এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। গেল সপ্তাহের তুলনায় দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালাতে দেখা দিয়েছে বাড়তি চাপ।

শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গুড়ার স্থানীয় কাঁচা ও মাছ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে প্রতি কেজি পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা এবং বরবটি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি লাউ ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, পাকা মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকা ও কাকরোল ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কচুর লতি ৫০ টাকা, শিম ২০০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে।
মাছের বাজারেও বাড়তি চাপ, সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। আকার ও মানভেদে রুই-কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। গুঁড়া মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, ছোট পাঙ্গাস ২০০ টাকা, বড় পাঙ্গাস ২৫০ টাকা এবং চাষের কই ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাবদা মাছ ৩৫০-৩৮০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৫৫০-৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।

তবে ছোট ইলিশ, চিংড়ি, বাইম, দেশি কই কিংবা নদীর বেলে মাছের মতো চাহিদাসম্পন্ন মাছ কিনতে গেলে কেজি প্রতি ১ হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বাজারে চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।
মাছের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এক বিক্রেতা বলেন, চাষের মাছ উৎপাদনে মাছের খাদ্যের প্রয়োজন হয়। আগের তুলনায় খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ উৎপাদন ও বাজার জাতকরণে খরচ বেড়েছে। ফলে মাছের দামও বেড়েছে। ওই বিক্রেতা আরও বলেন, নদীমাতৃক দেশ হওয়া সত্ত্বেও নদী থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে চাহিদাসম্পন্ন দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। নদীতে অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল ব্যবহারের কারণে পোনা মাছ থেকে শুরু করে বড় মাছ পর্যন্ত ধরা পড়ছে। বিশেষ করে মাছের প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ধরা পড়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তাঁর দাবি,ভাঙ্গুড়া সহ সারা দেশে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে জেল-জরিমানা করতে হবে। এতে দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বাজারে মাছের সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে।
ডিম-মুরগি ও মাংসের দামও চড়া, মাছের পাশাপাশি ডিম, মুরগি ও গরুর মাংসের দামও রয়েছে চড়া। বাজারে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, কক মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে।
পরিবহন ব্যয় ও বৃষ্টিকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা,
বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে সবজি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। তবে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উৎপাদন, সংগ্রহ ও পরিবহনে বাড়তি খরচ হচ্ছে।এসব কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
ভাঙ্গুড়ার এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে সবজি আনতে আগের তুলনায় পরিবহন খরচ বেশি পড়ছে। সেই বাড়তি খরচ যোগ করেই আমাদের পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।”
ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ
বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।
ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, “প্রতিদিন বাজারে এসে দেখা যায় কোনো না কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে। আয় বাড়ছে না, কিন্তু বাজার খরচ ক্রমেই বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে সংসারের ব্যয় সামলানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।”
ক্রেতাদের কেউ কেউ নতুন পে-স্কেল ঘোষণার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন।
তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং পাইকারি বাজারের দামের ওঠানামা সহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করছে।
সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করবে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।










