হজ্জের প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি সূর্যোদয়ে ও প্রতিটি অশ্রুজলে ফুটে ওঠে ইসলামের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য—

হজ্জ: হৃদয়ের দিগন্তে আলেয়ার মতো জ্বলে ওঠা আত্মশুদ্ধির আলোকপাঁজর।

লেখক, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো,মিশর

হজ্জ হলো এক আধ্যাত্মিক উল্লম্ফন—

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যখন কোটি কোটি হৃদয় এক সুরে উচ্চারণ করে—”লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”, তখন আকাশ-বাতাসও থমকে দাঁড়ায়। হজ্জ তখন আর শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা থাকে না; হয়ে ওঠে আত্মার এক অভূতপূর্ব অভিষেক, পবিত্রতার এক অনন্য মহাসম্মিলন। মানুষের জীবনচক্রে এমন কোনো অধ্যায় নেই, যেখানে হজ্জের মত একান্ত ও গভীর আত্মসংশোধনের উপলক্ষ পাওয়া যায়।

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের শেষতম অথচ সর্বোচ্চ স্তম্ভটি যেন এক অলৌকিক আহ্বান। এই আহ্বান আসে আকাশ পেরিয়ে হৃদয়ের গহীনে, যেখানে মানুষ সমস্ত পরিচয়ের অহংকার ছুঁড়ে ফেলে আত্মবিসর্জনের শুদ্ধতম অবস্থানে পৌঁছে যায়। ধনী-গরিব, রাজা-ভিখারী—সবাই একসঙ্গে দাঁড়ায় কা’বার চৌহদ্দিতে। এক রঙের পোশাক, এক কণ্ঠের ধ্বনি, এক দিকের সেজদাহ—হজ্জ আমাদের শেখায় বিশ্বমানবতার মহাঐক্য।

Oplus_0

এই হজ্জের সূচনা সেই ইতিহাসের গভীর থেকে, যেখানে পিতা ইবরাহিম (আ.) তাঁর একমাত্র পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে আল্লাহর আদেশে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। যে কা’বা ঘর তাঁর হাতে নির্মিত, সেই ঘরের চারপাশেই আজ কোটি মানুষের কান্না, তাওয়াফ, প্রার্থনা, নিঃশ্বাস। কত শত বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও ইবরাহিম (আ.)-এর সেই আহ্বান—“আসো, তোমার প্রভুর ঘরে”—আজও প্রতিধ্বনিত হয় মিনার বাতাসে, আরাফার স্তব্ধতায়।

হজ্জ মানুষকে শিখিয়ে দেয় কীভাবে নতজানু হতে হয় এক মহান সত্তার সামনে। সেখানে নেই কোনো অহংকার, নেই কোনো রাজকীয়তা, নেই কোনো পার্থিব শ্রেষ্ঠত্ব—আছে কেবল আত্মবিসর্জন, কেবল ফিরে আসা, এক অনবদ্য অনুতাপে নিজের ভুলগুলো মুছে ফেলার ইচ্ছা। হজ্জ যেন একটি জীবন্ত দিগন্ত, যেখানে মুমিন তার অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন এক আলোয় উদিত হয়।

যারা হজ্জ করেন, তারা ফিরে আসেন অন্য রকম হয়ে। চোখে থাকে এক গভীর শান্তি, কণ্ঠে থাকে বিনয়ের ঝরনা, হৃদয়ে থাকে নতুন করে জীবন শুরু করার স্পর্ধা। হজ্জ যেন এক স্বর্গীয় পুনর্জন্ম—যেখানে মানুষ নিজেকে ফিরে পায় আরও পবিত্র, আরও সত্যনিষ্ঠ এক মানুষ হিসেবে।

হজ্জের প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি সূর্যোদয়ে ও প্রতিটি অশ্রুজলে ফুটে ওঠে ইসলামের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য—যেখানে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য। এমন ইবাদত এই পৃথিবীতে আর নেই, যা এতো সরল, অথচ এতো গভীর; এতো নিরব, অথচ এতো প্রভাবশালী।

এই ইবাদতের মাহাত্ম্য কেবল আখিরাতের প্রাপ্তিতে নয়, বরং দুনিয়ার জীবনেও এটি এক নতুন আবর্তন। হজ্জের পর এক মুসলিম যদি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তিত না হন, তবে সেই সফর কেবল ভ্রমণই থেকে যায়। কিন্তু যিনি অন্তর দিয়ে হজ্জ করেন, তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় হয়ে ওঠে যেন এক চলমান তাওয়াফ—আল্লাহর দিকে ফিরে ফিরে আসার অবিরাম সাধনা।

হজ্জ তাই কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি এক জীবনদর্শন, একটি নিরব বিপ্লব, যা মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে এনে দেয় আলোর নিরবধি ছায়া।

“হজ্জ হলো এক আধ্যাত্মিক উল্লম্ফন—যেখানে মুমিন তার সমস্ত ভার ঝেড়ে ফেলে হালকা হয়ে যায় আল্লাহর রহমতের আকাশে।”

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ৪০০ কর্মকর্তা নিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ৪০০ কর্মকর্তা নিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন।বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টদের একাধিক সূত্র সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছে। সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর ভারত ও চীনের সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। তাঁর এই সফর নিশ্চিত হলে, এটি হবে সাত বছর পর শির প্রথম ভারত সফর।

ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সে সম্মেলনে শির সম্ভাব্য উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার দিকে আলোকপাত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।

শির সম্ভাব্য সফর সামনে রেখে চীনা কর্মকর্তারা এরই মধ্যে হোটেল বুকিং এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ভারত সফরে ২০০ জন কর্মকর্তা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন।

আমেরিকার ‘দ্য রিপাবলিক’-এর পাতায় ইংল্যান্ড প্রবাসী মনসুর নোমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লেখার জগতে দীর্ঘদিনের পথচলার পাশাপাশি ক্যামেরার লেন্সেও প্রকৃতি ও জীবনের গল্প তুলে ধরছেন শাহ মনসুর আলী নোমান। প্রকৃতির বৈচিত্র্য, মানুষের জীবন এবং নান্দনিক মুহূর্ত তাঁর আলোকচিত্রের প্রধান অনুষঙ্গ। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য,ভৌগোলিক পরিসর বদলালেও তাঁর এই সৃজনশীল চর্চায় ছেদ পড়েনি।সম্প্রতি তাঁর সেই আলোকচিত্রচর্চায় যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন অধ্যায়।

ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলি থেকে ধারণ করা তাঁর একটি প্রকৃতিনির্ভর ছবি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ‘দ্য রিপাবলিক’-এর ৮ আগস্ট ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। ছবিটি পত্রিকাটির ‘ঞধশব ণড়ঁৎ ইবংঃ ঝযড়ঃ’ বিভাগে নির্বাচিত আলোকচিত্র হিসেবে স্থান পেয়েছে।

একই দিনে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণেও ‘ঞধশব ণড়ঁৎ ইবংঃ ঝযড়ঃ: ঝযধয গড়হংঁৎ অষর ঘঁসধহ’ শিরোনামে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্য থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘দ্য রিপাবলিক’ ১৮৭২ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি পত্রিকাটির ‘টেক ইয়োর বেস্ট শট’ বিভাগে নির্বাচিত আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়।

জানা গেছে, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শাহ মনসুর আলী নোমান পেশাগত জীবনে শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি কলাম ও ফিচার লেখায়ও সক্রিয়। তাঁর লেখায় সমাজ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি ও আলোকচিত্র চর্চার প্রতি অনুরাগ শাহ মনসুর আলী নোমানকে সৃজনশীল এই দুই জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রেখেছে। তাঁর কলাম, প্রতিবেদন ও আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী সংবাদপত্রে।বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ইঁৎহষবু ঊীঢ়ৎবংং, খধহপধংযরৎব ঞবষবমৎধঢ়য এবং ইইঈ বাংলা’র প্রবাহ অনুষ্ঠানেও তাঁর ধারণকৃত ছবি স্থান পেয়েছে।

মনসুর নোমান লেখালেখিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি কর্তৃক ২০২৫ সালের সেরা ফিচার লেখক’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।রিপাবলিকের মতো ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম দৈনিক সংবাদপত্রে কোনো আলোকচিত্র প্রকাশিত হওয়া নিঃসন্দেহে শাহ মনসুর আলী নোমান এর সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতি এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমসাময়িক সমাজ, পরিবেশ দূষণ, নদীভাঙন, পাহাড় কাটা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্থানীয় অবকাঠামো সমস্যা, যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংস্কৃতি, প্রশাসন, রাজনীতি ও মানবাধিকার,এই বিষয়গুলো তাঁর লেখার প্রধান ক্ষেত্র। তাঁর একাধিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বাস্তব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে।

তাঁর লেখা কলাম, নিবন্ধ, প্রতিবেদন ও আলোকচিত্র দেশে-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ইংল্যান্ডে আসার আগে তিনি নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শাহ মনসুর আলী নোমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমজিএস (দ্বিতীয় মাস্টার্স) সম্পন্ন করে মেধাক্রমে ব্যাচে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও মনসুর নোমানের রয়েছে সক্রিয় ও বহুমাত্রিক সম্পৃক্ততা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে আসছেন।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ