চট্টগ্রামে বিআরটিসি’র বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিসের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকার মত চট্টগ্রামে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। গোলাপি রঙের এই দুটি বাসে চালক, সহকারী ও যাত্রী সবাই নারী থাকবেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। রাজধানীর পর চট্টগ্রামেও নারীদের জন্য বিশেষ এই বাস সার্ভিস চালু হলো।
উদ্বোধনের পরই কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে পতেঙ্গা রুটে বাসটি চলাচল করে। প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটারের এই রুটে কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা।

আর কালুরঘাট বা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ টাকা। এদিকে বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নারী যাত্রীরা। তাদের মতে, সাধারণ গণপরিবহনে চলাচলের সময় ইভটিজিং, হয়রানি ও অনাকাঙ্খিত স্পর্শের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। শুধু নারীদের জন্য বাস চালু হলে এসব ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

জেরিন নামে নারী যাত্রী বলেন, কম্বাইন্ড বাসে অনেক সময় ইভটিজিং ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আবার মেয়ে কম থাকলে বাসে উঠতেও দেওয়া হয় না। এখানে চালক, সহকারী ও যাত্রী সবাই নারী। তাই আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি।

রুমা আক্তার নামে আরেক যাত্রী বলেন, অনেক দিন ধরেই আমাদের আকাঙ্খা ছিল নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হোক। এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নারীদের জন্য আরও বাস চালু করা উচিত।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন। এ বাসের চালক ও হেলপার সবাই নারী।

চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা আশা করব, সরকার যে উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি শুরু করেছে, নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। সরকারের অঙ্গীকার সরকার বাস্তবায়ন করছে।

জানা গেছে, চালু হওয়া দ্বিতল বাসে ৭৫টি আসন এবং অপর বাসে রয়েছে ৪৫টি আসন। দ্বিতল বাসে একজন নারী চালক ও দুজন সহকারী থাকবেন। অপর বাসে একজন চালক ও একজন সহকারী থাকবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের গণপরিবহনে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ তৈরি করাই এই বিশেষ বাস সার্ভিসের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বাসের চালক ও সহকারী হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়ায় পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী গণপরিবহনে চলাচল করেন। ভিড়, আসনসংকট ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নারী চালক ও সহকারী পরিচালিত পৃথক বাস সার্ভিস চালুর ফলে এসব সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাথমিকভাবে দুটি বাস দিয়ে সার্ভিসটি শুরু হলেও যাত্রীদের চাহিদা ও কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম রেঞ্জে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক-২১৪

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন ১১ জেলায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনভর পরিচালিত এ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিশোর গ্যাংবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রেঞ্জ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ৫৭ জন, কক্সবাজারে ৪৪ জন, কুমিল্লায় ৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪ জন, চাঁদপুরে ১৮ জন, নোয়াখালীতে ৬৮ জন, ফেনীতে ৪ জন, লক্ষ্মীপুরে ২ জন এবং রাঙ্গামাটিতে ৪ জন রয়েছেন। আটক ২১৪ জনের মধ্যে ১৮৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবক বা স্বজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড়ের ফুটপাত দখলমুক্ত করল চসিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অভিযানে ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের সতর্ক করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নগরের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন মেয়র নিজেই। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা কিংবা পণ্যসামগ্রী রেখে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে চসিকের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত জায়গার বাইরে মালামাল না রাখা এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা না করার আহ্বান জানান। নগরের সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানান মেয়র।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে : মেয়র শাহাদাত ছবি-৫ চট্টগ্রাম ব্যুরো: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘী এলাকায় বিশেষ মশকনিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় লালদিঘী ও আশপাশের এলাকায় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা নিধন, মশকনিধন ওষুধ প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মসূচি পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে। মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিক নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের মাঠকর্মীদের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। নগরবাসী নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করুন। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে

সর্বশেষ