চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামকে ক্লিন সিটি হিসেবে গড়তে চাই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উপহার হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এবার চসিকের মোট ৩,২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ঈদ উপহার পেয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর আগে এবছরের ঈদুল ফিতর উপলক্ষেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে।

“পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্র্রী অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। তিনি আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে আবাসন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১,০৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ বর্গফুট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করার জন্য এই ঈদ উপহার প্রদানের সংস্কৃতি চালু করেছেন। ইনশাল্লাহ বর্ষায় পরিচ্ছন্নকর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন তার জন্য রেইনকোট প্রদানের উদ্যোগও নিয়েছি।’’

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, যার উপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া, যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

মেয়র নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে চসিক বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে, আর আমাদের দেশে এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।তিনি জানান, বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। এখন চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মেয়র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই শহর আমাদের সবার। আপনারা যদি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, সিডিএ’র বোর্ড মেম্বার জাহিদুল করিম কচি, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রি চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল ৩ প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রি, নকল চাল বাজারজাত এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে এ বি এম ফুডকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রির দায়ে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হাজী শফিউল বশর নামের প্রতিষ্ঠানকে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এ ছাড়া মেঘনা স্টোরকে নামবিহীন প্যাকেটে নকল চাল বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

পানির চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি পূরণে বাড়ছে উৎপাদন সক্ষমতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছর দৈনিক আড়াই কোটি লিটার পানি সরবরাহে যুক্ত করার টার্গেট নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে পানির চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি পূরণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। স্বল্পমেয়াদে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদে পানি শোধনাগার সম্প্রসারণ ও নতুন শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। ওয়াসার লক্ষ্য, চলতি বছর দৈনিক আড়াই কোটি লিটার পানি সরবরাহে যুক্ত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা আরও ৫০ কোটি লিটার বাড়ানো।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম যোগদান করার পর চট্টগ্রাম ওয়াসার কাজে গতি এসেছে। ওয়াসার রাজস্ব আদায়, গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ সংযোগ এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্য সংগ্রহ, কাজের গতি আনতে কর্মচারী -কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, পানি সরবরাহ বৃদ্ধিসহ একাধিক কার্যক্রমে সরকারী এ সংস্থাটির গতি ফিরেছে।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, পানির চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি পূরণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। গভীর নলকূপ স্থাপনের একটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। এর আওতায় ২০টি গভীর নলকূপ স্থাপন, ৩৫টি পরীক্ষামূলক নলকূপ খনন এবং প্রায় ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকার পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে গভীর নলকূপ স্থাপন, পাইপলাইন উন্নয়ন ও ডিজিটাল পানির মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াসার হিসাবে, চট্টগ্রাম নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কোটি লিটার। বিপরীতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি লিটার। ফলে চাহিদার তুলনায় দৈনিক ঘাটতি রয়েছে।নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাইপলাইনের অপচয় ও সিস্টেম লস কমানো গেলে নগরবাসীর পানির সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলমের বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় পানি উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ জন্য অর্থায়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানিয়েছেন, মোহরা এলাকায় দৈনিক ২০ কোটি লিটার সক্ষমতার নতুন শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়নের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ কার্যক্রম জোরদারের পর চট্টগ্রাম ওয়াসার মাসিক রাজস্ব আদায় ২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে যেখানে মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের রাজস্ব আদায়ের হিসাব অনুযায়ী, মোট আদায়ের মধ্যে পানির বিল থেকে এসেছে ২৬ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে চলতি বিল বাবদ ১৪ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার টাকা এবং বকেয়া বিল থেকে আদায় হয়েছে ১২ কোটি ১৪ হাজার টাকা।এ ছাড়া সারচার্জ থেকে ৮০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, গভীর নলকূপ ফি বাবদ ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নতুন সংযোগ খাত থেকে ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
ওয়াসা সূত্র জানায়, ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে এমন গ্রাহকদের সংযোগ সরেজমিন পরিদর্শন করে বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ সংযোগ এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।
সংস্থাটির মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাছে পাওনা ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পাওনা রয়েছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গঠিত দলগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করে বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বিল পরিশোধে উৎসাহিত করছে। এর আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া আদায়ে কাজ করা হয়েছে। এখন ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়াধারীদের নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এ কাজে আগ্রহ ও উৎসাহ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিনজন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট এবং প্রতিটি টিমের সদস্যদের সনদ দেওয়া হয়েছে।ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা সরকারের রাজস্ব আদায়ে বদ্ধপরিকর। সম্মানিত গ্রাহকদের অনুরোধ করবো, আইন মেনে সংযোগ ও নলকূপের লাইসেন্স গ্রহণ করুন এবং বকেয়া টাকা পরিশোধ করুন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম যোগদান করার পর চট্টগ্রাম ওয়াসার কাজে গতি এসেছে। তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ২১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১লা জুন ২০২৬ সালে ওয়াসার এমডি হিসেবে যোগদান করেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের রেভিনিউ ছিলো ১৮ কোটি টাকা, মার্চ মাসে ১৯ কোটি, এপ্রিলে ২০ কোটি, মে মাসে ১৯ কোটি টাকা কিন্তু জুন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে সর্বমোট ২৬ কোটি ৭০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। যা এযাবৎ বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ওয়াসার সর্ব্বোচ রাজস্ব আদায়।
এছাড়া সেলিম এমডি হিসেবে যোগদান করার পরই ওয়াসার ইতিহাসে ২৪২ জন কর্মচারী -কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদান করেন যারা এতোদিন বৈষম্যের শিকার ছিলো।
এ বিষয়ে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম আরো বলেন,
এটি শুধু একটি আর্থিক সাফল্য নয়, বরং গ্রাহকদের আস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা এবং সুশাসনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিক সেবার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। এই অর্জন আমাদের ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা আশা করি, সবার সহযোগিতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা আগামী দিনেও সেবার মান ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে।তিনি বলেন,সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাওনা ২৪১ কোটি টাকা।আগামী এক বছরে তা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ