কাস্টমসে পণ্য শুল্কায়নের কার্যক্রম চলছে স্বস্তিতে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কাস্টমসে আমদান-রফতানি পণ্য শুল্কায়নের কার্যক্রম ফের আগের মতো চলছে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর দুইদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে রফতানি পণ্য প্রবেশ ও আমদানি পণ্য সরবরাহ এবং জাহাজে পণ্য ওঠানামাসহ সবধরনের কার্যক্রম পুরোদমে সচল হয়েছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পর রাতেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আজ (সোমবার) সকাল থেকে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত সবধরনের কার্যক্রম একেবারে পুরোদমে শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন দাবিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে গত শনিবার থেকে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম কাস্টমসে সবধরনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। শুল্কায়নের পর কাস্টমস নথি ছাড় না করায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে কনটেইনার বের হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে বেসরকারি ডিপো থেকে রফতানি পণ্য নিয়ে কনটেইনার বন্দরে প্রবেশও বন্ধ হয়ে যায়।

একইসাথে দেশের সব কাস্টম হাউজ ও শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ অবস্থায় রোববার রাতে ঢাকায় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতারা।

কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পর ওই রাত থেকেই মূলত সচল হতে শুরু করে চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দর। সচল হয় বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোও। সোমবার সকাল থেকে কাস্টমস প্রাঙ্গনে পণ্যছাড়ের নথি নিয়ে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্টদের আনাগোণা দেখা যায়। বন্দরেও কনটেইনারবাহী ভারি যানবাহনের প্রবেশ ও পণ্য নিয়ে কনটেইনার বের হতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বন্দরে এখন আর কোনো অচলাবস্থা নেই। দ্রুতগতিতে কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। আটকে থাকা কনটেইনারগুলোও জাহাজে তোলার জন্য বন্দরে আসছে। সব কার্যক্রম একদম স্বাভাবিক আছে। গত দু’দিনে কিছু কনটেইনার জমে গেছে। আমরা দ্রুত সেগুলো ডেলিভারি দিয়ে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করছি।

সূত্রমতে, দুইদিনের অচলাবস্থার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় পাঁচ হাজার অতিরিক্ত কনটেইনার জমে যায়। গত রোববার রাতে কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর বন্দরের জেটিতে ‘এমভি আমালফি বে’ নামে একটি জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস শুরু হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত ওই জাহাজ থেকে ৩১০টি কনটেইনার খালাস হয়েছে। এছাড়া রাতভর কনটেইনার তোলার পর একটি জাহাজও সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ছেড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক হিসেবে) কনটেইনার রাখার জায়গা আছে। তবে ৪০ হাজার টিইইউসের বেশি কনটেইনার ডেলিভারির জন্য বন্দরের ভেতরে অপেক্ষমাণ থাকলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে এবং দ্রুত জট পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন যোগদানের পথে দুর্ঘটনার শিকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। কর্মস্থলে যোগ দিতে আসার সময় সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় কুমিরা এলাকায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিকে একটি মিনিবাস ধাক্কা দেয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজেদুর বলেলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। বড় কুমিরা নতুন সড়ক এলাকায় এলে পাশ থেকে একটি মিনিবাস আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে এক পাশের কাচ ভেঙে যায় এবং ওই পাশটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
তিনি জানান, গাড়ির ভাঙা কাচ মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে। একটি ঝাঁকুনি লাগে। পরে দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সটি রেখে চট্টগ্রাম অফিসের গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলে আসেন।

এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলমকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজেদুরকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি করা কর্মকর্তাদের ২৪ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ২৫ আগস্ট থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন তারা।

শহীদ মিনারের জায়গা দখলের চেষ্টা, বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্মৃতিসৌধের পশ্চিম পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কথিত বিএনপি নেতা মো. সোহেল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কথিত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে মো. সোহেল হোসেন, পিতা মৃত বাবু হোসেন,সাং মসজিদপাড়া, ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও গোপনে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে আবারও ওই জায়গায় নির্মাণকাজ চালিয়ে দখলের চেষ্টা হতে পারে।সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিসৌধের পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে রেলওয়ের জায়গায় নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরে এলে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকলু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুজন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাইজিদ বোস্তামীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল উচ্ছেদ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দখল উচ্ছেদ করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. সোহেল হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ