এবার বর্ষাকালে শহর ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে।

প্রেস রিলিজ

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা শীর্ষক সেমিনারে ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


এবার বর্ষাকালে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত শহর আপনারা পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, কাজেই এখানে আমি কোনো নিরাশা দেখি না। শুধু একটা বিষয়কে ভয় পাচ্ছি ওই জোয়ার, যেটা আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই।শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা : সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, আপনাদের কি মনে নেই সেই ২২-২৩ এমনিক ২৪ সালও যখন বর্ষা হয়েছে, বহদ্দারহাট থেকে রেজাউল করিম সাহেব বের হতে পারেননি কিংবা দেখেননি? তো ২৫ সালে বহদ্দারহাটে পানি উঠেছিল? উন্নতি হয়েছে তো, নাকি হয়নি? হয়েছে। আমি আপনাদেরকে কিন্তু এটা স্পষ্ট বলতে চাই, আপনারা যারা স্বচক্ষে দেখেছেন ২৩-২৪ সালে বদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর, চকবাজার পানির জন্য মানুষ বের হতে পারে নাই, ২৫ সালে মানুষ বের হতে পেরেছিল কিনা, পানির জন্য কষ্ট পেয়েছে কিনা? পায়নি। কাজেই আমাদের এত নিরাশ হওয়ার কী আছে? উন্নতি তো হয়েছে। শুধু এটুকুই বলছি চিন্তার কিছু নেই।

নগরবাসীর সেবায় আমি কোনো কম্প্রোমাইজ করিনি উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বহদ্দারহাটের যে বড় মার্কেট থেকে ২০ লাখ টাকা ভাড়া পেতাম, যেটা নালার উপর দিয়ে মার্কেট করেছিল, সেটা আমি এক বাক্যে ভেঙে দিয়েছিলাম। যার কারণে বহদ্দারহাটে পানি নেই। এছাড়া আমাদের প্রস্তুতি হচ্ছে আগামী ৬ মাসের জন্য। কারণ আমাদের যে ষড়ঋতুর দেশ এখন আর ষড়ঋতুর দেশ নাই। গ্রীষ্মের পর বর্ষা, বর্ষার পরে শরৎ আর হেমন্ত আসে নাই গত বছরে। শরৎ হেমন্ত বর্ষার মধ্যে ঢুকে গেছে। ছয় মাস আমরা বর্ষাকাল দেখেছি। জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত কিন্তু বৃষ্টি পড়েছে। কাজেই এবারও আমরা ওই চিন্তা করে ছয় মাস নিয়ে আমরা চিন্তা করছিলাম যে জুনের ফার্স্ট উইক থেকে আমাদের নভেম্বর।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সেমিনার উদ্বোধন করে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়ার মো. আরিফ ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আল আমিন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আয়েশা খানম ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনির্ভাসিটির ভিসি ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

সিটি মেয়র আরও বলেন, আজকে আমাদের মূল সমস্যা ওইখানেই, যারা সেদিন ৬ হাজার কোটি টাকা, ৯০০০ কোটি টাকা চুরি করে সিটি কর্পোরেশনকে এড়িয়ে জোর করে প্রকল্প নিয়েছিল। পরে তাদের সক্ষমতা নেই বলে তারা ভাড়া করেছে সেনাবাহিনী। সিডিএ চেয়ারম্যান মাত্র এসেছেন জুলাই-আগস্টের পরে, উনিও একজন বৈপ্লবিক নেতা, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে উনি কিন্তু এসেছেন। সততার ব্যাপারে আমি বলতে পারি উনি অত্যন্ত অনেস্ট। কাজে আমি মনে করি এখানে আসলে কারো দোষ নেই।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে কীভাবে আরও সচেতন করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকনির্দেশনা এই সেমিনার থেকে পাওয়া গেছে। খাল-নালা দখলমুক্ত করা ও খালের পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণে বিশেষজ্ঞ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে খাল ও নালায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নসরুল কদির, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জি. দেলোয়ার মজুমদার, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও ফোরাম ফর প্ল্যনড চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ড. সিকান্দর খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহ নওয়াজ, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসেসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, রাশিয়ান অনারারী কনসালটেন স্থপতি আশিক ইমরান, ঈসা আনসারী, অভিক ওসমানসহ অন্যরা।

সেমিনারে বক্তরা বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে- নালা-খালে ময়লা ফেললে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ নালা-খালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং পলিথিনমুক্ত শহর গড়ে তোলা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সেমিনার আয়োজন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সেলিম ও আবুল হাসনাত এবং উপ-কমিটির সদস্য ডেইজি মওদুদ, মো. শহিদুল ইসলাম, আরিচ আহমেদ শাহ, আবু মোশারফ রাসেল, ফারুক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ আজাদ, জামাল উদ্দিন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, মনিরুল ইসলাম মুন্না ও বাকি বিল্লাহ প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সবুজে-সৌন্দর্যে বদলে গেল অক্সিজেন চত্বর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার চিত্র পেছনে ফেলে নান্দনিক সৌন্দর্যে নতুন রূপ পেয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন চত্বর। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চত্বরটি সাজানো হয়েছে সবুজ গাছপালা, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক বিভিন্ন উপকরণে।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত অক্সিজেন মোড়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত এই এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চত্বরের মাঝের অংশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ফুলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি নান্দনিক নকশায় সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগ ও নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও সড়ক ডিভাইডারে সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্সিজেন চত্বরও পেয়েছে নতুন নান্দনিক রূপ।

এ বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সবুজায়নের আওতায় এনে নাগরিকদের জন্য সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি অক্সিজেন চত্বরের সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে ব্যস্ততম এই মোড়টি ভবিষ্যতে নগরীর অন্যতম নান্দনিক ও সবুজ স্থান হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ঘাড়ে ঝুলছে ১৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা ঋণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (চট্টগ্রাম ওয়াসা) পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে পানি সরবরাহ সহ সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে কুপরিচালনা, সীমাহীন অপচয় ও মেগা প্রকল্পের বড় ঋণের বলির পাঁঠা হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

চট্টগ্রাম নগরে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার নামে নেওয়া প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণের ভার এবার চাপতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার এক লাখ গ্রাহকের কাঁধে। দফায় দফায় দাম বাড়িয়েও ব্যাংক ও বিদেশি সংস্থার ঋণের কিস্তি মেটাতে পারছে না তারা; অথচ পানির অপচয় বা ‘সিস্টেম লস’ না কমিয়ে পানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম ওয়াসার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বর্তমানে সংস্থাটির ঘাড়ে ঝুলছে ৬ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ও বিদেশি সাহায্য সংস্থার কাছ থেকে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর ওপর চলমান তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও ৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে। এর মধ্যে ফ্রান্সের উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা এএফডিকে ১ হাজার ৮৭২ কোটি ১৩ লাখ, বিশ্বব্যাংককে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি ৭২ লাখ ও জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকাকে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ হিসাবে ওয়াসার মোট ঋণের দায় প্রায় ১৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে তিনটি প্রকল্পের ঋণ শোধ করতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত শোধ হয়েছে মাত্র ৮৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। গড়ে প্রতি বছর ২২ কোটি টাকা করে শোধ করছে তারা।অন্যদিকে গত অর্থবছরে ওয়াসা আয় করেছে ৩৩৭ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩০২ কোটি টাকা। ফলে নিজস্ব আয়ে ঋণ পরিশোধ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ সামাল দিতে সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগ থেকে পানির দাম নতুন করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসায় আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ১ হাজার লিটার পানির জন্য দাম দিতে হয় ১৮ টাকা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে যা ৩৭ টাকা। ২০০৯ সালে আবাসিক গ্রাহকদের দিতে হতো ৫ টাকা ৪১ পয়সা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ১৫ টাকা ৩২ পয়সা। এই এক দশকে চারবার পানির দাম বাড়িয়েছে ওয়াসা। এর মধ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক লাফে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। সবশেষ গত ১ আগস্ট ওয়াসার বোর্ড সভায় পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এটি পাস হলে আরও বেশি দামে পানি কিনতে হবে চট্টগ্রাম ওয়াসার গ্রাহকদের।

খোঁজে নিয়ে জানা গেল, নগরের পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এসব ঋণে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১২টি মেগা প্রকল্প। আর শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ওয়াসার এক লাখ গ্রাহককেই চুকাতে হবে বিশাল এই ঋণের দায়। যার ৯৩ শতাংশই সাধারণ আবাসিক গ্রাহক।

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, কয়েক বছর পরপর দাম বাড়ালেও সংস্থাটির ‘সিস্টেম লস’ কমাতে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। খোদ ওয়াসার নথি অনুযায়ী, তাদের সিস্টেম লস প্রায় ২০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াসার যে বিশাল ঋণের বোঝা, তা সরকারের সহায়তা ছাড়া শোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সিস্টেম লস কমাতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পানি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. খায়রুল ইসলাম বলেছেন, ওয়াসা সিস্টেম লস এক অঙ্কে নামিয়ে আনুক। এরপর গণশুনানির মাধ্যমে দাম বাড়াতে পারে। সিস্টেম লস না কমিয়ে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্যারিফ কমিশন গঠনেরও সুপারিশ তার।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে ১৮ হাজার ১৮১ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করেছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই পানি উৎপাদনে ব্যয় হয়েছিল ২৫১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতি হাজার লিটারে ১৩ টাকা। তবে পরিচালন ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩০০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি হাজার লিটারে পরিচালন ব্যয়সহ মোট খরচ সাড়ে ১৬ টাকা।

উৎপাদিত পানির ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৯৭ কোটি লিটার পানিই ‘সিস্টেম লস’-এ হাওয়া হয়ে যায়। এর ফলে প্রতি হাজার লিটার পানি উৎপাদনের পেছনে ওয়াসার খরচ ঠেকে ২১ টাকায়। এ হিসাবে ওয়াসা প্রতি হাজার লিটারে আবাসিকে লোকসান দিচ্ছে ৩ টাকা। বাণিজ্যিকে মুনাফা করছে ১৬ টাকা। সব মিলিয়ে সিস্টেম লসে ওয়াসার বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি ৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড (দৈনিক জনপ্রতি ১০০ লিটার) অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি ৮৬ লাখ লিটার পানি সিস্টেমে নষ্ট করছে। সিস্টেম লস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারলে ওই একই পরিমাণ পানি দিয়ে চট্টগ্রাম নগরের আরও প্রায় ৯ লাখ ৮৬ হাজার নাগরিককে অনায়াসে নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানির আওতায় আনা সম্ভব।

এদিকে পানি বিক্রি থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার গত অর্থবছরে আয় ২৯৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে সংস্থাটির বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩০৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ সিস্টেম লস কমালে দাম না বাড়িয়েও এই টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হতে পারে ওয়াসার।

আলোচিত খবর

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন, যোগ দেবেন ৫ কর্মসূচিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রাম আসছেন তারেক রহমান। বন্দরনগরীর বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করারও সুযোগ পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস উদ্দিপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিতে চট্টগ্রামে আসবেন। এ সফরে দলের নেতাকর্মীদের বাইরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তিনি একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বললেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী একদিনের সফরে চট্টগ্রামে আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পৌঁছাবেন। বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দুপুর ১টায় ফটিকছড়ি উপজেলায় আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন।
এরপর হাটহাজারী উপজেলায় যাবেন তারেক রহমান।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে দেবেন ১০ হাজার টাকা করে।
হাটহাজারী থেকে নগরীতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী উঠবেন পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে। সন্ধ্যায় হোটেলের হলরুমেই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সভা। রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি।


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানালেন, ‘সভায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সবাই থাকবেন। থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিটি থেকে তিন থেকে পাঁচজন করে নেতা উপস্থিত হবেন। আহ্বায়ক কমিটিতে নেই এমন কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্য যোগ দেবেন এতে।’
প্রত্যেক সহযোগী সংগঠনের নগর কমিটি থেকে দুইজন করে নেতাকে সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ