সর্বশেষ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকতে পারছেন না নতুন ভিসি

চুয়েট প্রতিনিধি

অপেক্ষা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনদিন ধরে চট্টগ্রামে অবস্থান করেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্যের দায়িত্বও নিতে পারছেন না। অধ্যাপক শরীফুল বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবারও (২৪ সেপ্টেম্বর) চুয়েটে চলছে সর্বাত্মক শাটডাউন। ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ আছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমও চলছে না। তবে শিক্ষকরা বলছেন, তারা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করেননি। শিক্ষার্থীরা না আসায় ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না।

সকালে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানববন্ধন করেছেন চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সরকারের প্রতি দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাস সচল করার অনুরোধ করে খোলা চিঠিতে শান্তির বার্তা লিখে পায়রা উড়িয়ে দেন। দুপুরে সংবাদ সম্মেলন থেকে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত না হয়ে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন চালিয়ে যাবার আহ্বান জানানো হয়।

সকালে চুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও মিছিল নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে সংহতি জানানো হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পরিবর্তে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক সায়েমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা থেকে চট্টগ্রামে আসেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার সঙ্গে কথা হয় মোবাইল ফোনে।

তিনি বললেন, আমি ইচ্ছে করলে যে কোনোভাবে জয়েন করতে পারি। কিন্তু জয়েন করাটা তো বড় বিষয় না। আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি দেখছে। তারা আন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আমি অবশ্যই যাব। সিনিয়র শিক্ষক, ডিনদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দিয়ে অধ্যাপক শরীফুল বললেন, শিক্ষক সমিতিতে সিনিয়র যারা আছেন তারা কেউ এ আন্দোলনের সঙ্গে একমত নন। জুনিয়র কিছু টিচার করছে। আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। ইলেকট্রিক্যালের ডিন অধ্যাপক দোলন, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক আবু কাউছারের সঙ্গে কথা বলেছি। ক্লাস-পরীক্ষা যেন বন্ধ না থাকে সেটা বলেছি। কারণ এটার জবাবদিহি কিন্তু পরে শিক্ষকদেরই করতে হবে। নিরাপত্তা শাখাকে বলেছি ক্যাম্পাস যেন অনিরাপদ না থাকে।

আন্দোলন করার অধিকার তাদের আছে। তবে নেগোসিয়েশনের পথ খোলা না রেখে আন্দোলন কাম্য নয়। আমি কুয়েটের টিচার। এজন্য চুয়েটে আমার নিয়োগ তো অবৈধ হতে পারে না। চুয়েট দেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। আমি নিজেও চুয়েটের ছাত্র। সরকার আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই নিয়োগ দিয়েছে। আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক শরীফুল, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটা খতিয়ে দেখছে।’

যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বললেন, উনি (শরীফুল) আমার স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। তবে আমি এখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে একটি ফোরামের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি ফোরামের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না।
চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বললেন, উনি (শরীফুল) আমাকে কল করেছিলেন। ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আমরা কী করতে পারি ! আমরা তো এটা বন্ধ করিনি। ছাত্রছাত্রীরা যদি ক্লাসে না আসে আমরা কী করতে পারি! আলোচনার একটা পথ তৈরি করতে হবে। সেটা তো আমি পারব না। যারা দায়িত্বে আছেন তারা পারবেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বললেন, আমাদের ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল। তবে অনিরাপদ নয়। হোস্টেলগুলোর কার্যক্রম ঠিকঠাকভাবে চলছে। আমরা শিক্ষকরা তো ক্লাসে যাচ্ছি। দুপুরেও পরীক্ষার হলে শিক্ষকরা গেছেন। কিন্তু স্টুডেন্টরা বলছেন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

​চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন অচল ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীবৃন্দের মানববন্ধন, মশাল মিছিল ও প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানববন্ধন, খোলা চিঠি পাঠ, সংবাদ সম্মেলন, গণস্বাক্ষর ও মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
​নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখেন তারা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

​অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে দৈনিক ইত্তেফাককে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে তিনি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি নতুন উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। দাবি পূরণে আগামী রবিবার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে এক বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাস।পরে বাস্কেটবল মাঠে ‘৫৬’ আকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের আলোজ্জ্বল ৫৬ দিনের কর্মদিবসকে তারা এভাবে স্মরণ করেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
​মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত উপাচার্যের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এবং অধ্যাপক ড. সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও দাবি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি পাঠ করেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস আরিয়ান। পরে সন্ধ্যায় খোলা চিঠিটি প্রধান ফটকের সামনে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
​
ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় ‘ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’, ‘গর্জে উঠুক রাজপথ, সায়েম স্যারের প্রত্যাবর্তন হোক’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ নানা প্রকম্পিত স্লোগান দেন তারা। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল দাবিসংবলিত নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড।মানববন্ধনে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দেবজিত দাশ গুপ্ত বলেন, সায়েম স্যার একজন বহুমুখী গুণসম্পন্ন মানুষ। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন শিক্ষক ও উপাচার্য ছিলেন। তাকে পুনরায় উপাচার্য পদে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি ও আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস ত্যাগ করে বাড়ি না ফেরার ঘোষণাও দেন তারা।

বিকাল ৩টায় চুয়েট কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ স্পষ্ট জানান, শিক্ষকরা নতুন ভিসিকে গ্রহণ করবেন না। তারা সাবেক উপাচার্য সায়েমকে পুনর্বহালের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।দাবি আদায়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া আগামী রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করবেন। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন। বন্ধ রয়েছে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম। বুধবার দ্বিতীয় দিনের শাটডাউনের পাশাপাশি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। অধ্যাপক ড. সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চুয়েট পরিবার।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরলেন সাবেক ভিসি, স্লোগানে বরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ফিরেছেন সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকারে করে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চুয়েটের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে রেখেছিলেন। অধ্যাপক সায়েমকে বহনকারী গাড়ি ফটকের সামনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন। সকালে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান অধ্যাপক সায়েম। সেখান থেকে সরাসরি চুয়েট ক্যাম্পাসে যান তিনি।
সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কবে ক্যাম্পাসে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে চুয়েট প্রশাসন এখনো কোনো তথ্য পায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বললেন, অধ্যাপক সায়েম ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। শিক্ষক সমিতিও এ দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার বিষয়ে প্রশাসনকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার মধ্যরাত থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ