চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হবে বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এটি চালু হলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যুক্ত হবে বন্দরে। রোববার (৩০ আগস্ট) পতেঙ্গার কর্ণফুলী নদীর তীরে এই টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। লালদিয়া টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এত বড় বিদেশি বিনিয়োগে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার ভাটিতে গুপ্তা বাঁকের পরবর্তী এলাকায় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর। এর মধ্যে ৩২ একর জায়গায় মূল টার্মিনাল, প্রায় ৭ দশমিক ১৫ একর জায়গায় কনটেইনার ইয়ার্ড এবং প্রায় ১০ একর জায়গার একটি অংশে ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা থাকবে। প্রস্তাবিত টার্মিনালে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হবে। নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য থাকবে সাতটি জাহাজ থেকে তীরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ক্রেন এবং ইয়ার্ডে থাকবে ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার-চাকা ক্রেন। টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টিইইউ।

জানা গেছে, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা এক দশকেরও বেশি সময়ের পুরোনো। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাস্তব জটিলতায় তা দীর্ঘদিন বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারেনি। লালদিয়া চরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জমি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে

ডেনমার্কভিত্তিক মারস্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ২০২৩ সালের ২১ মে লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব দেয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি যৌথ প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় এবং এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ চুক্তির কার্যকারিতা শুরু হয়। এরপর চুক্তিতে নির্ধারিত পূর্বশর্তগুলো পূরণ করে ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এপিএম টার্মিনালসের কাছে প্রকল্পের সাইট হস্তান্তর করে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতার জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এর চেয়ে বড় জাহাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পণ্য ছোট জাহাজে করে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ আঞ্চলিক বন্দরে নিয়ে গিয়ে সেখানে বড় জাহাজে তুলে দিতে হয়। এতে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হয়। এপিএম টার্মিনালসের হিসাবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়তি সময় যুক্ত হতে পারে।

লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজের সরাসরি সংযোগের কারণে এই বাড়তি ধাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় হতে পারে। তৈরি পোশাকের মতো সময়নির্ভর রপ্তানি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

বন্দর সূত্রে আরো জানা গেছে, পিপিপির আওতায় বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি ও বন্দরের মালিকানা ধরে রাখবে। আর এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তির মধ্যে প্রথম তিন বছর নির্মাণপর্ব এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার মেয়াদ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে টার্মিনাল হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। এপিএম টার্মিনালস চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করলে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) ও বন্দর বিশেষজ্ঞ মো. জাফর আলম বলেন, সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে, কোনো রকম বিনিয়োগ ছাড়া আমরা একটি বড় অবকাঠামো পাচ্ছি। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। তবে যথাসময়ে শেষ করাটা একটা চ্যালেঞ্জ।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের নকশায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কনটেইনার ওঠানো-নামানো ও ইয়ার্ড পরিচালনায় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থাও থাকবে। ভবিষ্যতে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগী অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।ইয়ার্ডের ক্রেনগুলো প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যেই এসব প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে।
তারা বলেন, নির্মাণপর্বে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। টার্মিনাল চালুর পর সরাসরি কয়েকশ মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পণ্য খালাস, জাহাজসেবা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে। ফলে স্থানীয় কর্মীদের নতুন ধরনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হবে।

ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের সুফল পুরোপুরি পেতে শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। বড় জাহাজ চলাচলের জন্য কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থা সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়লেও বন্দর থেকে পণ্য দ্রুত বের করে নেওয়ার ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থায় নতুন করে জট তৈরি হতে পারে।

কাস্টমস, পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থার গতি বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোর সরাসরি সেবা নিশ্চিত করাও বড় বিষয়। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা ও নির্ভরযোগ্য নেভিগেশন নিশ্চিত করা গেলে বড় জাহাজের নিয়মিত সরাসরি আগমন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বোয়ালখালী থানা পুলিশের অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ নুরুল আলমসহ পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— বোয়ালখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁন্দারপাড়ার বাসিন্দা মো. হোসেন (২৪), পোপাদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমন (১৯) এবং একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান ওরফে ফোরকান (৫৫)।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মো. হোসেন বোয়ালখালী পৌর যুবলীগের নেতা, ইমন পোপাদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সেক্রেটারি এবং আব্দুস সোবহান ওরফে ফোরকান বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত।

তাঁদের মধ্যে মো. হোসেন বোয়ালখালী থানার মামলা নম্বর ০৭-এর এজাহারনামীয় আসামি। মামলাটি ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(১), ৬(২), ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। অপর দুজনকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।আইনগত ব্যবস্থা: গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন।

বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে: সাংসদ নুরুল আমিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিরসরাই উপজেলাধীন পাঁচটি বৌদ্ধ গ্রামের বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি এবং সাধারণ বৌদ্ধ জনগণের সাথে সাথে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অদ্য ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলেলে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। ভিক্ষু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্রীমৎ প্রিয়ানন্দ মহাথেরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পুষ্পেন্দু বড়ুয়া।

অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম বিজয় বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব পুলক কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেলের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. বিপ্লব কুমার বড়ুয়া, দমদমা নবাবপুর ধর্মকীর্তি বৌদ্ধ বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ বিশ্বনাগরিক ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরো এবং শাষন বংশ মহাথরসহ প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রামে বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীরা উনার নির্দেশে অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি মিরসরাই উপজেলার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে তিন লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরিশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ