এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান সর্বাত্মক শাটডাউনের ১৫তম দিনেও অচল হয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা টানা দুই সপ্তাহ ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো নগরীর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
একই সাথে দীর্ঘ এ অচলাবস্থার কারণে চুয়েটে কর্মরত ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং চলমান সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করা হলেও ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে কোনো কারণ দর্শানো হয়নি। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং এ ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্যই তাদের এই আন্দোলন।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই চুয়েটে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি চলছে।
আন্দোলনকালে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদান, মশাল মিছিল, পথনাট্য ও চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও জরুরি মানবিক সেবা কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানান, উপাচার্যকে পুনর্বহালের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতি পালন করছে। প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও সকাল ১০টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।
দীর্ঘ এ অচলাবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মাসের ছয় দিন পার হলেও ১ হাজার ৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা এবং আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসব ভাতা পরিশোধ হয়নি। চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য জানান, প্রতি মাসের শেষ কর্মদিবসে বেতন হলেও এবার ষষ্ঠ দিন পার হলেও তা মেনি না পাওয়ায় সংসার পরিচালনা, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং পূজার কেনাকাটায় শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।














