ক্যানসার চিকিৎসায় এমআরএনএ ভ্যাকসিন আবিস্কার, সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ডেস্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এমআরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানসার চিকিৎসায় সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে । যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও ওষুধ প্রস্তুতকারক মার্কের যৌথভাবে তৈরি এই ভ্যাকসিন মেলানোমা চিকিৎসায় চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে।মার্কের বহুল ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপি কিট্রুডার সঙ্গে নতুন ভ্যাকসিনটি ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর মেলানোমা ফিরে আসা কিংবা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে এই যৌথ চিকিৎসা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণ সংক্রামক রোগের ভ্যাকসিনের মতো এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি নয়। রোগীর টিউমার অপসারণের পর সেটির জেনেটিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর ওই নির্দিষ্ট টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা রোগীর রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সহায়তা করে।চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় উচ্চ ঝুঁকির স্টেজ-২বি থেকে স্টেজ-৪ পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৭ জন মেলানোমা রোগী অংশ নেন। তাদের একদলকে শুধু কিট্রুডা এবং অন্যদলকে কিট্রুডার সঙ্গে নতুন এমআরএনএ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, কিট্রুডার সঙ্গে ভ্যাকসিন ব্যবহারে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা এবং শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাটিতে নতুন কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও পাওয়া যায়নি।এর আগে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, শুধু কিট্রুডা ব্যবহারের তুলনায় ভ্যাকসিনসহ যৌথ চিকিৎসায় ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৯ শতাংশ কমতে পারে।

পার্কার ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার ইমিউনোথেরাপির প্রধান নির্বাহী কারেন কনুডসেনের মতে, এই সাফল্য ক্যানসার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।মডার্নার প্রেসিডেন্ট স্টিফেন হোগ জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনটির অনুমোদনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রেকথ্রু থেরাপি হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ায় অনুমোদন মিললে আগামী বছরের শুরুতেই এটি রোগীদের জন্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে রোগীদের বেঁচে থাকার হার এবং চিকিৎসাটির পূর্ণ কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।মেলানোমা ত্বকের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ক্যানসারগুলোর একটি। এই গবেষণার সাফল্য ভবিষ্যতে ফুসফুস, স্তন ও অগ্ন্যাশয়ের মতো অন্যান্য ক্যানসারের জন্যও রোগীভিত্তিক ভ্যাকসিন তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল মোড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চসিকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। মেয়র বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন মূল লক্ষ্য। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাসের কর্মসূচি সফল করতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।

বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করে মেয়র বলেন, এ মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত স্থান এবং আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলার আগে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান জানতে হবে। ঢালাওভাবে তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের হাসপাতালগুলোতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব ডেঙ্গুরোগীকে সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোন এলাকায় কতজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চসিকের পক্ষ থেকে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা রয়েছে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কোথাও পানি জমতে দেবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করল চবি ছাত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহুয়া তাসনিম দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ২টায় শিক্ষার্থী মহুয়ার মৃত্যুর বিষয়টি সহপাঠীদের নিশ্চিত করেছেন তার বোন। মহুয়ার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে। তারা ঢাকার সাভার উপজেলায় থাকতেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার আগে থেকেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এই শিক্ষার্থী। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফিল হোসেন মানিক বলেন, মহুয়া গত আগস্টের ১৪ তারিখ আমাকে ভয়েস ম্যাসেজ পাঠিয়ে বলেছিল, ভাইয়া, সাভার এনাম মেডিক্যালে জরুরি ঙ+ রক্ত লাগবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য রক্ত লাগবে? তখন বলল, ‘ভাইয়া, আমার জন্যই। আমার রক্তের প্লাটিলেট অনেক কমে গেছে, তাই প্লাটিলেট দেওয়া প্রয়োজন।

এরপর রক্তের ব্যবস্থা করার জন্য প্রায়-৭৮ জনকে নেওয়া হলেও কারও সাথেই গ্রুপের মিল ছিল না। পরে একজনের সাথে মিল পাওয়া গেলে ওই রাতেই তাকে প্ল্যাটিলেট দেওয়া হয়’।
তিনি আরও বলেন, ‘লিউকেমিয়ার চিকিৎসা চলছিল ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে। কিছুদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে মাত্র একদিনের জন্য বাড়ি ফিরেছিল। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার কথা ছিল তার’।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ