বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ইপিজেডের ৫০১টি শিল্প প্লট

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাহিদার সমান বিদ্যুৎ পেয়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৫০১টি শিল্প প্লটে। স্বস্তি ফিরেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ে ইপিজেডের নিজস্ব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে পিডিবি থেকে পাওয়া ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো যাচ্ছিল না চাহিদার অর্ধেকও। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল কারখানাগুলোতে। গত শনিবার থেকে ইপিজেডের চাহিদা অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মসংস্থান প্রায় দুই লাখ মানুষের। এখানে আছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০১টি শিল্প প্লট। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও ভারতের বিনিয়োগকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।বছরে প্রায় ২৩৭ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় ইপিজেড থেকে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শনিবার থেকে সব শিল্প প্লট চাহিদা অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে। পুরো বিদ্যুৎই পিডিবি সরবরাহ করছে। এতে স্বাভাবিক হয়েছে উৎপাদন।

জানা গেছে, ইপিজেডের কারখানাগুলো পুরোদমে চালাতে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে বেসরকারি ইউনাইটেড গ্রুপের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। গ্যাস সংকটের কারণে ওই কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় ইপিজেড কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিডিবি ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। বাকি ৩৫ মেগাওয়াট না পাওয়ায় ৫০১টি শিল্প প্লটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিনিয়োগকারীরা সাপ্তাহিক ছুটি পরিবর্তন, কর্মঘণ্টা কমানো, ওভারটাইম বন্ধ এবং ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারের মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

পিডিবি দক্ষিণ জোনের প্রধান কামাল উদ্দিন বললেন, চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুত দেয়ার সক্ষমতা আমার ছিল না। এরপরও আমি দেশের স্বার্থে বিকল্প চেষ্টা করেছি। সফলও হয়েছি। দেশের অগ্রাধিকার এই খাতে বিদ্যুত দিতে পেরে আমারও ভালো লাগছে।হেমপেল রি ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উৎপাদন স্বাভাবিক করতে কারখানাগুলো পুরোদমে কাজে নেমেছে। এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

লাইসেন্সবিহীন ডিপটিউবওয়েল বন্ধে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে পুরোদমে মাঠে কাজ করছে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে গঠন করা আটটি মনিটরিং টিম। চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে এ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। সকল মনিটরিং টিমের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে আছেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ)।

চট্টগ্রাম ওয়াসার হিসাবমতে সরকারী দপ্তরে বকেয়ার পরিমাণ ৭১ কোটি ৫২লক্ষ আর সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বকেয়া পরিমাণ ১৮৭ কোটি ৪৩লক্ষ। বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে পানির উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও অন্যান্য খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ বিশাল অংকের বকেয়া আদায়ে প্রতি কর্মদিবসে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে বকেয়াধারী গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে।

জানা গেছে, বকেয়া বিল আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, জরিমানা ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ চিহ্নিত করে বন্ধ বা জরিমানা দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণপূর্বক বৈধ করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।। এ কার্যক্রমের আওতায় গত ১৬ আগষ্ট বিমানবন্দর রোডে বন্দরটিলা এলাকায় একজন গ্রাহকের ৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। মোঃ জসিম উদ্দিন নামের এই গ্রাহকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পানি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এই গ্রাহকের ৩টি সংযোগের বিপরীতে বকেয়া পরিমাণ ১৫লক্ষ টাকা।বকেয়া আদায়ে জনসচেতনা : চট্টগ্রাম ওয়াসা বকেয়া আদায়ে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করার লক্ষ্যে জুলাই মাস হতে মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করে আসছে।

বকেয়া আদায়ে পদক্ষেপ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ :বকেয়া আদায়ে ৫০ হাজার টাকার উর্দ্ধে বকেয়াধারী গ্রাহকদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার মনিটরিং টিম। গ্রাহকের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া টাকা আদায় করার চেষ্টা করা হয়। গ্রাহক বকেয়া দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন করার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সরকারী রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে।

অবৈধ সংযোগ বৈধকরণ :চট্টগ্রাম ওয়াসার অনুমতিবিহীন অবৈধভাবে সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা করার কার্যক্রম কঠোরভাবে হাতে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ গ্রাহকদের কারণে সিস্টেম লস দিন দিন বৃদ্ধি পায়। চট্টগ্রাম ওয়াসার আইন অনুযায়ী অবৈধ গ্রাহকদের জরিমানা প্রদানপূর্বক বৈধ গ্রাহক হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে সংস্থার রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং সিস্টেম লস কমে আসবে।
লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ বন্ধ ও জরিমানা :চট্টগ্রাম ওয়াসার অনুমতিবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীগণের বিরুদ্ধে নলকূপ বন্ধসহ জরিমানার কার্যক্রম কঠোরভাবে হাতে নেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের চট্টগ্রাম ওয়াসার আইন অনুযায়ী জরিমানা করে লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে সংস্থার রাজস্ব আদায় বাড়বে।

এবিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বদ্ধ পরিকর। এজন্য ডিএমডি(অর্থ) এর তদারকিতে আটটি মনিটরিং টিম জোরালেভাবে কাজ করছে। বকেয়া গ্রাহকগণের কাছে আমার অনুরোধ হলো এটি সরকারের রাজস্ব তাই মওকুপ করার সুযোগ নাই। সকল বকেয়া গ্রাহকগণ বিল পরিশোধ করে ওয়াসার সেবা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধিতে সহায়তা করার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। আর অবৈধ সংযোগ ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বৈধ গ্রাহক এবং নলকূপের লাইসেন্স করার জন্য অনুরোধ করছি।

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চউক’র ‘এক নগর দুই শহর’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একটি আধুনিক শিল্প ও আবাসিক হাব বা মেগাসিটি গড়ে তুলতে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনস’ বা ‘এক নগর দুই শহর’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় ৭ হাজার ৩১৫ একর জমির ওপর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে রূপরেখাও দিয়েছে চউক। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হারিয়ে যাবে ১ হাজার ৭৮২ একর কৃষিজমি।

কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের আনোয়ারার ২৩ হাজার ৯৬৭টি কৃষি পরিবারের মধ্যে ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। সংখ্যায় যারা ২৩ হাজার ৭৭৬ জন। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে এই বিশালসংখ্যক ক্ষুদ্র চাষি তাদের একমাত্র জীবিকা হারাবেন। বর্তমানে ওই উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৩৩ জন মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। জমি হারানোর ফলে এই বিশাল শ্রমশক্তি পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমদ সরকার বললেন, উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি তিন ফসলি। ধানের পাশাপাশি এখানে সবজিরও ব্যাপক আবাদ হয়। এমনিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে লোকজন কৃষিজমি কিনে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছেন। এতে কৃষিজমি কমছে। নতুন শহর বাস্তবায়ন করা হলে কৃষিজমি আরও কমে আসবে।

এদিকে কৃষিজমি হ্রাস ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিকল্পনার প্রকল্প পরিচালক এবং চউক’র উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বললেন, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন হচ্ছে। যার কারণে কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাস্টারপ্ল্যানে ২ হাজার ৩৮৮ একর কৃষিজমি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকা ও কলকারখানা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

চউক’র দেয়া ‘আনোয়ারা অ্যাকশন এরিয়াপ্ল্যান (২০২৫-৫০)’-এর খসড়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষিজমির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে যাচ্ছে বৈরাগ ইউনিয়নে। সেখানে বিদ্যমান ৪৯৪ একর কৃষিজমির ৯৮ শতাংশই শিল্প ও সাধারণ নগর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সেখানে আবাদি জমি অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ৯ একর। এ ছাড়া শিল্পায়ন ও নগরায়ণের চাপে চাতরী ইউনিয়নে ৫৪৬ একর এবং বারখাইন ইউনিয়নে ৩৪৮ একর কৃষিজমি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।বর্তমানে এখানকার মোট জমির ৫৭ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে কৃষি ও মৎস্য খাতে এবং ৯ শতাংশ জলাশয়। এর পাশাপাশি আবাসিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ২৭ এবং শিল্প খাতে আড়াই শতাংশ।

জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলা চট্টগ্রামের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। কৃষিজমি কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে ধান, ডাল, শাকসবজি ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনের ওপর। সর্বশেষ কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে ধান। বর্তমানে উপজেলায় ১১ হাজার ১৯৬ একরে আমন এবং ৯ হাজার ৬৪ একরে বোরো ধানের চাষ হয়। আবাদি জমি কমলে এই উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এরপরই রয়েছে শাকসবজি। আনোয়ারার জনপ্রিয় বেগুন (১৩৯ দশমিক ৬৭ একর), টমেটো (১১৬ দশমিক ৭ একর) এবং আলু (১১৮ দশমিক ৫৮ একর) চাষের এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হবে। এ অঞ্চলে প্রায় ৪০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়। এ ছাড়া ফেলন ডাল (১২৬ দশমিক ৬১ একর) উৎপাদনের এলাকাটিও নগর উন্নয়নের আওতায় পড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০৫০ সাল নাগাদ আনোয়ারায় জনসংখ্যা ৭ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন পরিকল্পনায় ৭৭৪ দশমিক ৪ একর জমি নিয়ে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং শিল্প খাতে ৫৫০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই শিল্প জোনে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হয়েছে। নগরায়ণের এই বিপুল চাপ সামলাতে আনোয়ারায় ৪৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার নতুন ও উন্নত সড়কের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারা-পটিয়া সড়ককে ১৬০ ফুট প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার যানবাহন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাক টার্মিনাল, একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল, সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি উচ্চবিদ্যালয় এবং ৯টি ক্লিনিক স্থাপনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আনোয়ারা এলাকাটি ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমি বন্যার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে প্রাকৃতিক জলাধার (বর্তমানে যা ৯ শতাংশ) ও খোলা জায়গা কমে যাবে, যার ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করবে। জলাবদ্ধতা রোধে ১১৪ দশমিক ২৩ কিলোমিটার নতুন সেকেন্ডারি ড্রেন এবং ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার নতুন খালের অ্যালাইনমেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে পার্কি খাল, খুরুশকুল, দক্ষিণ বারুনিছড়া, ইছাখালী এবং মুরাই খালে সাতটি রেগুলেটর স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে পার্কি খালের মুখে একটি বড় রেগুলেটর নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পলি জমা রোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চারটি সিল্ট ট্র্যাপ বসানো হবে। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশদূষণ রোধে ‘ইকো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনিং’ এবং নদীর তীরে বনায়ন বা গ্রিন বেল্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কৃষিজমি ধ্বংস করে এমন মেগাসিটি নির্মাণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল বলেন, তিন ফসলি জমিতে শহর গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয় নয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে অংশীজনের মতামত নেওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। নয়তো এটি পরিবেশের ওপর যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। তিনি কৃষিজমি বাদ দিয়ে নদীর পাড়কে ঘিরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ