৫০ সাংবাদিকের অংশগ্রহণে সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবাদ পরিবেশন ও জেন্ডার-স্টেরিওটাইপ চ্যালেঞ্জ করার ওপর গুরুত্বারোপ

গণমাধ্যমে সংবেদনশীল সাংবাদিকতার চর্চা জোরদারে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সংলাপ

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা, নেতিবাচক জেন্ডার-বিষয়ক ধ্যানধারণা চ্যালেঞ্জ করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সংবেদনশীল সাংবাদিকতা: সংলাপ ও করণীয়’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপ। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যৌথতায় আয়োজিত এ সংলাপে সাংবাদিকতায় জেন্ডার-সংবেদনশীলতা, নৈতিক সংবাদ পরিবেশন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব এবং সংবাদমাধ্যমে প্রচলিত জেন্ডারগত স্টেরিওটাইপ চ্যালেঞ্জ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকেরা তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা, বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও উত্তম চর্চা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না, মানুষের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সংবাদ পরিবেশনে জেন্ডার-সংবেদনশীলতা, নিরপেক্ষতা এবং সব মানুষের মর্যাদা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষই সমাজের পাহারা কিন্তু সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকেরা প্রতিনিয়ত ইতিহাসের একটি অংশ নির্মাণ করেন। সংবাদে ভুল তথ্য পরিবেশিত হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের প্রতিটি পর্যায়ে তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্বশীলতা এবং সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদে ভুক্তভোগীদের প্রতি সংবেদনশীলতার পরিবর্তে তাঁদের চরিত্র ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নারী-পুরুষসহ সব মানুষের বিষয়ে পক্ষপাত থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের বক্তব্য ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহীন নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, “জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ ও গল্প বলার ধরনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে ক্ষতিকর সামাজিক ধ্যানধারণা চ্যালেঞ্জ করা এবং আরও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ সুগম হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ও সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, “সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে সংবেদনশীলতা এবং দায়িত্বশীলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতার চর্চা জোরদার করতে সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

সংলাপে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা” বিষয়ক ব্যবহারিক নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা পরিচালনা করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন। তিনি বলেন, “জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা মানে শুধু নারী বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংবাদ করা নয়; বরং সংবাদে সব মানুষের অভিজ্ঞতা, পরিচয় ও মর্যাদাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা। সংবাদ সংগ্রহ, ভাষা, ছবি, শিরোনাম, তথ্যসূত্র নির্বাচন এবং উপস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে সচেতনতা জরুরি। এই নির্দেশিকা সাংবাদিকদের দৈনন্দিন কাজে সেই চর্চাকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালেহ নোমান। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম অংশীদার জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বিভাগীয় সমন্বয়ক সুজয় বড়ুয়া অংশ নেন। এছাড়া প্রকল্পের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজার হুসাইন শাকির, মিডিয়া স্পেশালিস্ট সৈয়দ মো. তাফহিম এবং জেন্ডার স্পেশালিস্ট ফারজানা রূপা।

চার বছর মেয়াদি ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পটি নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে ১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের আটটি বিভাগের সব বৈচিত্র্যপূর্ণ তরুণ জনগোষ্ঠী—যার মধ্যে কিশোরী ও তরুণীরাও অন্তর্ভুক্ত—যেন সহিংসতামুক্ত জীবনযাপন করতে পারে, নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেন্ডারগত স্টেরিওটাইপ চ্যালেঞ্জ করার জন্য নিজেদের উদ্যোগ ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

চট্টগ্রামের এ সংলাপের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক শেখা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতার চর্চা বিস্তারে সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক বিভাগীয় সংলাপের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আরও দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সংবাদচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চবি মনোবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যােগে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০.৩০টায় জীববিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টায় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ.এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. অরুণাভ বৈরাগী সভাপতিত্ব করেন। “জীবনের অভিজ্ঞতা শুনি; সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন” প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখেন বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ শাহীনুর রহমান। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লাইলুন নাহারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মোঃ আলমগীর হোসাইন।

বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বর্তমান সমাজে সহিংসতা, অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান ও হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা আমাদের উদ্বিগ্ন করে। সামান্য বিরোধ বা অনলাইনে লেখা কোনো মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ চরম মানসিক সংকটে পড়ছেন। এসব ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, কিন্তু সেই স্বাধীনতা যেন অন্যের মানসিক ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সচেতনতা, সহমর্মিতা, কাউন্সেলিং ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা গেলে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে। মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উদ্যোগ আরও জোরদার করুন।

বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার গুরুত্ব এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চবি প্রক্টর, মনোবিজ্ঞান বিভাগসহ জীববিজ্ঞান অনুষদের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সবচেয়ে বেশি খুলশী থানা সিএমপিতে ছয় মাসে পাঁচ ওসি বদলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) গত দুই বছরে অন্তত ২০ দফায় অসংখ্য ওসি রদবদলের আদেশ হয়েছে। বারবার ওসি পরিবর্তনের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের পুলিশি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।বিশেষ করে ছয় মাসে পাঁচজন ওসি বদলি হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মেয়াদ ছিল মাত্র দুই দিন। আরেকজন কোনোমতে মাসখানেক। এ চিত্র সিএমপির খুলশী থানার, অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত এটি। শুধু খুলশী নয়; এ অস্বাভাবিক চিত্র সিএমপির প্রায় প্রতিটি থানার। কেউ দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে বদলি। কেউ কেউ টিকেছেন কয়েক সপ্তাহ। এমনও ঘটনা ঘটেছে, নিয়োগ দেওয়া ওসি চেয়ারে বসার আগেই করা হয়েছে প্রত্যাহার।

এদিকে বারবার ওসি বদলি নিয়ে অস্বস্তি আছে সিএমপির শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তার মধ্যেও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপকমিশনার বললেন, প্রশাসনিক প্রয়োজন, কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে ওসি বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের মুখে বারবার ওসি বদল করা হলে পুলিশের স্বাভাবিক কাজে প্রভাব পড়ে। একজন ওসি তার এলাকার অপরাধ ও অপরাধীদের নিয়ে কাজ শুরুর আগেই যদি তাকে সরে যেতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন।

জানা গেছে, ওসি বদলি নিয়ে গত ছয় মাসে খুলশীর পর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে সদরঘাট ও কর্ণফুলী থানায়। গত ৫ জুলাই সদরঘাট থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফকে যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় বদলি করা হয়। অন্য জেলার একজন প্রতিমন্ত্রীর আধাসরকারি পত্রের (ডিও) ভিত্তিতে তাকে বদলি করার এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। ১৮ জুন সিটি এসবির পরিদর্শক কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে কর্ণফুলী থানার ওসি পদে বদলির আদেশ দিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার। আদেশ প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির একটি মিছিলে বাধা দেওয়ার ঘটনার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে দেন দলটির নেতাকর্মীরা। যদিও সেই আমলে ‘কোণঠাসা’ হয়ে থাকা পুলিশ পরিদর্শকদের মধ্যে একজন ছিলেন মাসুদ। বিএনপির আপত্তির মুখে তিনি ওসির চেয়ারে বসার আগেই তাকে প্রত্যাহার করে সিটি এসবিতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন সিএমপি কমিশনার।

এদিকে নগর বিশেষ শাখা (সিটি এসবি) থেকে খুলশী থানায় ওসি হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম যোগ দিয়েছিলেন গত ২৩ আগস্ট। হত্যা মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়, অর্থাৎ নগর ভবনে অভিযান চালায় খুলশী থানা-পুলিশ। এ নিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উষ্মা প্রকাশ করেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গত বুধবার রাতে ওসি রহিমকে বদলির আদেশ দেন সিএমপি কমিশনার। যদিও রহিম বলছিলেন, অভিযানের সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। সর্বসাকল্যে ওসি রহিমের মেয়াদ ছিল ১ মাস ১০ দিন।
আব্দুর রহিমের আগের ওসি মোজাম্মেল হক। তিনি যোগ দিয়েছিলেন ১৫ জুন। ২ মাস ৮ দিনের মাথায় তাকে পাঁচলাইশ থানায় বদলি করে দেওয়া হয়। ১৩ জুন বাকলিয়া থানা থেকে বদলি হয়ে মোহাম্মদ সোলাইমান যোগ দিয়েছিলেন খুলশী থানায়। মাত্র দুই দিনের মাথায় ১৫ জুন তাকে বদলি করা হয় সিটি এসবিতে। সোলাইমানের আগে খুলশীর ওসি ছিলেন আরিফুর রহমান। তিনি ২৫ মার্চ যোগ দিয়েছিলেন। ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার অভিযোগে ১৩ জুন তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়। সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর জাহিদুল ইসলামকে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছিল। তিনি মোটামুটি সাড়ে ৪ মাস দায়িত্ব পালন করে ২৫ মার্চ পাঁচলাইশ থানায় বদলি হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুই দফায় প্রথম ওসি বদলি করা হয়। যদিও সেটি করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর। প্রথম দফায় সিএমপির ১৬ থানার মধ্যে ১৩ ওসিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে থানায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই আমলের আরও তিন থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।এরপর গত দুই বছরে সবচেয়ে খুলশী থানায় আটবার ওসি বদল হয়েছে। চকবাজার, কর্ণফুলী ও চান্দগাঁও থানায় পাঁচবার করে ওসি বদল হয়েছে। কোতোয়ালি, বাকলিয়া, সদরঘাট, ডবলমুরিং, আকবর শাহ ও পাঁচলাইশ থানায় চারবার করে ওসি পদে রদবদল করা হয়েছে। পাহাড়তলী, বায়েজিদ বোস্তামী, হালিশহর, বন্দর ও পতেঙ্গা থানায় তিনবার ওসি বদল হয়েছে। ইপিজেড থানায় অবশ্য মাত্র দুবার ওসি বদল হয়েছে।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ১৬ থানার ওসি পদে একযোগে রদবদল হয়। সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের আদেশে এটি স্বাভাবিক রদবদল ছিল। এ ছাড়া বাকি সব রদবদলের ঘটনার মধ্যে কোনো না কোনো ‘কিন্তু’ আছে। এই কিন্তুর ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না। তবে ধারণা করা যায়- মেয়র, স্থানীয় এমপি, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের পছন্দ-অপছন্দের ঠেলাঠেলিতে এসব রদবদল। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনাগ্রহী এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার আক্ষেপ, সবাই বলে এই চেয়ারে বসে অনেক এনজয় করা যায়। কিন্তু আমি কোনো এনজয় করতে পারছি না।

কএভাবে বারবার ওসি বদলের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বললেন, এটি রুটিন কাজ। ওসি হিসেবে বদলির পর পারফরম্যান্স কেমন, চালাতে পারছে কি না-সেটি বিবেচনা করেই বদলি করা হয়। কেউ যদি চালাতে না পারে, তাকে দীর্ঘসময় না রেখে দ্রুততম সময়ে বদলি করে দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ