বোয়ালখালীতে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ডা. আবু নাসেরের সমর্থনে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বয়কটের স্লোগান প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বোয়ালখালী উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এ উপলক্ষে আজ ২৫ জানুয়ারি (রবিবার) বিকালে বোয়ালখালীতে এনসিপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণ-অভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ নামে গঠিত দশ দলীয় জোটে অংশগ্রহণ করেছে। বিষয়টি দেশবাসীর কাছে সুস্পষ্ট ও অবগত।

জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সারা দেশে ৩০টি আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে দুঃখজনকভাবে কয়েকটি আসনে জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর তৎপরতা ও অসহযোগিতামূলক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দশ দলীয় জোটের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রামে এনসিপিকে একটি মাত্র আসন চট্টগ্রাম-৮ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী এনসিপির পক্ষ থেকে জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। একইসঙ্গে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র জমা দেন।

তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির প্রার্থীরা জোট মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও, দশ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে একটি বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামি চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. আবু নাসেরের সরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধনে বোয়ালখালী এলাকায় জোট মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল আয়োজন করা হয় এবং সেখান থেকে “এনসিপি বয়কট” স্লোগান দেওয়া হয়।

এনসিপি নেতারা বলেন, এ ধরনের স্লোগান ও কর্মকাণ্ড দশ দলীয় জোটের ঐক্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং রাজনৈতিকভাবে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনভিপ্রেত। বোয়ালখালী উপজেলা এনসিপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দশ দলীয় জোটের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা বিভাজনমূলক স্লোগান এনসিপি কখনোই মেনে নেবে না। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তি, দশ দলীয় জোট এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমিরের সিদ্ধান্তকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ প্রেক্ষাপটে বোয়ালখালী উপজেলা এনসিপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নিকট সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আদৌ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যদি চট্টগ্রাম-৮ আসন এনসিপিকে বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তবে দশ দলীয় জোটের সকল শরিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে জোট মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। অন্যথায় জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দ্বৈত আচরণ ও অসহযোগিতা চলতে থাকলে জোট গঠনের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

সবশেষে, দশ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলা হয়—জোটকে কার্যকর, শক্তিশালী ও টেকসই রাখতে হলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী সংক্রান্ত সংকট দ্রুত, স্পষ্ট ও চূড়ান্তভাবে সমাধান করতে হবে। একইসঙ্গে সকল শরিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, জনমত নির্বিশেষে বোয়ালখালী তথা চট্টগ্রাম-৮ আসনে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর প্রার্থীকে বিজয়ী করে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম যুগ্ম সমন্বয়কারী চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপি, প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন বোয়ালখালী এনসিপি প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন, আবরার হাবিব যুগ্ম সমন্বয়কারী বোয়ালখালী এনসিপি,ফয়সাল রায়হান , যুগ্ম সমন্বয়কারী বোয়ালখালী এনসিপি,সাঈদ বিন ইব্রাহিম যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপি।সদস্য আকতার আশিকি, শাহনেওয়াজ মাহিন বোয়ালখালী এনসিপি সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন যোগদানের পথে দুর্ঘটনার শিকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। কর্মস্থলে যোগ দিতে আসার সময় সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় কুমিরা এলাকায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিকে একটি মিনিবাস ধাক্কা দেয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজেদুর বলেলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। বড় কুমিরা নতুন সড়ক এলাকায় এলে পাশ থেকে একটি মিনিবাস আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে এক পাশের কাচ ভেঙে যায় এবং ওই পাশটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
তিনি জানান, গাড়ির ভাঙা কাচ মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে। একটি ঝাঁকুনি লাগে। পরে দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সটি রেখে চট্টগ্রাম অফিসের গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলে আসেন।

এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলমকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজেদুরকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি করা কর্মকর্তাদের ২৪ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ২৫ আগস্ট থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন তারা।

শহীদ মিনারের জায়গা দখলের চেষ্টা, বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্মৃতিসৌধের পশ্চিম পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কথিত বিএনপি নেতা মো. সোহেল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কথিত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে মো. সোহেল হোসেন, পিতা মৃত বাবু হোসেন,সাং মসজিদপাড়া, ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও গোপনে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে আবারও ওই জায়গায় নির্মাণকাজ চালিয়ে দখলের চেষ্টা হতে পারে।সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিসৌধের পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে রেলওয়ের জায়গায় নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরে এলে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকলু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুজন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাইজিদ বোস্তামীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল উচ্ছেদ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দখল উচ্ছেদ করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. সোহেল হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ