বর্ষায় চট্টগ্রাম মহানগরে ২১ হাজার ৮১৪ বর্গমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, চলাচলে ভোগান্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েটি সড়ক ক্ষত-বিক্ষতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। একটানা বৃষ্টি, জোয়ার ও জলাবদ্ধতার পানি জমে সড়কে ‘ক্ষত’ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য একটি তালিকাও প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পরবর্তীতে বিটুমিন সংকটে সড়কের এ ক্ষত আর সারাতে পারেনি। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিন সরেজমিনে সড়কগুলোর দুরবস্থা চোখে পড়েছে। তবে বিটুমিন সংকট কেটে যাওয়ায় শনিবার থেকে কার্পেটিং এর কাজ শুরু হয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী।
সরেজমিনে জিইসি, এ.কে.খান, নিমতলা সড়কে গিয়ে দুরবস্থা দেখা মিলে। সড়কের প্রস্তের দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে গভীর গর্ত। হা করে থাকা গর্তের চারপাশে নেই কোনো নিরাপত্তাবেস্টনি। সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়কটি। ব্যস্ত সড়কের দুই পাশ থেকে আসা যানবাহনের চাপে লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। নগরীর পোর্ট কলোনির মসজিদ সংলগ্ন এলাকার পর থেকে নিমতলা মোড়ের চিত্র এটি। ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের কাজ চলমান থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সড়কে রয়েছে একাধিক গর্ত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প নির্মাণ কাজের জন্য এখানে নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিন দেখা যায়, নিমতলা মোড় থেকে পোর্ট কানেক্টিং রোড় ধরে এগোলেই রাস্তার মধ্যভাগ পুরোটাজুড়ে গর্ত। ফলে সংকীর্ণ হয়ে গেছে রাস্তার দু’পাশ। সড়কটি বেশি ব্যবহার হয় বন্দরের ট্রাক যাতায়াতের জন্য। এই রোড়ের প্রায় অর্ধকিলোমিটারজুড়ে ট্রাকের সারি। দীর্ঘ সময় ধরে লেগে আছে জ্যাম।
নগরীর এ কে খান মোড় থেকে জিইসির দিকে যেতে জাকির হোসেন সড়ক ধরে কিছু দূর এগোলেই প্রায় রাস্তার এক তৃতীয়াংশজুড়ে গর্ত। সেখানে নেই নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাও। এছাড়াও নয়াবাজার মোড়, আনন্দীপুর, পোর্ট কানেক্টিং রোড হালিশহর কে ব্লক, ছোটপুল এলাকায় ছোট-বড় একাধিক গর্ত দেখা গেছে।
পোর্ট কলোনির মসজিদ সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী এরফান আলম জানান, ওয়াসার সোয়ারেজ প্রকল্পের কাজ চলার কারণে রাস্তার এক পাশ বন্ধ। একাধিক গর্তের কারণে নিয়মিত ছোট ছোট দুর্ঘটনাও ঘটছে। এতে সংকীর্ণ হয়ে পড়া সড়কটি দিয়ে একমুখী যানবাহন চলাচল করছে। মুখোমুখি দুটি যানবাহন এলেই লেগে যাচ্ছে যানজট। ফলে এক পাশ থেকে আসা যানবাহনগুলো দাঁড়িয়ে আরেক পাশ থেকে আসা যানবাহনগুলোকে যেতে দিতে হচ্ছে।
এদিকে হাটহাজারী সড়ক, বায়েজিদ বোস্তামি সড়ক ও কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়ক সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতায় নগরীর নতুনপাড়া থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত হাটহাজারী সড়ক, অক্সিজেন থেকে দুই নম্বর গেট হয়ে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত বায়েজিদ বোস্তামি সড়ক ও অক্সিজেন মোড় থেকে ওয়াজেদিয়া পর্যন্ত কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়কের বিভিন্নস্থানে পিচঢালাই উঠে ছোট-বড় বেশ কিছু গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এসব সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বায়েজিদ বোস্তামি সড়কের দুই নম্বর গেট থেকে প্রবর্তক মোড় অংশ ও কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়কের পিচঢালাই উঠে খোয়া বের হয়ে গেছে বিভিন্নস্থানে। এতে এসব সড়ক দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে নগরবাসীর। চলন্ত যান অসাবধানতাবশত গর্তে পড়ে ছোটবড় নানা দুর্ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনও। নগরীর অক্সিজেন এলাকার ম্যাক্সিমা চালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমি অক্সিজেন থেকে চকবাজার পর্যন্ত গাড়ি চালাই, গর্তের কারণে গাড়ি সবসময় দুলে, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঝেমধ্যে সড়কেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এসব সড়কের বাকি অংশে ছোট-বড় অধিকাংশ গর্ত ভরাট করা হয়েছে কংক্রিটের মিশ্রণ দিয়ে। তাতেও কমেনি ভোগান্তি, কংক্রিটের মিশ্রণ সড়কের সঙ্গে মসৃণভাবে না মেলানোয় উঁচু-নিচু খন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া নগরীর দুই নম্বর গেট সংলগ্ন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সড়কের উভয় পাশে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত দেখা যায়। কিছু কিছু গর্ত ভরাটে কংক্রিট দিয়েছে চসিক। তবে এরমধ্যে অনেক গর্ত থেকে ইতোমধ্যে কংক্রিট উঠে সড়কগুলো বড় ক্ষততে পরিণত হয়েছে। ছোট-বড় গর্ত, উঁচু-নিচু সড়ক, বিটুমিন ও পাথর উঠে নগরীর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক হচ্ছে সিডিএ এভিনিউ’র মুরাদপুর থেকে শুলকবহর পর্যন্ত। এরমধ্যে শুলকবহরের এশিয়ান হাউজিং এর আগে প্রায় ১০০ মিটার সড়কে রয়েছে অর্ধশত গর্ত। সেখানে সড়কের কার্পেটিং ছাড়া গর্ত ভরাটে চসিকের দেয়া কংক্রিটগুলোর কারণে সড়কটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া ওয়াসা, বারিক বিল্ডিং থেকে ফকির হাট, মাইলের মাথা থেকে ফ্রি-পোর্ট সংলগ্ন ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ কলেজ রোড এলাকায় ছোট বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
কথা হলে ওয়াসা থেকে শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) রুটের মাহিদ্রা চালক মো. জুয়েল বলেন, এই রুটের ওয়াসা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা ও গর্ত রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে মুরাদপুর থেকে শুলকবহর পর্যন্ত। এ সড়ক পার হওয়ার সময় মনে হয়, এই বুঝি গাড়ি উল্টে যাবে। কয়েকবার গাড়ি নষ্ট ও একবার চাকা খুলে যায়। তবে যাত্রীরা কিছুটা আহত হলেও বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।
চসিক সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসের প্রথম দিকে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি বর্গমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় থেকে টানা বৃষ্টি, জোয়ার ও জলাবদ্ধতার পানি জমে সড়কে ‘ক্ষত’ সৃষ্টি হয়েছে। যা এখনো সারাতে পারেনি চসিক। সে সময় এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য একটি তালিকাও প্রস্তুত করে চসিক। তালিকা মতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার ৮১৪ বর্গমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়কের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ করতে পেরেছে চসিক। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সাধারণ ছুটি, কারফিউ, বৃষ্টি এবং সর্বশেষ বিটুমিনের কারণে কার্পেটিং এর কাজ আটকে যায়।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টির কারণে আমরা কার্পেটিং করতে পারিনি। এরপর আবার বিটুমিনের সংকট দেখা দেয়। আমরা সড়ক ঢালাইয়ের জন্য যে মানের বিটুমিন ব্যবহার করি সেটা পাওযা যাচ্ছিল না। এ কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিটুমিন কার্পেটিং করতে পারিনি। তবে ইতোমধ্যে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বিটুমিন চলে এসেছে। কার্পেটিং শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের কয়েকটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে ক্যান্টিন-ওষুধের দোকান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বেসরকারি হাসপাতাল ল্যানসেটে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, পার্কিংয়ের জায়গায় বসেছে ক্যান্টিন ও ওষুধের দোকান, নেই বিকল্প অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্গমন ব্যবস্থা। সোমবার (২৪ আগস্ট) বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম তদন্তে যায় সংস্থাটি। শুধু ল্যানসেট নয়, শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল হিদায়াহ স্কুলেও অভিযান চালিয়েছে সিডিএ। অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানে নকশা ও বিধিবিধান না মানার বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে। অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের সময় দিয়েছে সংস্থাটি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিকরা বলছেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নকশাবহির্ভূত ব্যবহার দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই শুধু অভিযান নয়, নির্ধারিত সময় শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মানছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং জরুরি।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম, হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থার কারণে যানজট এবং নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবাসিক ভবনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোকে এক মাসের মধ্যে বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আবাসিক ভবনে পরিচালিত একটি স্কুলকেও এক মাসের মধ্যে বিকল্প স্থানে যাওয়ার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর কিছু পার্কিং-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, অভিযানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব পরিবর্তন কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

এদিকে ল্যানসেট হাসপাতালের পরিচালক মহসীন হোসেন বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন আমাদের রয়েছে। মানুষের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে অনেক কর্মচারীর জীবিকা নির্ভরশীল। আমাদের লাইসেন্সসহ অন্যান্য অনুমোদনও আছে। তবে পার্কিংয়ের জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। সিডিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সরকারের সহযোগী হিসেবে তাদের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি আবাসিক হিসেবে কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে, সেটি ভবন মালিকের বিষয়। আমরা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। অতীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেই বিভিন্ন অনুমোদন দিয়েছে। তবে সিডিএ এখন যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছে, সেগুলো সমাধানে আমরা সহযোগিতা করব।
সিডিএ জানিয়েছে, এক মাসের সময়সীমা শেষে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। নিয়ম না মানলে সিলগালা ও উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকরা। শনিবার (২২ আগষ্ট) চমেক প্রাঙ্গণে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ফোরামের চট্টগ্রাম সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলে একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়। এটি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের কর্মপরিবেশ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কর্মস্থলে হামলা, হুমকি ও হয়রানির কারণে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রোগীসেবায়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুর রব, অধ্যাপক ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা, অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ডা. ফয়েজুর রহমান, ডা. নুরুল করিম চৌধুরী ও ডা. ফাহমিদা রশিদ স্বাতী।
বক্তারা অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালকে নিরাপদ কর্মস্থল হিসেবে নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি ও জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় একটি বাধ্যতামূলক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন জারি এবং হাসপাতালের দৃশ্যমান স্থানে নিরাপত্তা ও আচরণবিধি প্রদর্শনেরও দাবি জানান চিকিৎসকরা।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ