা ডুবিয়েছে, কারও যাত্রাভঙ্গের কারণ হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছেছে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই অকস্মাৎ এই ভারী বর্ষণ। আবহাওয়া অফিসের ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা এসেছে নগর ডোবার পর সোমবার (১৭ আগষ্ট) সকালে। তার আগেই রবিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার সকাল ৬টা থেকে ছয় ঘণ্টায় ১৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী বৃষ্টি আখ্যায়িত করা হয়। ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টি ধরা হয় বলে আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তায় জানানো হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পড়ে অফিসগামী মানুষ ও স্কুলশিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় বড় প্রকল্প চললেও বৃষ্টিতে বারবার নগর ডুবে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সোমবার(১৭ আগষ্ট) সকালে নগরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, পাঠানটুলী ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মূল সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত পানি ওঠায় এসব এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

সকালে সরেজমিন নগরের কাতালগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়, সড়কটি কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। হুড তোলা ও পলিথিনে ঢাকা একটি রিকশায় যাত্রী নিয়ে চালক বুকসমান পানি ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছেন। রিকশার চাকা পুরোপুরি পানিতে ডুবে থাকায় পানি উঠেছে চালকের কোমর পর্যন্ত। মূল সড়কের একাংশ ও আবাসিক ভবনের সামনের গলি পানির নিচে থাকায় কোথায় সড়ক আর কোথায় গলি, তা বোঝার উপায় ছিল না। অদূরে এক পথচারীকেও কোমরপানি ভেঙে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নাম্বার সড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানকার আল হিদায়াহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও আল রাওয়া ইংলিশ স্কুলের প্রবেশপথ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে ছিল। ফলে সকালে শিক্ষার্থীদের তেমন দেখা যায়নি। সড়কে যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ ছিল। এক রিকশাচালককে যাত্রী নিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে রিকশা টেনে নিতে দেখা যায়।

পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জের পাশাপাশি আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, পাঠানটুলী ও কাপাসগোলাসহ নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায়ও পানি জমেছে। মূল সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত পানি ওঠায় এসব এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েন।জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহন ও রিকশা না পেয়ে অনেককে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও রিকশা চললেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের।

আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় হাঁটুপানি ভেঙে অফিসে যাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী শফিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই আগ্রাবাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। রবিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন না থাকায় এবং দু-একটি রিকশা তিন গুণ বেশি ভাড়া চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হেঁটেই অফিসে যেতে হয়েছে তাকে।
নগরের বিভিন্ন স্কুলের সামনেও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে আটকে পড়েন। পরিবহন-সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারেনি।

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপরও টানা বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সবার সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নগরীর পূজা উদযাপন কমিটি, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা হয়েছে। সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কারণেই উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চলাচলের উপযোগী সড়ক এবং উৎসবস্থলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জাসংক্রান্ত ব্যবস্থা সমন্বয়, সড়ক সংস্কার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নাগরিকদের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলো যাতে স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই বহুধর্মীয় সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নগরী। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এই সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসবকে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের আনন্দের অংশ করে নিতে পারলে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে এবং সামাজিক বিভাজন কমবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গোৎসবের সফল সমাপ্তি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা সারা বছর বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের বাইরেও নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও নগরবাসীর মধ্যে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হলে চট্টগ্রামকে একটি শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

এসময় অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নিখিল নাথ। প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন অঞ্জন দত্ত। বক্তব্য রাখেন:ক্যাপ্টেন শামীম, ডা:নুরুল আবসার, বিপ্লব দে পার্থ, সৌরভ প্রিয় পাল, আশুতোষ দে, বিপ্লব সেন, সূজন কুমার শীল। উপস্থিত ছিলেন রত্নাকর দাশ টুনু, শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, নটু চৌধুরী, সুকান্ত মহাজন টুটুল,, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন,প্রিয়তোবল, রিপন রায় চৌধুরী, অধ্যাপক অসীম দে, শ্যামল চৌধুরী, রাজন দাশ, অসিক দত্ত, চন্দন পালিত, অয়ন ধর, রাসেল দত্ত, উত্তম কুমার শীল, লিটন চৌধুরী, সৈকত মহাজন সাজু, সুজন কুমার শীল, সুজন শীল প্রমুখ।

চট্টগ্রাম – ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ, লাকসামে বগি লাইনচ্যুত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের কয়েকটি বগি কুমিল্লার লাকসামে লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে দিকে লাকসামের নাউটি স্টেশনের আউটারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, এ ঘটনার পর থেকে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

লাকসাম স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পরই ট্রেনটির চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনে থাকা যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ট্রেনের সামনের দিকে ছিলাম। হঠাৎ করেই ট্রেন থেমে যায় এবং কয়েকটি বগি কাত হয়ে পড়ে।’

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ