ছাত্র আন্দোলনে হতাহত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্র্বতী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত সকলের সুচিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনের সব দলিল রচনা করা হচ্ছে, পুরো আন্দোলনকে আর্কাইভ করা হবে। বিগত স্বৈরশাসক পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। এখন অনেক জায়গায় জনগণ পুলিশকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকুক। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি বৈষম্যহীন সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আহত হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়াস্থ বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদেরকে সোমবার দুপুরে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সিএমপি কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ও পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রামে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে গতকাল ১৮ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছুঁটে যান উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সমন্বয়ক ওমর ফারুক সাগরসহ অন্যান্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের শারীরিক খোঁজ-খবর নেন। গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন নগরীর মুরাদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয় সাগর। কিন্তু সেখানে সম্পূর্ণ ট্রিটমেন্ট না নিয়ে আবারো রাজপথে চলে আসে সে। পরবর্তীতে ইনফেকশনজনিত করণে সমন্বয়ক ওমর ফারুক সাগর ১৩ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন।
চমেক হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে ফারুক-ই-আজম বলেন, আমি আহতদের চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছি। আহতরা সবাই চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং ধীরে ধীরে তাদের অবস্থা উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি, তারা সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
আহত-নিহতদের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে আহতরা চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে উঠুক। যারা নিহত হয়েছেন আমরা তাদেও ব্যাপারে যথাযথ মর্যাদায় দেখব। একটু সময় ধরতে হবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে আপনারা দেশ স্বাধীন করেছেন, আর এখন যারা নতুন স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে তাদের বিষয়টিও দেশবাসী স্মরণে রাখবে। কথায় আছে না ‘বীরের রক্ত পরাভব (হার) মানে না’। ৫০ বছর পরে ওই একই রক্তধারা এখানে এসে মিশেছে।’
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলীম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার অন্যতম সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ও মোঃ রাসেল মাহমুদ।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক ১৮ আগস্ট রোববার বিকেল ৪টার দিকে বোয়ালখালীর পোপাদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর আকুবদন্ডী ওয়ার্ডের সৌদি প্রবাসী মোঃ নুরুল আবছারের ছেলে আন্দোলনে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত মোঃ ওমরের বাড়িতে যান এবং তার কবর জিয়ারত করে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া বকেয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন খাতে আগের ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বর্তমান সরকারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বুধবার (২৬ আগস্ট) বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সমাজ আছে, মানুষ আছে—শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে মানবিকতা?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, আত্মীয়তা, প্রতিবেশী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই মানুষের সামাজিক জীবন গড়ে ওঠে। একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের সামাজিকতার অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র যেন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, হিংসা, ঈর্ষা ও আত্মকেন্দ্রিকতা।

আজ একজনের উন্নতি অন্যজনের আনন্দের কারণ হওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ভালো কিছু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়ার বদলে তার সফলতার পেছনে নেতিবাচক কারণ খোঁজা হয়। অন্যের ভালো থাকা যেন অনেকের কাছেই নিজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

একটি এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু এখন এমনও দেখা যায়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কিংবা সামাজিক কোনো কাজে এগিয়ে এসে উল্টো নিজের সম্মান ও ইজ্জত নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাহলে মানুষ একসময় অন্যের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলবে। আর তখন সমাজে মানুষের সংখ্যা বাড়লেও কমতে থাকবে মানবিকতা।

ভালো মানুষ প্রয়োজন, কিন্তু ভালো মানুষ তৈরি হয় একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশে। যেখানে সত্য কথা বললে অপমানিত হতে হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শত্রু তৈরি হয় এবং মানুষের উপকার করতে গেলেও সমালোচনার শিকার হতে হয়—সেখানে অনেক ভালো মানুষও একসময় নীরব হয়ে যায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থ-সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় না। একজন মানুষ কতটা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, কতটা সহানুভূতিশীল হয়েছে এবং অন্যের সম্মান কতটা রক্ষা করেছে—সেখানেই তার প্রকৃত পরিচয়।

সমাজকে সুন্দর করতে হলে আগে আমাদের নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে হবে, বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং অকারণে কারও সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সমাজ বদলের শুরুটা অন্য কারও কাছ থেকে নয়, শুরুটা হতে হয় নিজের কাছ থেকেই।

খুব ইচ্ছে করে—মসজিদে আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। এরপর বাবার কবরে কিছুক্ষণ বসি, নীরবে কথা বলি, তারপর কবরের পাশে একটু হাঁটাহাঁটি করি। বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর ভালোবাসা আর তাঁর রেখে যাওয়া শূন্যতা প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভব করি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ