২৫ বছর পূর্ণের আগে সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি চাকরিতে কর্মচারী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন সুবিধা পাবেন না এমন সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। আইনসভা যৌক্তিক বিবেচনায় এমন বিধান করেছে যে, ২৫ বছরের চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেনশনসহ এ ধরনের সুবিধার অধিকারী হবেন না।

হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে ২০১৫ সালে চাকরির ১৯ বছরের ভিত্তিতে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং তা পেনশনের জন্য গণ্য করা যায় না। যেহেতু তার চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি, তাই প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি পেনশনের জন্য যোগ্য নন।

এই সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মাহবুব মোরশেদ। শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট ২০১৫ সালের ওই চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন এবং চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তার পেনশন ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারণের নির্দেশ দেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন।শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক অংশ নেন। অন্যদিকে রিটকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ১৭ কর্মকর্তা বদলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র‍্যাব, ডিএমপি, পিবিআই, সিআইডি, এসবি, এপিবিএন ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা পৃথক তিন প্রজ্ঞাপনে এই রদবদল করা হয়।একটি প্রজ্ঞাপনে- পিবিআইয়ের ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরকে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।এছাড়া রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে। এপিবিএনের পুলিশ সুপার নাজমুল আলমকে ডিএমপিতে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে।অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে- এসবির ডিআইজি মু. মাহবুবুর রশীদকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) করা হয়েছে। ডিএমপির উপ-কমিশনার আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া নোয়াখালী পিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরুল আমীনকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টাররে সংযুক্ত করা হয়েছে।একই প্রজ্ঞাপনে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর জারি করা আদেশে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সদর দপ্তরে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি গত ৫ মে জারি করা আদেশে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইল পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির আদেশও বাতিল করা হয়েছে।আরেক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তারা হলে- এপিবিএনের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনকে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার, আরপিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবদুর রহমানকে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেনকে সিআইডিতে বদলি করা হয়ছে।এছাড়াও পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদকে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, গাজীপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এস এম সিরাজুল হুদাকে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামানকে সিআইডিতে, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলামকে এপিবিএনে এবং সিলেট এসএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. রিয়াজুল কবিরকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তারেক রহমান বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তার পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদতে (সা.) পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মহানবীর (সা.) জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।
মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবীর (সা.) শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহানবীর (সা.) জীবন ও আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবীর (সা.) শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তার আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে।বাণীর শেষে মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন তিনি।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ