চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেফতার-২

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।রোববার রাতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার আসিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা, অস্ত্র আইন, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি আসিফকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসিফ ও তার সহযোগী পালানোর চেষ্টা করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশিতে আসিফের কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরিফের প্যান্টের পকেট থেকে আরও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি বহনের বৈধ কোনো লাইসেন্স বা কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, এই দুজন নিজেদের চট্টগ্রামের আলোচিত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে তানিয়া কামাল নিহাত (২০) নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নুর উদ্দিনকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরকানাই এলাকার মোনাফ হাজির পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

নিহত তানিয়া কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। তাঁর স্বামী নুর উদ্দিন একই উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

তানিয়ার পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে যৌতুক ও বিভিন্ন উপহারের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। গত ঈদে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করা হলে তানিয়ার বাবা সামর্থ্য অনুযায়ী তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

তানিয়ার বাবা মোহাম্মদ কামাল বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সব দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে তাঁর মেয়েকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু তাতেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।এদিকে ঘটনার পর তানিয়ার স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।তবে তানিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম বাকলিয়ায় ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ গ্রেপ্তার -১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় চোরাই
ল্যাপটপ ও একটি মুঠোফোনসহ মো. শরীফ (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এব্যাপারে তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় আরও পাঁচটি মামলা হয়েছে।চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানা-পুলিশ গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তুলাতলী জাইল্লারচর এলাকার আবুর বাপের বিল্ডিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি শরীফ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকার জান্নাতের মায়ের কলোনির ১ নম্বর রোডে বসবাস করছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ