স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম # দ্বীপজেলার সেরা অর্জন ।

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহাতারকা দ্বীপান্তরের বন্দি নলিনী দাস আছে । বাঙালির শ্রেষ্ঠ সময় একাত্তরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আছে । আছে জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক । আছে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ, আছে সব্যসাচী লেখক ও রাজনীতিক মোশারেফ হোসেন সাজাহান । আছে ঢাকায় প্রথম স্মার্ট মেয়র নাজিউর রহমান মঞ্জু । বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বৃক্ষমঙ্গলের কবি নাসির আহমেদ আছে, এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত আছে ; আছে জ্ঞানীগুণী নামজাদা কতো মানুষ ।

অসংখ্য মন্ত্রী ছিলো, এমপি ছিলো ; ঝানু ঝানু নবীন প্রবীণ রাজনীতিবিদে ঠাসা এখনো পলিমাটির জেলা- বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলা ।কিন্তু কখনো স্পিকার ছিলোনা ।এবার সেই অভাব পূরণ করলো লালমোহন তজুমদ্দিনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান একাত্তরের অসম সাহসী বীরযোদ্ধা বীরবিক্রম মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বরিশালের কবি কুসুম কুমারী দাশের কবিতার সেই অমিয় পঙতি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে” হৃদয়ে ধারণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মানাসন *স্পিকার* নির্বাচিত হয়ে দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পাল্টে দিলেন জীবন্ত কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ, সুসাহিত্যিক সমাজপতি একাত্তরের রণাঙ্গনের তুমুল সেনানী মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ।

পিতা সাবেক এমপি ডাক্তার আজহার উদ্দিন আহমেদ এর ন্যায়ননীতি, সততা ও দেশপ্রেমের ধারাবাহক মেজর হাফিজ ১১৭ ভোলা ৩ আসন থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়ে যেমন রেকর্ড গড়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে তিনি ফের নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন । তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন ; দেশের মানুষও তাঁকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে । এই ভালোবাসাবাসির যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন গণতন্ত্রের ভূমিপুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান । ভোলার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে তিনি প্রথমে মুক্তিযুদধ বিষয়ক মন্ত্রী বানিয়েছেন, সততা ও যোগ্যতার বাছবিচারে জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন দিয়ে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিসংগ্রাম এবং সংগ্রামীকে অধিকতর সম্মানিত করেছেন ।্

১২ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মনোনীত হয়েছেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম । বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে ১১৭ ভোলা ৩ আসন থেকে সপ্তমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যেসব সামরিক কর্মকর্তা জীবন বাজি রেখে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম তাঁদের অন্যতম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা, সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক সম্মানিত “বীরবিক্রম”, স্বনামধন্য সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং একাধারে একজন লেখক— যাঁর জীবন বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৪ সালে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নদীবেষ্টিত বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের এই অঞ্চলটি ছিল শান্ত–সরল ও প্রকৃতিনির্ভর গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি।

শৈশবকাল থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, নিয়মশৃঙ্খলাপরায়ণ এবং আত্মসম্মানে দৃঢ়। তাঁর পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতা তাঁকে দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান তাঁর চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তখনই সুস্পষ্ট হতে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৬৮ সালে তিনি কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অফিসার হিসেবে তার সামরিক জীবনের সূচনা ঘটে। একজন অফিসার হিসেবে তিনি ছিলেন দৃঢ়, কর্তব্যনিষ্ঠ এবং অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ তাঁর নেতৃত্বগুণকে আরও পরিণত করে।
১৯৭১ সাল—বাংলার ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বীরত্বময় অধ্যায়। সেই বছরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মম গণহত্যা শুরু করলে বাঙালি অফিসাররা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সেই প্রতিরোধযোদ্ধাদের প্রথম সারির একজন ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ রূপ নিতে থাকে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন—এই বাহিনীতে থেকে নয়, বরং তাদের বিরুদ্ধে থেকেই যুদ্ধ করবেন। তিনি তাঁর ইউনিটের সৈন্যদের সাথে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রতিরোধে যুক্ত হন।
পরে তিনি পুর্ব পাকিস্তান প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। সিলেট, কানাইঘাট, ধলাই—অসংখ্য যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ও কৌশলী ভূমিকার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় অর্জন করে।

যুদ্ধের সময় তাঁর অসীম সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং অপার শান্ত–স্বভাবের নেতৃত্বে বহু অপারেশন সফল হয়েছিল। দেশের স্বাধীনতায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়—যা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। স্বাধীনতার পর সামরিক জীবনের পর্ব যুদ্ধ শেষে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্র নির্মাণের জটিলতা এবং সমাজ পুনর্গঠনে তাঁর অংশগ্রহণের ইচ্ছা তাঁকে ধীরে ধীরে ভিন্ন পথে ভাবতে বাধ্য করে। সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংবেদনশীল ও দূরদর্শী করে তোলে, যা পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় কাজে লাগে।

সামরিক জীবন শেষে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে যোগ দেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-তে । অল্প সময়েই তিনি দলের নীতি, সংগঠন ও নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। তিনি ভোলা ৩ আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি–জোট সরকারের সময়ে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নদীশাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি ব্যবস্থাপনা—এই সবখাতে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেন, যা দেশব্যাপী আলোচিত হয়। তিনি ধীরে ধীরে বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন—যা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি গণতন্ত্র, নির্বাচনব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। সংসদে, গণমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি সবসময়ই একজন যুক্তিসংগত ও দৃঢ়চেতা বক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি উপযুক্ত প্রয়োজনে নিজ দল ও নেতৃত্বের সমালোচনা করতেও ছাড়েন না।

তিনি বারবার অকপটে বলেছেন দল ও মার্কা দেখে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না করে ব্যক্তির যোগ্যতা সততা ও দেশপ্রেম দেখে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা উচিত।  প্রতিবশী দেশের সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে দেশকে বাঁচাতে ছাত্রসমাজকে সামরিক প্রশিক্ষণের বারবার তাগিদ দেন তিনি যা আজ বাংলাদেশের জন্য বাস্তবতা হয়ে দাড়িয়েছে।

রাজনীতিবিদ বা সামরিক কর্মকর্তা—এতেই তাঁর পরিচয় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি লেখক হিসেবেও অত্যন্ত প্রভাবশালী। মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সামরিক জীবনের নানা স্মৃতি, রাজনীতির জটিলতা ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি একাধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
রক্তেভেজা একাত্তর, সৈনিক জীবন : গৌরবের একাত্তর,রক্তাক্ত পঁচাত্তর, গণতন্ত্র রিমান্ডে, গৌরবাঙ্গনে ।
এইসব গ্রন্থে তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা, ত্যাগ এবং মানবিকতার বিজয়কে অত্যন্ত সরল অথচ গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখার ভাষা সহজ, প্রাঞ্জল এবং বাস্তবতার প্রতি নিষ্ঠ। রাজনীতির অভিজ্ঞতা ও সমকালীন সংকটও তাঁর লেখনীতে বিশেষভাবে ফুটে ওঠে ।
ব্যক্তি মেজর হাফিজ ♦️

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ব্যক্তিজীবনে একজন নম্র, শান্ত ও মানবিক চরিত্রের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি দেশ, মানুষ ও সংগঠন—এই তিনটিকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু মনে করেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ, কৌশলী চিন্তাশক্তি এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অসংখ্য সৈনিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।

উজ্জ্বল ইতিহাসের বীরযোদ্ধা মেজর হাফিজ ♦️
বীরমুক্তিযোদ্ধা, বীর অফিসার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, লেখক—এই সব পরিচয়ের সমষ্টিই তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ “রাষ্ট্রচিন্তক” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অবদান, রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘ পথচলা এবং লেখালেখির মাধ্যমে ইতিহাসকে সংরক্ষণ—সব মিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তাঁর জীবনপথ নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় যে—স্বাধীনতা শুধুই একটি দিনের অর্জন নয়; এটি রক্ষা, লালন এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সাহস, সততা ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন ।
এদিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত হওয়ায় লালমোহন তজুমদ্দিন সহ পুরো দক্ষিণ বাংলায় আনন্দের জোয়ার বইছে ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী বছর ২০২৭ সালে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে সাত দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে ২ নভেম্বর সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘২০২৭ খ্রিস্টাব্দের সরকারি ছুটির তালিকা’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদনের বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে সাত দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় সরকারি ছুটি উপভোগের ক্ষেত্রে কার্যকর ছুটির সংখ্যা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দরনগরীর সর্ববৃহৎ হাসপাতাল এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ (২৯ অক্টোবর) একটি পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করছে।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘এভরি মিনিট কাউন্টস’ কে সামনে রেখে অ্যাক্ট-ফাস্ট ক্যাম্পেইন শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মূলত স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে চেনা এবং রোগীকে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসার আওতায় আনাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।

এ প্রসঙ্গে, এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কাউল বলেন, “স্ট্রোক এমন একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে সময়ই সবচেয়ে বড় বন্ধু ও শত্রু হতে পারে। রোগীকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালে তার সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়বে, এবং দেরি করলে বাড়বে ঝুঁকি। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এই পেশেন্ট ফোরাম ও র‍্যালি আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে পারবো বলে আশা করছি।”

এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ-এর মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, “এ বছরের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। লক্ষণ বুঝতে দেরি হলে রোগীর সুস্থ হওয়া, এমনকি বেঁচে থাকার সুযোগও কমে যায়। আসুন সবার সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা সাধারণ জনগণকে স্ট্রোক নিয়ে আরও সচেতন করে তুলি।”

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. মোঃ আনিসুল ইসলাম খান বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছালে সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন বা থ্রম্বোলাইসিসের মতো চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতি চারজনের একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা নিস্তেজ অনুভব করা, কথা জড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণগুলো সাধারণত স্ট্রোককে ইঙ্গিত করে। স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটেই মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হতে থাকে। সময়মতো হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিলে রোগীর প্রাণ বাঁচানো ও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে—এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এই আয়োজন।

পেশেন্ট ফোরামে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কাউল; মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির; নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. মোঃ আনিসুল ইসলাম খান; নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আমিনুর রহমান (আজাদ); নিউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট এন্ড কোঅর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী ও ডাঃ মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, এ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট – নিউরোলজি।

পেশেন্ট ফোরাম শেষে আগত অতিথি, চিকিৎসক, মেডিকেল স্টাফস, রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ