চট্টগ্রাম ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমবে আট আসন

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে জোরেশোরে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসায় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ ) আসনের প্রার্থীরা প্রতিদিন মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছেন।সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বিভিন্ন দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম শহরের লাগোয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ )সংসদীয় আসনটি। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৪২ জন। বোয়ালখালী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন। জয়-পরাজয়ের নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বোয়ালখালী উপজেলা। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন বোয়ালখালী উপজেলায়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. মো: আবু নাছের,১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফ,বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী মোমবাতি প্রতীকে সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী আপেল প্রতীকে মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ নুরুল আলম ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।ভোটার মতে, এই আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারণায় এই ৩ প্রার্থীই দৃশ্যত এগিয়ে।

বোয়ালখালীবাসী মনে করছেন এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংখ্যালঘু, নারী ও তরুণ ভোটাররা নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট। এরাই ভোটের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিবে। তাই বিএনপি, জামায়াত ও বৃহত্তর সুন্নি জোট প্রার্থী নানা কৌশল নিয়ে ভোট পরিচালনা করছেন।

ত্রিমুখী ভোটের লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে ও ভোটের ময়দানে থাকছে ‘দাঁড়িপাল্লা’। দলীয়ভাবে এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ আবু নাছেরের পক্ষে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষ ও মোমবাতির সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে জনমতে।

বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ এবং কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে আইটি ফার্ম করে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তরুণ ভোটারদের মন জয় করছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে এরশাদ উল্লাহ, দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগ ও সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে এগোচ্ছেন নির্বাচনী মাঠে।তিনি নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।তিনি বোয়ালখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিলেন জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান।স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং নিয়ে মাঠে আছেন। স্থানীয় ছেলে হিসেবে নাছেরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই এই আসনটিকে ত্রিমুখী সমীকরণে ফেলে দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত প্রার্থী বিরামহীনভাবে পথসভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণায় বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর যোগ্যতা, সক্ষমতাসহ সব বিষয় চিন্তা করে সাধারণ ভোটাররা যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটের মাঠে ততই উত্তাপ বাড়ছে। কৌশলগত কারণে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিলেও নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সাধারণ ভোটাররা খুশি। এলাকাবাসী ভোটের পরিবেশ শান্ত রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে কোটি টাকা চাঁদা চেয়েই গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাব্বির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: গত আগস্টে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ শওকতকে পাঠানো এক অডিওবার্তায় চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।চাঁদা না দেয়ায় ১০ আগস্ট রাতে শওকতের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সাব্বির হোসেন সানি (৩৪) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই সময় সাব্বির ব্যবসায়ীকে ফোনে বলেন, এক ঘণ্টা পর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সুন্দরভাবে কথা বলবে, ব্যবহার খারাপ করবে না। ভাই যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটা মাথায় রাখবে। আর যদি ছেলেপেলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তাহলে ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি দিতে হবে। ভাইয়ের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলে বিষয়টি ক্লিয়ার করে নাও।ঘটনার আড়াই মাস পর ওই অডিওবার্তা পাঠানো যুবককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার নাম সাব্বির হোসেন সানি (৩৪)। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও তিনি চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাব্বির বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। অডিওবার্তায় যে ‘বড় ভাইয়ের’ কথা বলা হয়েছে, তিনি বড় সাজ্জাদ।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, দুবাইপ্রবাসী শওকতের কাছে চাঁদা দাবিসহ তিনটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে সাব্বিরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুজনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তার নাম এসেছে। জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পাঁচলাইশ থানার মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘীর পাড় এলাকায় চাঁদার দাবিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও সাব্বির আসামি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, গত বছর বড় সাজ্জাদের নির্দেশে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন সাব্বির। এরপর তাঁর নির্দেশে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এ কাজের জন্য সাজ্জাদ তাকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দিতেন। সাজ্জাদের আরেক অনুসারী ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার বিকল্প হিসেবে সাব্বিরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সাজ্জাদ।বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে সাব্বির পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যান বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের একজন বোরহান। সাব্বির ছিলেন বোরহানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। ডেভিড ইমন গ্রেফতার হওয়ার পর বড় সাজ্জাদের আরও কাছাকাছি চলে আসেন সাব্বির।

বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু, আহত আরও ৫ জন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপিনাথপুর এলাকার বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও পাঁচজন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ