৬০ হাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত

ড্রোন হামলা,যুদ্ধ, ও বিমান আক্রমণের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের আগাম প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ড্রোন হামলা , যুদ্ধ, ও বিমান আক্রমণের হুমকি মোকাবিলায় ৬০ হাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার। পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশটির ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে। এতে পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

২৩ অক্টোবর শুক্রবার পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লিসহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এ কার্যক্রম চালানো হবে। প্রশিক্ষণে যুদ্ধের হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত আগস্টে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলেছিলেন, আগামী দিনে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। এরপর গত শুক্রবার পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো হলো—জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লি, মেঘালয়, সিকিম, আসাম, উত্তর প্রদেশ, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন দিনের একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণে ৬০০ জন ‘সিভিল ডিফেন্স মাস্টার ট্রেইনার’ বা বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। পরে তাদের প্রত্যেকে আরও ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে এসব প্রশিক্ষকের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের ঘোষণায় একে ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচালনাগত দক্ষতা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে একত্র করে সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ৬০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। বরং যুদ্ধ ও অন্যান্য সংঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপরই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কেও সচেতনতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৫০ জনকে আগামী নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা, সুরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং যোগাযোগ ও সমন্বয়।

সরকারি ঘোষণায় সম্ভাব্য হুমকির ধরন হিসেবে আধুনিক ও ‘হাইব্রিড’ যুদ্ধ, ড্রোন সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিমান হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণে থাকবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তা, রাসায়নিক, জীবাণু, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক (সিবিআরএন) ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা, হতাহতদের ব্যবস্থাপনা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম।

প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে জরুরি যোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সতর্কতা, ডিজিটাল ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এই ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৬০ হাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকের কাছে বিশেষায়িত প্রস্তুতির দক্ষতা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। এতে উদ্যোগটির পরিধি ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়াতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে মহড়া আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিল। সে সময় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা শেষ পর্যন্ত কী ছিল, তা স্পষ্ট না হলেও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে সরকার বেসামরিক নাগরিকদের ব্ল্যাকআউট চলাকালে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।

ওই মহড়ায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক প্রতিরক্ষার ওয়ার্ডেন, হোম গার্ড, ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (এনসিসি), ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমের স্বেচ্ছাসেবক, নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠনের সদস্য এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত হতে বলা হয়েছিল।ভারতে ব্ল্যাকআউটসহ মহড়া এখন নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হয়ে উঠছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে বিহার সরকারও এমন একটি মহড়ার আয়োজন করে। এতে পাটনা, কিশনগঞ্জ, বেগুসরাই, পূর্ণিয়া, আরারিয়া ও কাটিহার—এই ছয় জেলার কিছু এলাকায় মানুষকে বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৩ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সশস্ত্র বাহিনীকে সরকারের অর্জন প্রচারের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ‘ভালো কাজগুলো তুলে ধরতে’ জনসমাগম হয় এমন স্থানে জিও-ট্যাগযুক্ত ৮২২টি ‘সেলফি পয়েন্ট’ তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, ‘মানুষ যেন এই উদ্যোগের অংশ হওয়ার অনুভূতি পায়।

ভারতের নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোতে শান্তিকালীন সময়ে ব্ল্যাকআউট ও সামরিক ধাঁচের মহড়া সাধারণত হয় না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর এ ধরনের মহড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ অঞ্চলে বেসামরিক প্রতিরক্ষার মূল লক্ষ্য সাধারণত যুদ্ধের প্রস্তুতির পরিবর্তে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি। ঝুঁকি কমানোর কাজে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নির্ভর করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভারতীয় জাহাজে সৌদি হামলা, ১৪ ভারতীয়কে উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতীয় জাহাজে লোহিত সাগরের জুকার দ্বীপে একটি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। ওই জাহাজ থেকে ১৪ ভারতীয়কে উদ্ধার করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। তারা জানায়, ওই নৌকাটি বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে ছিল।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এমন দাবি করে হুথিদের সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, হুথিরা ভারতীয়দের উদ্ধার করেছে এবং এব্যাপারে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।

এছাড়া ভারতীয় জাহাজে সৌদির বিমান হামলার সমালোচনাও করেছেন ইয়াহিয়া। তিনি বলেন, সৌদির শত্রুদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকে হুমকিতে ফেলছে। আন্তর্জাতিক মহলকে সৌদির শত্রুদের এ ধরনের দায়িত্বহীন কাজ থামাতে হবে।

আমিরাত মিলিপোল কাতার আন্তর্জাতিক সম্মেলন’এর ১৬তম সংস্করণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কাতারে শুরু হয়েছে ‘মিলিপোল কাতার ২০২৬’ (স্বদেশ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বৈশ্বিক প্রদর্শনী) এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিরাপত্তা বিষয়ক দোহা আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এর ১৬তম সংস্করণ৷ কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সদয় পৃষ্ঠপোষকতায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী “লেখুইয়া”-এর কমান্ডার মহামান্য শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি, ২০২৬ সালের ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দোহা এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে (ডিইসিসি) অনুষ্ঠিত ‘মিলিপোল কাতার ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র, বিচার ও নিরাপত্তা মন্ত্রীসহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের পুলিশ প্রধান, কমান্ডার এবং কমিশনারগণসহ বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কাতারের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা, বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশেষায়িত ব্যক্তিবর্গ এবং স্বদেশ নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এই সংস্করণে ২৭০টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নিয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর, মহামান্য শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি, বিশিষ্ট অতিথিবর্গ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে প্রদর্শনী হল ও প্যাভিলিয়নগুলো পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষার সর্বশেষ সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং উদ্ভাবনী ব্যবস্থাগুলো দেখেন। প্রদর্শিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর বৈশিষ্ট্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং সমন্বয় ক্ষমতা, সেইসাথে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা ও অপরাধ প্রতিরোধে সেগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে মহামান্যকে অবহিত করা হয়।

মিলিপোল কাতার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষতা বিনিময় এবং সর্বশেষ প্রযুক্তি ও সমাধান প্রদর্শনের জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিরাপত্তা বিষয়ক দোহা আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি নিরাপত্তা কার্যক্রমে এআই-এর প্রয়োগ অন্বেষণ এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য একটি ফোরাম প্রদান করে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে কাতারের বিশিষ্ট ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ