আজঃ শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি হচ্ছে ২৫ হাজারে!

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের ঘর বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকার ধামরাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর ২৫-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে একটি চক্র বলে দাবি এলাকাবাসীর। চক্রটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত উপহারের মালিকের দলিল কৌশলে নিয়ে অপরের কাছেও বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে।

ধামরাই উপজেলার তথ্য মতে, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নিমার্ণ করা হয়েছে ৬০০টি ঘর। যার প্রতিটি ঘরের জন্য নির্মাণ ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। যে সব ঘর ভূমিহীন ও ঘরহীনদের মাঝে বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৮০টি ঘরের নিমার্ণের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নে ৪২টি ঘর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এর আগে ইউনিয়নটিতে ৭৮টি ঘর সুবিধাভোগীদের আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় সোমভাগ ইউনিয়নের ঘর কয়েকমাস পূর্বে উদ্বোধন হয়। যেখানে টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন একাধিক পরিবার। আরও বেশ কয়েকটি পরিবারকে ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এমনটাই অভিযোগ করেন স্থানীয় ও সুবিধাবঞ্চিতরা। বালু ও ড্রোজার ব্যবসায়ী দুলাল চক্রটির অন্যতম সদস্য সোহেলের মাধ্যমে ঘর প্রতি ২৫-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। এছাড়া ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে অগ্রিম টাকা নিয়েছে তারা। সর্বশেষ প্রকল্পের ১০৭নং ঘরটি অন্য একটি পরিবারের কাছে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় চক্রটি।

চক্রের হোতারা হলেন- ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়ের দেপাসাই গ্রামের আলতাফ ফকিরের ছেলে সোহেল রানা ও একই এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে দুলাল মিয়া ওরফে ড্রেজার দুলাল। তবে তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাকার বিনিময়ে ঘর পাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, আমাকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কয়েকদিন আগে  প্রকল্পের একটি ঘর বুঝে দেওয়া হয়। পরে প্রকল্পের ১০৩নং ঘরটি খালি করার দায়িত্ব দেয় স্থানীয় দুলাল ও সোহেল। কথা অনুযায়ী ১০৩নং ঘর খালি করে চাবি দুলালের কাছে বুঝিয়ে দেন তিনি।

সুবিধাবঞ্চিত এক বৃদ্ধা জানান, গত এক বছর আগে স্থানীয় দুলালের কাছে ঘর বরাদ্দের জন্য সহযোগিতা চান তিনি। দুলাল ঘর দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। কথামত ৪০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত ঘর দেয়নি দুলাল। এখন টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করে।
 
একই অভিযোগ করে আতা নামের এক ব্যক্তি ঢাকাপোস্টকে বলেন, দুই বছর আগে ঘর বরাদ্দের কথা বলে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছে সোহেল। তবে তার জন্য নির্ধারিত ঘর অন্য এক ব্যক্তির কাছে কাছে বিক্রি করে দেয়। মামলা ও হামলার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

স্বপন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, স্থানীয় সোহেল একটি কক্ষ ভাড়ার কথা বলে দলিল নিয়ে যায়। পরে এক নারীর কাছে বিক্রি করে তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়। ঘরটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে বলে পরে জানতে পারি।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সোহেল বলেন, স্থানীয় কয়েকজন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে বালু ব্যবসায়ী দুলালের  ব্যাপারে তিনি বলেন, “সে এমপি সাহেবের ভাতিজা, তার কাছে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কাজের জন্য যাওয়া হয় এ ছাড়া কিছুই না। সে কোটি কোটি টাকা আয় করে। সে কেন অল্প টাকা নিতে যাবে।”

টাকার বিনিময়ে ঘর বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে দুলাল বলেন, “আমি সরকারি প্রকল্পে বালু ও মাটি ভরাট করি। সোমভাগেও আমি মাটি ফালাইছি টাকা পাইছি কাজ শেষ। আমি কারো কাছে ঘর বিক্রি করি নাই।”  

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, আমরা কয়েকটি ঘর বিক্রয়ের কথা জানতে পেরেছি। এতোমধ্যে কয়েকটি ঘর উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত মালিক যদি অসহায় হয় তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে। এসব ঘরের মালিকানা পরিবর্তন শুধুমাত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে। এছাড়া কেউ মারা গেলে তার পরিবর্তে যাচাই বাছাই করে অসহায় ভূমিহীনদের কে দেওয়া হবে। এখানে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তারপর কিছু জায়গাতে এমন ঘটনা শুনেছি সেখানে যাচাই বাছাই চলছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে ফুসকা তৈরি, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ফুসকা তৈরির দায়ে নগরের তিন ফুসকা কারখানাকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার নগরের এনায়েত বাজারের গোয়ালপাড়া এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

অভিযানে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ভাঙ্গা ফ্লোরে নিম্নমানের আটা ময়দার সাথে কুড়া ভুষি মিশিয়ে ফুসকা তৈরির অপরাধে সাহেদ ফুসকা কারখানাকে ২০ হাজার টাকা, নুর নবী ফুসকা কারখানাকে ১৫ হাজার টাকা ও ভাই ভাই ফুসকা কারখানাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের সাগরিকা এলাকায় ফ্লাইওভারের রেলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে বিএসআরএম ডিপোসংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম কাউসার আহমেদ বলে জানিয়েছে পুলিশ।ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একে পরিকল্পিত হত্যা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ঘটনা বলে দাবি করা হয়। তবে পুলিশ এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে।

পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি বিএসআরএমে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে পুলিশ।
পাহাড়তলী থানা-পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজনের খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি, কাউসার আহমেদ আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি শোকবার্তায় তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ