রাজশাহীতে বাঁশ ফেলে ফুটপাত দখল

মো: গোলাম কিবরিয়া। রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মেইন ফটকের সামনে থেকে বিনোদনপুর বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের পাশের ফুটপাতে বাঁশ ফেলে দখল করে রেখেছেন ব্যবসায়ী এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা। এতে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় পথচারীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিনোদনপুর বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে চারাগাছ, বাঁশের আড়ত, কাঁচাবাজার, মুরগির দোকান ও চায়ের দোকানসহ নানা দোকান বসিয়ে বেচাকেনা করছে ব্যবসায়ীরা। ফলে বাধ্য হয়ে পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন অনেকে।

রাবির মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফিল ও লোকমান হোসেন বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে ফুটপাত আমাদের তথা পথচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেই ফুটপাতের পুরোটাই দখল করে ব্যবসা ফেঁদে বসা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অনেকে। আমরা চাই যতদ্রুত সম্ভব তারা মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের হাঁটার ব্যবস্থা করা হোক।’

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাবির একজন শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক। এই মহাসড়কের পাশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীসহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু পুরো ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হচ্ছে। আর মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে। এর ফলে অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনায় অনেকে আহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পায়নি।

এ বিষয়ে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে রাখতে চাই না। খুব দ্রুত আমরা কাজলা গেট থেকে মেইন গেট ও বিনোদপুর হয়ে আইবিএ পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব।’

সড়ক বিভাগ রাজশাহীর (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া বকেয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন খাতে আগের ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বর্তমান সরকারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বুধবার (২৬ আগস্ট) বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সমাজ আছে, মানুষ আছে—শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে মানবিকতা?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, আত্মীয়তা, প্রতিবেশী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই মানুষের সামাজিক জীবন গড়ে ওঠে। একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের সামাজিকতার অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র যেন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, হিংসা, ঈর্ষা ও আত্মকেন্দ্রিকতা।

আজ একজনের উন্নতি অন্যজনের আনন্দের কারণ হওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ভালো কিছু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়ার বদলে তার সফলতার পেছনে নেতিবাচক কারণ খোঁজা হয়। অন্যের ভালো থাকা যেন অনেকের কাছেই নিজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

একটি এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু এখন এমনও দেখা যায়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কিংবা সামাজিক কোনো কাজে এগিয়ে এসে উল্টো নিজের সম্মান ও ইজ্জত নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাহলে মানুষ একসময় অন্যের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলবে। আর তখন সমাজে মানুষের সংখ্যা বাড়লেও কমতে থাকবে মানবিকতা।

ভালো মানুষ প্রয়োজন, কিন্তু ভালো মানুষ তৈরি হয় একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশে। যেখানে সত্য কথা বললে অপমানিত হতে হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শত্রু তৈরি হয় এবং মানুষের উপকার করতে গেলেও সমালোচনার শিকার হতে হয়—সেখানে অনেক ভালো মানুষও একসময় নীরব হয়ে যায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থ-সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় না। একজন মানুষ কতটা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, কতটা সহানুভূতিশীল হয়েছে এবং অন্যের সম্মান কতটা রক্ষা করেছে—সেখানেই তার প্রকৃত পরিচয়।

সমাজকে সুন্দর করতে হলে আগে আমাদের নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে হবে, বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং অকারণে কারও সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সমাজ বদলের শুরুটা অন্য কারও কাছ থেকে নয়, শুরুটা হতে হয় নিজের কাছ থেকেই।

খুব ইচ্ছে করে—মসজিদে আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। এরপর বাবার কবরে কিছুক্ষণ বসি, নীরবে কথা বলি, তারপর কবরের পাশে একটু হাঁটাহাঁটি করি। বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর ভালোবাসা আর তাঁর রেখে যাওয়া শূন্যতা প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভব করি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ