সমাজে ক্রমশ নীতি-নৈতিকতাহীন অমানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম

নীতিহীন সমাজ যে উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর, অনিশ্চিত ও অসহিষ্ণু হয়, তার ভুরিভুরি উদাহরণ আছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির সেরা জীব। সেটা তার বিবেকবোধ বা আচরণগত কারণের জন্যই। মানুষের যে গুণটি সবার আগে থাকা উচিত সেটি হচ্ছে মানবিকতা। মানুষকে মানুষ বলা হয় কারণ তার মধ্যে মানবিকতা আছে, বোধ-বিবেক আছে, হিতাহিত জ্ঞান আছে, ভালো-মন্দ যাচাই করার সক্ষমতা আছে যা অন্য কোনো প্রাণী বা জীবের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

প্রত্যেক সমাজে তার সদস্যদের আচরণ পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি থাকে। নীতিহীন সমাজ হয় উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর ও অনিশ্চিত। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় হলে সমাজে নেমে আসে অধঃপতন। তখন মানুষের ভেতর ভর করে পশুত্ব। চারপাশে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা আমাদের অবলোকন করতে হয় যে মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে- মানুষের বিবেকবোধ কি বিলুপ্ত হয়ে গেল?

নীতিহীন সমাজ যে উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর, অনিশ্চিত ও অসহিষ্ণু হয়, তার ভুরিভুরি উদাহরণ আছে আমাদের চারপাশে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে মানুষের মধ্যে দেখা দেয় নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। সমাজ ও পরিবারে বেজে উঠছে ভাঙনের সুর। নষ্ট হচ্ছে পবিত্র সম্পর্কগুলো। চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান বেশি হয়ে যাওয়ার ফলে বাড়ছে আত্মহত্যাসহ নানা অপরাধপ্রবণতা।

মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবসহ সম্পর্কের এমন নির্ভেজাল জায়গাগুলোতে ফাটল ধরেছে। ঢুকে পড়েছে অবিশ্বাস। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কেও সৃষ্টি হচ্ছে আস্থার সংকট। সমাজে প্রায় প্রতিটি সম্পর্কই নড়বড়ে হয়ে গেছে। ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা, শ্রদ্ধাবোধের বদলে সম্পর্কগুলোতে প্রাধান্য পাচ্ছে বৈষয়িক নানা বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ের শিশুহত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, সন্ত্রাস, নকলপ্রবণতা, খাদ্যে ভেজাল, নকল ওষুধ ইত্যাদি সমাজের করুণ রূপ। সমাজের মানুষ কেউ যেন কারো বন্ধু নয়। প্রত্যেকে পরোক্ষভাবে একে-অপরের ক্ষতিসাধনে মগ্ন।

যে মানুষের ভিতরে মনুষ্যত্ব নেই সে মানুষ পশুর সমান। মানুষগৃহে জন্মগ্রহণ করলেই মনুষ্যত্বের অধিকারী হওয়া যায় না। এজন্য প্রয়োজন হয় কঠোর সাধনার। জ্ঞান আহরণ, সংস্কৃতি চর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ নিজের বুদ্ধি ও বিবেককে বৃদ্ধি ও বিকশিত করতে পারে। অন্য কোনো প্রাণী বা বৃক্ষলতা তা পারে না। জন্মের পর তাদের শুধু দৈহিক বৃদ্ধি হয়, কিন্তু মনের বিকাশ হয় না। কিন্তু তরুলতা ও পশুপাখির তুলনায় মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। জন্মের সময় মানুষ পশু প্রবৃত্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। জন্ম পরবর্তী সময়ে বিদ্যা–শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে মানবিক গুণসম্পন্ন হয়।

এ মানবিক গুণই তাকে তরুলতা ও পশুপাখি থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে। তাছাড়া জীবন চলার পথে মানুষের অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। এ প্রয়োজন মিটানোর জন্য মানুষকে একে একে অনেক কিছুই আবিষ্কার করতে হয়; যা তরুলতা কিংবা পশুপাখির বেলায় কল্পনাও করা যায় না। এ আবিষ্কারের জন্যও মানুষকে দীর্ঘ গবেষণা করতে হয়। প্রকৃতির নিয়মে জন্মলাভ করেই তরুলতা ও পশুপাখি তরুলতা ও পশুপাখি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু মানুষ হওয়ার জন্যে মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জন করা খুবই কঠিন। প্রাণপণ চেষ্টা ও নিরবচ্ছিন্ন সাধনার মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়।

সম্প্রতি হোমনা থেকে মুরাদনগরে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসা এক নারীকে পাঁচকিত্তা গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে ফজর আলী কৌশলে ঘরের দরজা খুলে ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকজন লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগী নারীকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে ভিডিও ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার করেন পুলিশ ৫ জনকে।

এমন আরো অনেক অপরাধই সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এমন সব সংবাদ আমরা গণমাধ্যমে দেখি, তাতে আমাদের শিউরে উঠতে হয়। এসব ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সমাজে ক্রমশ নীতি-নৈতিকতাহীন অমানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, আর আমরা হারিয়ে ফেলছি সামাজিক মূল্যবোধ।

সামাজিক মূল্যবোধ তথা ধৈর্য, উদারতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃষ্টিশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি লোপ পাওয়ার কারণেই সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়, মানুষের মধ্যে বেড়ে যায় নানা অপরাধপ্রবণতা। যা বর্তমান সমাজে প্রকট। সামাজিক নিরাপত্তা আজ ভূলুণ্ঠিত। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি এ থেকে মুক্তি পাব না?

মানুষ কি মানুষের প্রতি সহনশীল হবে না? এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া কঠিন হলেও এর প্রতিকারের উপায় আমাদের বের করতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করি, মানুষের বিবেক জাগ্রত হবে। সমাজে ফিরে আসবে নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন যোগদানের পথে দুর্ঘটনার শিকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। কর্মস্থলে যোগ দিতে আসার সময় সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় কুমিরা এলাকায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিকে একটি মিনিবাস ধাক্কা দেয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজেদুর বলেলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। বড় কুমিরা নতুন সড়ক এলাকায় এলে পাশ থেকে একটি মিনিবাস আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে এক পাশের কাচ ভেঙে যায় এবং ওই পাশটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
তিনি জানান, গাড়ির ভাঙা কাচ মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে। একটি ঝাঁকুনি লাগে। পরে দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সটি রেখে চট্টগ্রাম অফিসের গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলে আসেন।

এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলমকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজেদুরকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি করা কর্মকর্তাদের ২৪ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ২৫ আগস্ট থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন তারা।

শহীদ মিনারের জায়গা দখলের চেষ্টা, বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্মৃতিসৌধের পশ্চিম পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কথিত বিএনপি নেতা মো. সোহেল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কথিত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে মো. সোহেল হোসেন, পিতা মৃত বাবু হোসেন,সাং মসজিদপাড়া, ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও গোপনে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে আবারও ওই জায়গায় নির্মাণকাজ চালিয়ে দখলের চেষ্টা হতে পারে।সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিসৌধের পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে রেলওয়ের জায়গায় নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরে এলে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকলু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুজন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাইজিদ বোস্তামীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল উচ্ছেদ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দখল উচ্ছেদ করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. সোহেল হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ