সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বিএনপি অনেক বেশি ভয়ঙ্কর : পররাষ্ট্র মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বিএনপি অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। কারণ, সোমালিয়ার জলদস্যুরা আমাদের নাবিকদের উপর কোন নির্যাতন চালায়নি। তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে নাই। কিন্তু বিএনপিতো মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীদের নেতৃত্বে বিএনপি অনেক সময় সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে।
শনিবার (১৩এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘী চত্বরে “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এসময় সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়ে বাংলাদেশের দস্যুরা বেশি ভয়ঙ্কর, বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশের মানুষ খুব দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে আছে, সাধারণ মানুষ ভালোভাবে ঈদ পালন করতে পারেনি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হয়তো মির্জা ফখরুল সাহেবদের মনে শান্তি নাই, উনাদের মনে অশান্তি বিধায় বাংলাদেশের মানুষের মনে শান্তি নাই বলছেন। মানুষের মনে সম্প্রীতি ও উৎসব আছে।
তিনি বলেন, দেখুন, এবার ঈদ অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে, এবং হচ্ছে। মানুষ এখনো ঈদ উৎসবের মধ্যে আছে। আপনারা দেখেছেন ঈদযাত্রাও এবার অনেক নির্ঝঞ্জাট ছিল। ঈদের সময় অনেক ঘটনা ঘটে। সে ধরণের দূর্ঘটনা এবার অপেক্ষাকৃত অনেক কম ঘটেছে। এবং মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়েই ঈদ উদযাপন করছে।
সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারের বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, সোমালিয়ার জলদস্যু কতৃক হাইজ্যাক হওয়া জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আছে। খুব সহসা আপনারা সুখবর শুনতে পাবেন। আমি শুধু এটুকুই বলি, নাবিকরা খুব সহসাই মুক্তি লাভ করবে ইনশাআল্লাহ, আমরা জাহাজটাও মুক্ত করে নিয়ে আসতে পারব। গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ইতিমধ্যেই সাধিত হয়েছে।
এরআগে “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন এবং আমরাও বলি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আজকে ঈদ উৎসবকে উপলক্ষ করে “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” এর আয়োজন করেছেন। এই উৎসবে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীষ্টন সবাই সামিল হয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার উৎসব যে সবার সেটি আসলে বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে এই উৎসবের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে যখন প্রবারণা পূর্ণিমার সময় ফানুস উড়ানো হয় তখন সব সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসবে সামিল হয়, ছোটবেলা থেকে আমি নিজেও ফানুস উড়ানো উৎসবে সামিল হতাম। একইভাবে যখন দূর্গাপুজা উৎসব হয় তখনও সব সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে সামিল হয়। অর্থাৎ আমরা এখানে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীষ্টান সবাই মিলেমিশে একাকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীষ্টান সবার মিলিত রক্তস্্েরাতের বিনিময়ে আমাদের এই দেশ রচিত হয়েছে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রচনা করার জন্য। তাই আজকে যারা এই উৎসবের আয়োজন করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের ইতিহাস তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা প্রথম জনসভা করে জনসমক্ষে ঘোষণা করেছেন এই লালদীঘির ময়দানে। এর আগে ছয় দফা ঘোষণা করেছিল, কিন্তু জনসভা করেছিল ছয় দফার ওপরে এই লালদীঘির ময়দানে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম থেকে প্রথম বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পাঠ করেছিলেন এম এ হান্নান। মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ অনেককে সাথে নিয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামকে কয়েকদিন স্বাধীন রেখেছিলেন। ১৮৫৭ সালে সুবেদার রজব আলী চট্টগ্রামের প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এই দেশে কোন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির স্থান হবে না। কেউ সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে, সবসময় করেছি, ভবিষ্যতেও করব। এই দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই।
এসময় “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” আয়োজক কমিটির সভাপতি জহরলাল হাজারী, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, কাউন্সিলর রুমকি সেন গুপ্তা, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আজিম রনি, মো. শাহাবুদ্দিনসহ আযোজক কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া বকেয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন খাতে আগের ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বর্তমান সরকারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বুধবার (২৬ আগস্ট) বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সমাজ আছে, মানুষ আছে—শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে মানবিকতা?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, আত্মীয়তা, প্রতিবেশী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই মানুষের সামাজিক জীবন গড়ে ওঠে। একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের সামাজিকতার অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র যেন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, হিংসা, ঈর্ষা ও আত্মকেন্দ্রিকতা।

আজ একজনের উন্নতি অন্যজনের আনন্দের কারণ হওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ভালো কিছু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়ার বদলে তার সফলতার পেছনে নেতিবাচক কারণ খোঁজা হয়। অন্যের ভালো থাকা যেন অনেকের কাছেই নিজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

একটি এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু এখন এমনও দেখা যায়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কিংবা সামাজিক কোনো কাজে এগিয়ে এসে উল্টো নিজের সম্মান ও ইজ্জত নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাহলে মানুষ একসময় অন্যের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলবে। আর তখন সমাজে মানুষের সংখ্যা বাড়লেও কমতে থাকবে মানবিকতা।

ভালো মানুষ প্রয়োজন, কিন্তু ভালো মানুষ তৈরি হয় একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশে। যেখানে সত্য কথা বললে অপমানিত হতে হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শত্রু তৈরি হয় এবং মানুষের উপকার করতে গেলেও সমালোচনার শিকার হতে হয়—সেখানে অনেক ভালো মানুষও একসময় নীরব হয়ে যায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থ-সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় না। একজন মানুষ কতটা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, কতটা সহানুভূতিশীল হয়েছে এবং অন্যের সম্মান কতটা রক্ষা করেছে—সেখানেই তার প্রকৃত পরিচয়।

সমাজকে সুন্দর করতে হলে আগে আমাদের নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে হবে, বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং অকারণে কারও সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সমাজ বদলের শুরুটা অন্য কারও কাছ থেকে নয়, শুরুটা হতে হয় নিজের কাছ থেকেই।

খুব ইচ্ছে করে—মসজিদে আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। এরপর বাবার কবরে কিছুক্ষণ বসি, নীরবে কথা বলি, তারপর কবরের পাশে একটু হাঁটাহাঁটি করি। বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর ভালোবাসা আর তাঁর রেখে যাওয়া শূন্যতা প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভব করি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ