সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন প্রমিতি

বিনোদন রিপোর্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এক দশক আগেও যে বিষয়টিকে নেহাত শখ বা সময় অপচয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করত সমাজ প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় তা-ই আজ দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও স্বাধীন পেশার নতুন দিগন্তে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাত ধরে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে এক নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং। বিশেষ করে তরুণদের ভাবনা, পোশাকের রুচি ও জীবনযাত্রার নানা অনুষঙ্গ উপস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড। ডিজিটাল বাস্তবতার এই নতুন ধারায় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল কেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরি করে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন তাসনিম হোসাইন প্রমিতি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাদের উপস্থিতি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যারা এগোচ্ছেন, প্রমিতি তাদের মধ্য অন্যতম। সম্প্রতি তার এই দীর্ঘ যাত্রার চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য নিয়ে কথা হয়। দীর্ঘ আলাপে উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর নেপথ্যের গল্প।

তাসনিম হোসাইন প্রমিতির সাফল্যের গল্প

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চারটি প্রধান প্ল্যাটফর্মেই তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, তার কন্টেন্টের মূল কেন্দ্রবিন্দু ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক, যেখানে বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি। এ ছাড়া ফেসবুকে আড়াই লাখের বেশি (২ লাখ ৫৪ হাজার), ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার এবং তরুণদের দীর্ঘ ভিডিওর জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবেও ৩৬ হাজারের বেশি গ্রাহক বা সাবস্ক্রাইবার রয়েছে তার।

তবে ১০ লাখেরও বেশি দর্শকের হৃদয়ে এই যে স্থান তৈরি তার পেছনের গল্পটি রাতারাতি কোনো অলৌকিক সাফল্যের নয় বলে জানান প্রমিতি। শুরুতে কোনো বিশাল দর্শকের সাড়া ছিল না, লাইক বা কমেন্টের সংখ্যাও ছিল হাতেগোনা। তবে সেই প্রাথমিক নিশ্চুপ পরিস্থিতি তাকে দমাতে পারেনি।

প্রথমদিকের কম সাড়ায় ভেঙে না পড়ে তিনি নজর দেন বিষয়বস্তুর গুণগত মান বাড়ানোর দিকে। কন্টেন্টের নান্দনিক উপস্থাপনা, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, নিখুঁত এডিটিং এবং নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের ওপর তিনি জোর দিতে শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে যা সাধারণ দর্শককে আকৃষ্ট করতে শুরু করে এবং প্রমিতির কাজকে করে তোলে আরও গোছানো। আজকের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে প্রতিনিয়ত হাজারো নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে, সেখানে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। ফ্যাশন সচেতনতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের নানা ইতিবাচক দিক সাবলীলভাবে তুলে ধরার ক্ষমতাই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

বহুমুখী প্ল্যাটফর্মে প্রমিতির শক্ত অবস্থান

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর কাজের ধরন ও অ্যালগরিদম ভিন্ন। ফেসবুকের অডিয়েন্স যেভাবে কন্টেন্ট গ্রহণ করে, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের তরুণ দর্শক ঠিক সেভাবে গ্রহণ করে না। চার ধরনের প্রধান প্ল্যাটফর্মেই সমান ছন্দে কাজ করা তাই বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই বিষয়ে আলাপকালে জানা যায়, বিভিন্ন বয়সের ও মানসিকতার অডিয়েন্সের রুচি বুঝে কনটেন্ট সমন্বয় করার দক্ষতাই তাকে এক প্ল্যাটফর্মের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো ডিজিটাল অঙ্গনে একটি শক্ত ভিত্তি এনে দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার : কণ্ঠশিল্পী জুলির বিবৃতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে বিতর্কিত ঈদ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাযুক্ত শিল্পীকে দিয়ে গান পরিবেশন করানোর অভিযোগ তুলে একটি কুচক্রী মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুলেখা আক্তার জুলি। এসব অপপ্রচার সর্বতোভাবে ‘মিথ্যা’ দাবি করে তিনি বিবৃতি দিয়েছেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেন এই শিল্পী।


বিবৃতিতে কণ্ঠশিল্পী জুলেখা আক্তার জুলি বলেন, একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করা তাঁর পেশাগত দায়িত্বের অংশ, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে তাঁর সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যম এবং সামাজিকমাধ্যমে আমার ব্যাপারে ছড়নো বিভ্রান্তমূলক ও মিথ্যা তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু ব্যক্তি আমার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মানহানীর সংবাদসহ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। আমি উক্ত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে শিল্পী জুলেখা আক্তার জুলি বলেন, সংবেদনশীল কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় পদ-পদবীতে ছিলাম না এবং এখনো নেই। ১৭ বছর ধরে পেশাদার শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন আয়োজনে গান গেয়ে আসছি। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের মানহানিকর মিথ্যাচার থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে এই শিল্পী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে মানহানি ও অপপ্রচারের ঘটনায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তায় প্রতিক্রিয়া জানান মডেল পিয়া

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।বিনোদন অঙ্গনে এনিয়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনা এবং নারী ও শিল্পীদের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল।

মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের উদ্বেগ ও হতাশার কথা জানান তিনি। সরাসরি বাঁধনের নাম উল্লেখ না করে পিয়া জান্নাতুল লেখেন, ‘মানুষ দিন দিন এতটা নিষ্ঠুর আর সংবেদনহীন হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে নারী আর শিল্পীদের প্রতি, যেটা সত্যিই ভাবায়।

তিনি আরো লেখেন, ‘দেশের বাইরে থাকলেই যে মানুষের চিন্তাভাবনা বদলে যায় বা মনটা আরও খোলামেলা হয়ে যায়, আসলে তা নয়। আমার কাছে আসল উন্নতি বোঝা যায় একজন মানুষ অন্যকে কতটা সম্মান করে, কতটা বুঝতে পারে আর কতটা মানবিক থাকতে পারে, সেখানেই। দুঃখের বিষয়, এই জায়গাগুলোতেই আমরা যেন ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছি।

গত সোমবার রাতে ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় আজমেরী হক বাঁধনকে‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে
হামলা করেন।এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই ও শিশু সন্তান। পরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দিয়ে অভিনেত্রীকে এরপর তাকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এসে বাঁধন জানান, পার্কের মধ্যে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তার গায়ে কোমল পানীয় ও পানি ছুড়ে মারা হয় এবং মারধরের সময় তার মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদ জানান অভিনেত্রী। পরে এ ঘটনায় স্থানীয় ভেনিস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন আজমেরী হক বাঁধন

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ