রংপুর এসিআই মটরস লিমিটেড থেকে কিস্তিতে ট্রাক্টর কিনে প্রতারণায় পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন কৃষক আনারুল ইসলাম আঙ্গুর

লালমনিরহাট প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লালমনিরহাট সদরের রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট এলাকার বাসিন্দা মৃত ফরমান আলীর ছেলে মো: আনারুল ইসলাম আঙ্গুর এসিআই মটরস লিমিটেড রংপুর অফিস থেকে ২৮/০৫/২০১৬ ইং তারিখে সোনালীকা D145RX(A) মডেলের একটি ট্রাক্টর কিস্তিতে ক্রয় করেন। ট্রাক্টরটির নির্ধারিত মূল্যে ছিল ১১,৫০,০০০ টাকা। সে অনুযায়ী ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রংপুর এসিআই মটরস হতে ট্রাক্টরটি কিনে নেন তিনি।এবং নিয়ম মেনে ১০,১০,৫০০ টা বিভিন্ন সময়ে কিস্তির টাকাও পরিশোধ করেন।

দীর্ঘ আশা ছিল ট্রাক্টরটি কিনে চাষাবাদ করে জীবনের ভাগ্য বদলের , কিন্তু তার সেই আশায় গুড়ে বালি হয়ে গেছে। আর্থিক অসুবিধার কারণে বাকী কিস্তির টাকা পরিশোধে বিলম্বিত হওয়ায় ১৬/১১/২০১৫ইং তারিখে রংপুর-কাউনিয়া মহাসড়ক হতে ট্রাক্টরটি আটকিয়ে রংপুর ধাপ অফিসে নিয়ে আসেন এসিআই মটরস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। সেই সচল ক্রয়কৃত ট্রাক্টরটি পরবর্তীতে শর্তমোতাবেক বিলম্ব ফি-সহ বাকী পাওনা টাকা প্রদানে মো: আনারুল ইসলাম আঙ্গুর ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে চাইলে এসিআই মটরস লিমিটেড ট্রাক্টরটি ফেরত দিতে অস্বীকার জানালে তিনি ১২/০৬/২০১৬, ২০/১২/২০১৬ ও ১৭/১০/২০১৭ইং তারিখে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে চান কিন্তু এসিআই মটরস লিমিটেড ট্রাক্টরটি ফেরত না দেয়ায় পরবর্তীতে আনারুল ইসলাম আঙ্গুর নিজেই বাদী হয়ে এসিআই মটরস-এর রংপুর অফিসের কর্মকর্তা মোঃআতিয়ার রহমান, রিজিওনাল সেলস্ অফিসার, মো: বাবুল হোসেন, রফিকুল ইসলামকে আসামী করে ৪০৬, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় রংপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে বিগত ০৫/০৭/২০১৮ইং তারিখে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২০৩/১৯। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামীগণের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেন এবং আসামীগণ

জামিনপ্রাপ্ত হয়ে মামলা দীর্ঘায়িত করে দীর্ঘ বৎসর মামলা পরিচালনা করান। বিজ্ঞ আদালত গত ১৬/০৫/২০২৪ইং তারিখে মামলার বাদীকে ২,৭০,০০০ টাকা গ্রহণ সাপেক্ষে ট্রাক্টরটি ফেরত প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করেন। সে আদেশ অনুযায়ী আনারুল ইসলাম আংগুর বাকী টাকা প্রদান করতে ইচ্ছুক হন এবং এসিআই মটরস-এর রংপুর অফিস হতে ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে গিয়ে দেখতে পায় যে, এসিআই মটরস-এর লোকজন ইতিমধ্যে উক্ত ট্রাক্টরের মূল টায়ার বদল করে পুরাতন অচল টায়ার লাগিয়ে রেখেছে। ট্রাক্টরের হাল যন্ত্র, ব্যাটারী এবং মূল্যবান যন্ত্রাংশ গুলো খুলে নিয়েছে। অর্থাৎ ট্রাক্টর নামের খোলসটি শুধু পড়ে রয়েছে বর্তমানে যা পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে।

দোকানে ভাংড়ি হিসাবে বিক্রয় করা হলে আনুমানিক মূল্য সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা হতে পারে বলে জানান ভুক্তভোগী।

এক মাত্র সম্বল টুকু হারিয়ে অসহায় কৃষক আনারুল ইসলাম আঙ্গুর ট্রাক্টরটি সাবেক অবস্থায় উদ্ধারে বার বার ব্যর্থ হয়ে রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯৮ অনুযায়ী গত ১৯/০৫/২০২৪ইং তারিখে

মামলা দায়ের করেন, মামলার নম্বর মিছ পিটিশন ৮৬/২৪ইং এবং বর্তমানে কোতয়ালী থানায় তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। কিস্তিতে ট্রাক্টর কিনে প্রতারণার স্বীকার হয়ে বছরের পর বছর হয়রানী ও আর্থিক ক্ষতির শিকার কৃষক পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। বারবার বিচার চেয়েও কোন সঠিক বিচার মিলেনি । পরিশ্রমের টাকায় ক্রয় কৃত ট্রাক্টরটি সচল অবস্থায় ফিরে পাবে বলে আশায় রয়েছে অসহায় কৃষক আনারুল ইসলাম আঙ্গুর।

এসিআই মটরস-এর রংপুর অফিসের কর্মকর্তগণের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অজুহাত দেখিয়ে বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে বিষয়টি সুরাহা হবে নতুবা বাকি ২,৭৫,০০০ টাকা দিয়ে বর্তমান যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে বলেন বর্তমান যার বাজার মূল্য ১ লক্ষ টাকার নিচে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আনারুল ইসলাম আঙ্গুর ট্রাক্টরটি কিনে রংপুর এসিআই মোটরস এর ফাঁদে পড়ে এর পিছনে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন এবং তিনি কোন সুবিচার পাচ্ছেন না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চউক’র ‘এক নগর দুই শহর’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একটি আধুনিক শিল্প ও আবাসিক হাব বা মেগাসিটি গড়ে তুলতে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনস’ বা ‘এক নগর দুই শহর’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় ৭ হাজার ৩১৫ একর জমির ওপর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে রূপরেখাও দিয়েছে চউক। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হারিয়ে যাবে ১ হাজার ৭৮২ একর কৃষিজমি।

কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের আনোয়ারার ২৩ হাজার ৯৬৭টি কৃষি পরিবারের মধ্যে ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। সংখ্যায় যারা ২৩ হাজার ৭৭৬ জন। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে এই বিশালসংখ্যক ক্ষুদ্র চাষি তাদের একমাত্র জীবিকা হারাবেন। বর্তমানে ওই উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৩৩ জন মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। জমি হারানোর ফলে এই বিশাল শ্রমশক্তি পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমদ সরকার বললেন, উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি তিন ফসলি। ধানের পাশাপাশি এখানে সবজিরও ব্যাপক আবাদ হয়। এমনিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে লোকজন কৃষিজমি কিনে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছেন। এতে কৃষিজমি কমছে। নতুন শহর বাস্তবায়ন করা হলে কৃষিজমি আরও কমে আসবে।

এদিকে কৃষিজমি হ্রাস ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিকল্পনার প্রকল্প পরিচালক এবং চউক’র উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বললেন, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন হচ্ছে। যার কারণে কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাস্টারপ্ল্যানে ২ হাজার ৩৮৮ একর কৃষিজমি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকা ও কলকারখানা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

চউক’র দেয়া ‘আনোয়ারা অ্যাকশন এরিয়াপ্ল্যান (২০২৫-৫০)’-এর খসড়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষিজমির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে যাচ্ছে বৈরাগ ইউনিয়নে। সেখানে বিদ্যমান ৪৯৪ একর কৃষিজমির ৯৮ শতাংশই শিল্প ও সাধারণ নগর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সেখানে আবাদি জমি অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ৯ একর। এ ছাড়া শিল্পায়ন ও নগরায়ণের চাপে চাতরী ইউনিয়নে ৫৪৬ একর এবং বারখাইন ইউনিয়নে ৩৪৮ একর কৃষিজমি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।বর্তমানে এখানকার মোট জমির ৫৭ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে কৃষি ও মৎস্য খাতে এবং ৯ শতাংশ জলাশয়। এর পাশাপাশি আবাসিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ২৭ এবং শিল্প খাতে আড়াই শতাংশ।

জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলা চট্টগ্রামের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। কৃষিজমি কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে ধান, ডাল, শাকসবজি ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনের ওপর। সর্বশেষ কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে ধান। বর্তমানে উপজেলায় ১১ হাজার ১৯৬ একরে আমন এবং ৯ হাজার ৬৪ একরে বোরো ধানের চাষ হয়। আবাদি জমি কমলে এই উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এরপরই রয়েছে শাকসবজি। আনোয়ারার জনপ্রিয় বেগুন (১৩৯ দশমিক ৬৭ একর), টমেটো (১১৬ দশমিক ৭ একর) এবং আলু (১১৮ দশমিক ৫৮ একর) চাষের এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হবে। এ অঞ্চলে প্রায় ৪০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়। এ ছাড়া ফেলন ডাল (১২৬ দশমিক ৬১ একর) উৎপাদনের এলাকাটিও নগর উন্নয়নের আওতায় পড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০৫০ সাল নাগাদ আনোয়ারায় জনসংখ্যা ৭ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন পরিকল্পনায় ৭৭৪ দশমিক ৪ একর জমি নিয়ে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং শিল্প খাতে ৫৫০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই শিল্প জোনে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হয়েছে। নগরায়ণের এই বিপুল চাপ সামলাতে আনোয়ারায় ৪৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার নতুন ও উন্নত সড়কের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারা-পটিয়া সড়ককে ১৬০ ফুট প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার যানবাহন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাক টার্মিনাল, একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল, সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি উচ্চবিদ্যালয় এবং ৯টি ক্লিনিক স্থাপনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আনোয়ারা এলাকাটি ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমি বন্যার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে প্রাকৃতিক জলাধার (বর্তমানে যা ৯ শতাংশ) ও খোলা জায়গা কমে যাবে, যার ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করবে। জলাবদ্ধতা রোধে ১১৪ দশমিক ২৩ কিলোমিটার নতুন সেকেন্ডারি ড্রেন এবং ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার নতুন খালের অ্যালাইনমেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে পার্কি খাল, খুরুশকুল, দক্ষিণ বারুনিছড়া, ইছাখালী এবং মুরাই খালে সাতটি রেগুলেটর স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে পার্কি খালের মুখে একটি বড় রেগুলেটর নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পলি জমা রোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চারটি সিল্ট ট্র্যাপ বসানো হবে। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশদূষণ রোধে ‘ইকো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনিং’ এবং নদীর তীরে বনায়ন বা গ্রিন বেল্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কৃষিজমি ধ্বংস করে এমন মেগাসিটি নির্মাণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল বলেন, তিন ফসলি জমিতে শহর গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয় নয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে অংশীজনের মতামত নেওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। নয়তো এটি পরিবেশের ওপর যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। তিনি কৃষিজমি বাদ দিয়ে নদীর পাড়কে ঘিরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

বোয়ালখালীতে বন্যায় ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি ও সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মাছের খামার প্লাবিত হওয়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগের আগে ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হলেও তার বেশিরভাগই বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার পানিতে ২৩ হেক্টর আউশ ধান ও ১১০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) উপজেলার চরনদ্বীপ, পোপাদিয়া শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা, সারোয়াতলী,শাকপুরা ও পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমি থেকে পানি নামতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে।

পোপাদিয়া সৈয়দপুর কৃষক রমজান জানান, ৩০ কানি জমিতে আমন চাষের জন্য বৃষ্টির তিন দিন আগে ১৫ আড়ি ধানের বীজতলা করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুরো বীজতলা তলিয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। এতে আমনের আবাদও পিছিয়ে যাবে।

আমুচিয়া ইউনিয়নের মৎসউদ্যোগক্তা বেলাল জানান দুই কানি পুকুর মাছ চাষ করেছি কিন্তু টানা বষর্নে বন্যার পানিতে আমার সব মাছ তলিয়ে গেছে তার হিসাব মতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সাড়ে তিন লক্ষ টাকা।

একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল, মাসুদ নিহাল করিম সহ আরও অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, বৃষ্টিজনিত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ১০০টি ছোট-বড় মাছের পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রদর্শনী পুকুরসহ প্রায় ৯৫০টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মৎস্য খামার পুরোপুরি বা আংশিক তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ