চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি: চসিক মেয়র।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের গত ১৬ মাসে নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

শুক্রবার রাতে নগরের আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হলে বাসন্তী পূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বসন্ত উৎসবে উদ্যোগে বসন্ত উৎসব ও মিলন মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রীতির শহর।এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমরা চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চট্টগ্রামকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। গত ১৬ মাসে আমরা অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পেরেছি, নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি।সব ধর্মের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

এজন্য সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।সনাতনী সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে শ্মশান উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, নগরীর কয়েকটি শ্মশানঘাটে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও নতুন শ্মশান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো ধরনের উসকানি বা সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ জানাতে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।আমার দরজাও সব সময় সবার জন্য খোলা। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, এই শহর শুধু আমার নয়, আমাদের সবার। তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নালা খাল পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজার নবমী ও মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দাশ সাগর। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কান্তি চৌধুরী, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে কোটি টাকা চাঁদা চেয়েই গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাব্বির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: গত আগস্টে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ শওকতকে পাঠানো এক অডিওবার্তায় চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।চাঁদা না দেয়ায় ১০ আগস্ট রাতে শওকতের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সাব্বির হোসেন সানি (৩৪) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই সময় সাব্বির ব্যবসায়ীকে ফোনে বলেন, এক ঘণ্টা পর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সুন্দরভাবে কথা বলবে, ব্যবহার খারাপ করবে না। ভাই যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটা মাথায় রাখবে। আর যদি ছেলেপেলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তাহলে ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি দিতে হবে। ভাইয়ের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলে বিষয়টি ক্লিয়ার করে নাও।ঘটনার আড়াই মাস পর ওই অডিওবার্তা পাঠানো যুবককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার নাম সাব্বির হোসেন সানি (৩৪)। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও তিনি চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাব্বির বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। অডিওবার্তায় যে ‘বড় ভাইয়ের’ কথা বলা হয়েছে, তিনি বড় সাজ্জাদ।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, দুবাইপ্রবাসী শওকতের কাছে চাঁদা দাবিসহ তিনটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে সাব্বিরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুজনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তার নাম এসেছে। জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পাঁচলাইশ থানার মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘীর পাড় এলাকায় চাঁদার দাবিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও সাব্বির আসামি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, গত বছর বড় সাজ্জাদের নির্দেশে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন সাব্বির। এরপর তাঁর নির্দেশে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এ কাজের জন্য সাজ্জাদ তাকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দিতেন। সাজ্জাদের আরেক অনুসারী ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার বিকল্প হিসেবে সাব্বিরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সাজ্জাদ।বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে সাব্বির পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যান বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের একজন বোরহান। সাব্বির ছিলেন বোরহানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। ডেভিড ইমন গ্রেফতার হওয়ার পর বড় সাজ্জাদের আরও কাছাকাছি চলে আসেন সাব্বির।

বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু, আহত আরও ৫ জন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপিনাথপুর এলাকার বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও পাঁচজন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ