ভেড়ামারায় পদ্মার ভাঙনে ৯৫০ বিঘা জমি বিলীন

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা এলাকায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। গত বছর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ভাঙনে প্রায় ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশানঘাটও নদীতে হারিয়ে গেছে।

এ ছাড়া শত শত পানচাষির প্রায় ৫ হাজার পলি পানবরজ এবং প্রায় ১০০ বিঘা কলাবাগান নদীতে বিলীন হয়েছে। দুই বছর ধরে ভাঙন চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। ভাঙনের ফলে কৃষিজমি ও পানচাষ হারিয়ে জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও পানচাষিরা।

কৃষক গিরি দাস বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের প্রাচীন শ্মশানঘাট ছিল। সেটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ভূমিকা নেয়নি। পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন সেখানে ৫০ ফুট পানি।

পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম উদ্দিন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলার সবচেয়ে বেশি পানচাষ হয় এই অঞ্চলে। দেশের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার মূলত এখানকার পানের ওপর নির্ভরশীল। এ পর্যন্ত কয়েক শ পানচাষি প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে অন্তত ৫ হাজার পলি পানবরজ হারিয়েছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ভাঙন দুই মাস আগেই শুরু হয়েছে। পানি বৃদ্ধিতে কয়েক দিনে ভাঙনটা বেশি হচ্ছে। এখানকার ভাঙনের চাহিদা দিয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সেটি পাস হয়ে বাজেট না আসা পর্যন্ত কিছুই করতে পারব না।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জোর তাগিদ দিয়েছি। আমি নিজেও পরিদর্শনে যাব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, চাটখিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভাঙচুর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।

নিহতের স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রিমির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।

চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালীতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের মতো ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তৃতীয় কোন পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চাটখিল ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার আগে নিহত শিশুর স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর চালিয়েছেন।

বেতন-ভাতা বন্ধ ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান সর্বাত্মক শাটডাউনের ১৫তম দিনেও অচল হয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা টানা দুই সপ্তাহ ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো নগরীর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

একই সাথে দীর্ঘ এ অচলাবস্থার কারণে চুয়েটে কর্মরত ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে।
​গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং চলমান সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
​

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করা হলেও ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে কোনো কারণ দর্শানো হয়নি। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং এ ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্যই তাদের এই আন্দোলন।
​শিক্ষার্থীরা আরও জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই চুয়েটে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি চলছে।

আন্দোলনকালে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদান, মশাল মিছিল, পথনাট্য ও চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও জরুরি মানবিক সেবা কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানান, উপাচার্যকে পুনর্বহালের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন অব্যাহত থাকবে।
​

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতি পালন করছে। প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও সকাল ১০টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।

​দীর্ঘ এ অচলাবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মাসের ছয় দিন পার হলেও ১ হাজার ৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা এবং আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসব ভাতা পরিশোধ হয়নি। চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য জানান, প্রতি মাসের শেষ কর্মদিবসে বেতন হলেও এবার ষষ্ঠ দিন পার হলেও তা মেনি না পাওয়ায় সংসার পরিচালনা, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং পূজার কেনাকাটায় শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ