মহাকাশ গবেষণায়-পাবনা ভাঙ্গুড়ার কৃতিসন্তান মোঃ জয়নুল আবেদীন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনা প্রতিনিধিঃ মানুষের জ্ঞানপিপাসা সীমাহীন।সেই জানার তৃষ্ণাই মানুষকে ছুটিয়ে নিয়ে যায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে,ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একসাথে বসিয়ে শেখায় নতুন কিছু জানার জিজ্ঞাসা,আনন্দ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে মহাকাশ গবেষণা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আজ বিশ্বের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। আর সেই অগ্রযাত্রায় নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে এক বিরল সৌভাগ্য, এক অনন্য অর্জন।

জাতিসংঘ অনুমোদিত Centre for Space Science and Technology Education in Asia and the Pacific (CSSTEAP)–এর মর্যাদাপূর্ণ Post Graduate Course on “Satellite Meteorology and Global Climate”–এ উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন আমাদের পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার গর্ব, কৃতি সন্তান মোঃ জয়নুল আবেদীন, পিতা মোঃ শাজাহান আলী, গ্রাম কলকতি, থানা ভাঙ্গুড়া, জেলা পাবনা।এ অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়-বরং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার মাইলফলক।

আমরা তার এই অসাধারণ সাফল্যে গর্বিত,আনন্দিত এবং আশাবাদী।স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ“উপগ্রহ” শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Satellite—অর্থাৎ উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি একই বিষয়।

স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এমন এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন যার মাধ্যমে যোগাযোগ, পরিবহন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মহাকাশ থেকে তথ্য প্রেরণ-সবই সম্ভব হচ্ছে।

আজ আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আমাদের জলবায়ু, সম্পদ ও বৈশ্বিক ঘটনাবলীর রিয়েল-টাইম তথ্য দিচ্ছে, ফলে পৃথিবী হয়ে উঠছে আরও সংযুক্ত, নিরাপদ ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ (smart)।

এটি কেবল নিরাপত্তা বা তথ্য বিনিময়ের জন্য নয়—বরং পৃথিবীর পরিবর্তিত জলবায়ু ব্যবস্থাকে বুঝতে, ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে এবং মানবজীবনকে টেকসই করতে এক অপরিহার্য হাতিয়ার।চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অবদানস্যাটেলাইট প্রযুক্তি এখন চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

টেলিমেডিসিন ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক্তাররা এখন দূরবর্তী বা প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন, অনলাইনে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারেন, এমনকি জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক নির্দেশনাও দিতে পারেন।

উপগ্রহের মাধ্যমে জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ম্যালেরিয়া, কলেরা বা অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্যাটেলাইট যোগাযোগ হাসপাতাল, উদ্ধার দল ও সহায়তা সংস্থাগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত রাখে-ফলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো যায়।

অর্থাৎ, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আজ জীবন বাঁচানোর এক নিরব বিপ্লব।জাতীয় নিরাপত্তায় স্যাটেলাইটের ভূমিকা-
যুদ্ধক্ষেত্রেও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। এটি সামরিক বাহিনীকে রিয়েল-টাইম যোগাযোগ, নেভিগেশন ও নজরদারি সুবিধা দেয়।

রিকনাইসেন্স স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থানের উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি পাওয়া যায়,জিপিএস স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অস্ত্র ও সৈন্যদের নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

উপগ্রহভিত্তিক প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করতে পারে, মহাকাশ থেকে দ্বন্দ্বপূর্ণ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে।
এইভাবে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আজ স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শান্তির রক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেবাংলাদেশের গর্ব,ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা-

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার অঙ্গনে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উপর উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে মোঃ জয়নুল আবেদীন শুধু নিজের নয়, বাংলাদেশেরও মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন।আমরা বিশ্বাস করি-তার এই পথচলা আরও বহু তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে, যারা একদিন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

মোঃ জয়নুল আবেদীন এর এই সাফল্য হোক বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
তিনি যেন বাংলাদেশের জন্য আরও সম্মান, আরও সাফল্য বয়ে আনেন -এই প্রত্যাশা ও আন্তরিক প্রার্থনা রইলো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ