অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় : চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য নগরবাসীকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের নানামুখী পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।রোববার নগরের ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী, ২৬ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী এবং ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে চলমান নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

নালা-নর্দমায় বর্জ্য ফেলার কুফল তুলে ধরে মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিন-রাত নালা পরিষ্কার করে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিষ্কার করার পরপরই যদি আবার সেখানে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলা হয়, তবে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কখনোই সম্ভব নয়।’ তিনি নগরবাসীকে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানান।

পরিদর্শনকালে মেয়র সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আগ্রাবাদসহ কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, গুলজার খাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেট নির্মাণকাজের জন্য একটি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এই বাঁধের কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এরিয়াসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে সাময়িক ভোগান্তি হয়েছে। এই অনাকাঙ্খিত ভোগান্তির জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

মেয়র আরও বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে স্লুইস গেট নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই স্লুইস গেট নির্মাণ শেষ হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

মেয়র জানান, নগরের পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত বছর আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসনে সফল হয়েছি। বর্তমানে চলমান খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ শেষ হলে নগরবাসী এর সুফল আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে।

এ সময় মেয়র স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা আমাদের সবার সামাজিক দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, প্রতি সপ্তাহে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ ও নালা পরিষ্কার রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এই অভ্যাস ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু হয়ে একসময় গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে। তখনই চট্টগ্রামসহ দেশের শহরগুলো আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন যোগদানের পথে দুর্ঘটনার শিকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। কর্মস্থলে যোগ দিতে আসার সময় সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় কুমিরা এলাকায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিকে একটি মিনিবাস ধাক্কা দেয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজেদুর বলেলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। বড় কুমিরা নতুন সড়ক এলাকায় এলে পাশ থেকে একটি মিনিবাস আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে এক পাশের কাচ ভেঙে যায় এবং ওই পাশটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
তিনি জানান, গাড়ির ভাঙা কাচ মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে। একটি ঝাঁকুনি লাগে। পরে দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সটি রেখে চট্টগ্রাম অফিসের গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলে আসেন।

এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলমকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজেদুরকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি করা কর্মকর্তাদের ২৪ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ২৫ আগস্ট থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন তারা।

শহীদ মিনারের জায়গা দখলের চেষ্টা, বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্মৃতিসৌধের পশ্চিম পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কথিত বিএনপি নেতা মো. সোহেল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কথিত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে মো. সোহেল হোসেন, পিতা মৃত বাবু হোসেন,সাং মসজিদপাড়া, ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও গোপনে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে আবারও ওই জায়গায় নির্মাণকাজ চালিয়ে দখলের চেষ্টা হতে পারে।সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিসৌধের পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে রেলওয়ের জায়গায় নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরে এলে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকলু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুজন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাইজিদ বোস্তামীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল উচ্ছেদ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দখল উচ্ছেদ করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. সোহেল হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ