পাঁচলাইশে দিনে দুপুরে বাসায় ডাকাতি, নগদ টাকা-স্বর্ণলংকার লুট

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশে একটি বাড়িতে দিনে দুপুরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) জুমার নামাজের সময় পাঁচলাইশ থানাধীন ৭ নং ওয়ার্ডের হাদু মাঝি পাড়া এলাকার ছাবের মাষ্টারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ১০/১২ জনের একটি ডাকাত দল নুরুল কবিরের বাড়ির কয়েকটি সিসি ক্যামরা ভাংচুর করে এই লুটপাট চালায়। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণলংকার, ল্যাপটপসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ভুক্তভোগী নুরুল কবির জানান, দুপুরে জুমার নামাজের সময় বাড়িতে না থাকার সুযোগে ডাকাতি করে আমার দায়ের করা দুইটি মামলার আসামীরা।তিনি বলেন, নামাজে থাকাকালীন আমার মোবাইল বন্ধ ছিল। পরে বাড়ি এসে দেখি ঘরের দরজা খোলা, আমার স্ত্রী রুনা আক্তার রুপাকে মারধর করে বাথরুমের ভিতরে ডুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর ডাকাতরা পুরো ঘরের জিনিষিপত্র তসনস করে ব্যবসার ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, আলমারিতে রক্ষিত প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণরংকার, একটি ল্যাপটপসহ মূলব্যান সামগ্রী নিয়ে আমাকে পথে বসিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। আমার স্ত্রী কয়েকজনকে চিনে ফেলেছে। আমি পশ্চিম ষোলশহর ৭ নং ওয়ার্ডের হাদু মাঝির পাড়ার মো. ইউনুছের পুত্র ইলিয়াছ হোসেন অপু, ফয়সাল, করি হোসেনের পুত্র মোঃ আনোয়ার, জহির আহমদের পুত্র ইমরানসহ আরো নাম না জানা অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় মামলা করবো।

এর আগে ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের নিকট দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে চলতি বছরের গত ১ জুন রাতে নূরুল কবিরকে তুলে নিয়ে স্থানীয় সোহেলের গ্যারেজে আটকে রেখে মারধর এবং মোটরসাইকেল ভাংচুর করে নগদ ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চাঁদা না পেলে পুনরায় অপহরণের হুমকি দেয়। উক্ত ঘটনার পরদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে সোহেল তার দলবল নিয়ে এসে নূরুল কবিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে। উক্ত ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। ৬/৬/২০২৬ইং তারিখের দায়েরকৃত মামলা নং ৪ এবং ২৭ জুন দায়েরকৃত মামলা নং ২৩। উভয় মামলায় সোহেলকে ৪ নং আসামি করা হয়। পরে ৩টি মামলায় সোহেলকে পুলিশ গ্রেফতার।

জানা গেছে, পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়ার নাছিরের ছেলে জয়নাল আবেদীন সোহেল যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। এলাকায় কেউ বাড়ীঘর নির্মাণ করলে তাকে বাধ্য করে বাড়তি টাকায় ইট-বালি সাপ্লাই দিতেন, অন্যথায় মোটা অংকের চাঁদা আদায় করতেন। মাদক-জুয়ার আসর পরিচালনা করে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের মূলহোতা এই সোহেল নিয়ন্ত্রণ করেন একটি কিশোর গ্যাং। এই গ্যাং দিয়ে চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শুল্ক ফাঁকি দিতে আস্ত গাড়ি কেটে আনা হয় কয়েক টুকরোয়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শুল্ক ফাঁকি দিতে গাড়ির কয়েকটি বড় অংশে কেটে সেটিকে দেখানো হচ্ছে ‘ইউজড কার পার্টস’। সেই অংশগুলো বন্দর থেকে ছাড় করে নিয়ে জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পুরো গাড়ি। নিজেদের শো রুমে নিয়ে বেশি শুল্কে বিক্রি করছে। মোংলা বন্দর দিয়ে এমন অভিনব কৌশলে, বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির তথ্য উদঘাটনের পর চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ থেকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নগরের জামালখান ওয়ার্ডের রহমতগঞ্জের সাত্তার মঞ্জিলের (বিটিআই ভবন) পার্কিং থেকে গাড়িটি আটক করা হয়। যা চট্টগ্রাম বিআরটিএর চট্ট মেট্রো-গ-১১-৩৬৫১ নম্বরে চলাচল করতো। ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটির আনুমানিক মূল্য আড়াই কোটি থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। তিনি জানান, মোংলা বন্দর দিয়ে ‘ইউজড কার পার্টস’ ঘোষণা দিয়ে সম্পূর্ণ বিলাসবহুল গাড়ি তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে ‘

সেমি নকড ডাউন’ (এসকেডি) অবস্থায় আমদানির একটি কৌশল শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ কৌশলের মাধ্যমে প্রকৃত আমদানি পণ্য আড়াল করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল। সেখানকার পার্কিং থেকে বিএমডব্লিউ গাড়িটি শনাক্ত করে আটক করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গাড়িটির বর্তমান মালিক মোহাম্মদ আইয়ুবের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। পরে তার স্ত্রী সুলতানা ফারহানা জাহানের কাছে গাড়ি কেনা ও আমদানিসংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান কর্মকর্তারা। তবে তিনি কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ সময় গাড়িটির চাবিও চাওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানান রেজভী আহম্মেদ। পরে গাড়ি আমদানির বৈধ দলিল, ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে না পারায় গাড়িটি আটক করা হয়।

সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, ভিন্ন পদ্ধতিতে চোরাচালান কিংবা দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে বিএমডব্লিউ গাড়িটি দেশে আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পাবনার চাটমোহরে তৈল- জেলিতে তৈরি নকল দুধ; ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদন্ড সহ কারাদন্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ দেখতে সাদা,নাম দুধ-কিন্তু তৈরির উপকরণে নেই কোন খাঁটি দুধের স্বাভাবিক কোন উপাদান। ভোজ্য তেল,কস্টিক সোডা, চিনি, জেলি ও বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হয় কথিত সাদা দুধ।এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনা জেলার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ লিটার ভেজাল সাদা দুধ জব্দ করেছে চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন।

এ ঘটনায় সুমন ঘোষ (৪১) নামে এক ব্যক্তি কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।বুধবার ২৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাটমোহর পৌর সদরের মধ্যশালিখার গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন ঘোষ একই গ্রামের অমল চন্দ্র ঘোষের ছেলে।চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি বাড়িতে গোপনে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন।

রাতের অভিযানে সংশ্লিষ্ট বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত সাদা দুধ পাওয়া যায়।সেখানে প্রায় ৩০০ লিটার ভেজাল দুধ মজুত ছিল। শুধু দুধই নয়, তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয় দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ। এর মধ্যে ছিল জেলি, ভোজ্য তেল, চিনি, কস্টিক সোডা সহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য।

শুধু দুধই নয়, তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয় দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকম উপকরণ। এর মধ্যে ছিল জেলি, ভোজ্য তেল, চিনি, কস্টিক সোডা সহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য।উদ্ধার হওয়া উপকরণ ও প্রস্তুতকৃত দুধের নমুনা দেখে উপস্থিত কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে দুধের মতো সাদা তরল তৈরি করা হয়েছে। পরে তা বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলেই চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালত টি পরিচালনা করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সুমন ঘোষ কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।অভিযানে চাটমোহর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং চাটমোহর থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারে দুধের চাহিদাকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে ভেজাল পণ্য তৈরি ও বিক্রির চেষ্টা করছে। তাই এ ধরনের কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোন ধরনের প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ