চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা প্রতিবেদনে অভিজ্ঞতা সনদ জাল প্রমাণিত, ফের পদোন্নতির তদবির।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে জাল অভিজ্ঞতা সনদ দিয়ে চাকুরী নেন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল আজিজ। পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিজ্ঞতার সনদটি জাল প্রমানিত হলে তিনি বরখাস্তও হন। পরে তদন্ত কমিটি মানবিক কারণ দেখিয়ে তাকে চাকুরীতে ফের যোগদানের সুপারিশ করেন। এখনও বহাল রয়েছেন তিনি। বর্তমানে নির্বিঘ্নে পদোন্নতির তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে অবৈধ পন্থায় আজিজকে টাইম স্কেল প্রদান করায় বোর্ডের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান। অপরাধের পরও সনদ জালিয়াতকারী আজিজের কোন শান্তি না হওয়ায় অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, কোন বিধান আছে কি না জানি না, চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত আপাতত প্রত্যাহারে পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল নিতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সেকশন অফিসার পদে লোক নিয়োগের জন্য ১৯৯৫ সালে ৫ ডিসেম্বর পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেকশন অফিসার পদে নিয়োগে ডিগ্রি পাসসহ ৪ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। আবদুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি ১৯৯২ সালের ১ মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত কানায় কানায় ৪ বছর দেখিয়ে এলজিইডি অফিসের জাল অভিজ্ঞতা সনদ তৈরি করে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ লাভ করে।তবে আবদুল মালেক নামে এক ব্যক্তি আজিজের সনদ জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এক হাজার টাকা ফি দিয়ে আবদুল আজিজ, সেকশন অফিসার-এর বিরুদ্ধে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ দাখিল করে।

অভিযোগ পেয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব প্রফেসর নুরুল হুদার স্বাক্ষরে প্রফেসর সুচারু বিকাশ বড়ুয়া, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রামকে আহ্বায়ক ও জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সহযোগী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম এবং জনাব এনামুল হক খন্দকার, উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শককে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর। গঠিত কমিটি ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে আবদুল মালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম-এর চেয়ারম্যান বরাবরে ডাকযোগে প্রেরিত এক পত্রের মাধ্যমে অভিযোগ করে, মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ০১/০৩/১৯৯২ইং হতে ০১/০৩/১৯৯৬ইং পর্যন্ত এলজিইডি অফিসে দৈনিক ভিত্তিক অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মর্মে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ প্রদান করে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ লাভ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত করে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ উপস্থাপন করেন।

এতে রয়েছে এলজিইডি, চট্টগ্রাম অফিস থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা সনদ যথার্থভাবে যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি ২০১০ সালের ৩ মার্চ নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, চট্টগ্রাম বরাবরে সরেজমিনে তদন্তের জন্য পত্র প্রেরণ করেন। সে মোতাবেক ওই বছরের ১৪ মার্চ তদন্ত কমিটির আহ্বায়কসহ সকল সদস্য এলজিইডি, চট্টগ্রাম অফিসে উপস্থিত হন। এলজিইডি, চট্টগ্রাম-এর নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি তখনকার সহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। সহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমান তদন্তের বিষয়ে মোতাবেক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক-এর এলজিইডি অফিসে চাকরির মেয়াদকাল, চাকরি থেকে অব্যাহতিপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের কোন কিছুই দেখাতে সক্ষম হয়নি।

এদিকে আবদুল আজিজকে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিপরীতে কোন প্রমাণাদি আছে কিনা তা তদন্ত কমিটির নিকট উপস্থাপনের জন্য ওই বছরের ২৪ মার্চ পত্র প্রেরণ করা হলে তিনি ৩১ মার্চ কমিটির সমুখে উপস্থিত হন। এতে মোহাম্মদ আবদুল আজিজ এলজিইডি অফিসের চাকরির নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, চাকরি থেকে অব্যাহতিপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের কপি উপস্থাপন করতে পারেনি।

তদন্ত কমিটি কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, আবদুল আজিজ অভিজ্ঞতা সনদ জাল করে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ লাভ করেন। ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল তদন্ত কমিটি কর্তৃক দাখিল প্রতিবেদনে সনদ জালের অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই বছরের ১৫ মে আবদুল আজিজকে এলজিইডি অফিসে চাকরির প্রমাণপত্র দাখিলের জন্য ইস্যু করা হয়। পত্রে উল্লেখ করেন, আপনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলজিইডি অফিস, চট্টগ্রাম হতে আপনি

০১/০৩/১৯৯২ইং থেকে ০২/০৩/১৯৯৬ইং তারিখ পর্যন্ত ৪ বছর চাকরি দাবি করেন। উক্ত অফিসের কোন প্রমাণ বা রেকর্ডপত্র তদন্ত কমিটির কাজে প্রদর্শন করতে পারেনি। যদি আপনার দাবি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে গ্রহণযোগ্য যে কোন দালিলিক প্রমাণ যেমন চাকরির নিয়োগপত্র, অব্যাহতিপত্র, মজুরি/বেতন গ্রহণের প্রমাণপত্র ইত্যাদি০৩ কর্মদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যান বরাবরে দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া হবে যে, আপনি এলজিইডি অফিস, চট্টগ্রামে কখনো চাকরি করেননি এবং চাকরি না করেই আপনি কথিত অভিজ্ঞতা সনদ সংগহ করে বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতারণা করেছেন।

আজিজ কোন দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় অসদাচরণের দায়ে স্মারক নং-২০০৪(৬), তারিখ: ২০/০৬/২০১০ মূলে আজিজের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫-এর বিধি-৩(বি) ও (ডি) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুষ্ঠুভাবে বিভাগীয় মামলা পরিচালনার স্বার্থে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে আজিজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারক নং-২১৩০(৪), তারিখ: ১২/০৮/২০১০ মূলে মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন উপ-পরিচালককে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তবে মানবিক কারণের কথা বলে তাড়াতাড়ি করে কমিটির এখতিয়ার বহির্ভূত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনটি নথিতে উপস্থাপন করলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ নথিতে এই মর্মে অনুমোদন দেন, বিভাগীয় তদন্ত কমিটি তদন্তের গভীরে না গিয়ে মানবিক দিক বিবেচনায় এনেছিল। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে, আপাতত প্রত্যাহার করা সাময়িক বরখাস্ত আদেশ কত দিন, কত মাস, কত বছর থাকবে কোন বিধিতে আছে জালিয়াতকারী প্রমাণিত না হওয়ার পর মানবিক কারণে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ আপাতত প্রত্যাহারের নিয়ম? শুধু তাই নয়, সাময়িক বরখাস্ত আদেশ আপাতত প্রত্যাহার করার পর আজিজ তথ্য গোপন করে সুকৌশলে টাইম স্কেলের জন্য আবেদন করেন। টাইম স্কেল কমিটির আহ্বায়ক ঠিক সেই ব্যক্তি, যাকে আহ্বায়ক করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তার দ্বারা রহাস্যজনক কারণে আজিজের পক্ষে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে টাইম স্কেল প্রদানে সহায়তা করেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেকশন অফিসার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতা দেখিয়ে ফ্যাসিস্ট আজিজ সনদ জালিয়াতি, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণ, টেন্ডার করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ফলাফল জালিয়াতি, নারায়ণ গংদের সাথে ১৮ কোটি টাকার খাতা ক্রয়, ঘুষ নেওয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে আজিজ জড়িত। বর্তমান যে অস্থির হয়ে আছে সকল তথ্য গোপন করে পদোন্নতি পেতে। তা যদি হয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে বলে কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ