প্রতিবেদন প্রস্তুত, জমা দেয়া হবে শীঘ্রই একাধিক কারণে চট্টগ্রামে

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিসম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও জোয়ারের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এতে কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, সিএন্ডবি মোহরা, কুয়াইশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জনভোগান্তি কমাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ১৬টি কুইক রিয়েকশন (কিআর) টিম মাঠে কাজ করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগও কাজ করেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতার পিছনে পরিকল্পনা অনুযায়ী জলাধার নির্মাণ না করা, ড্রেন ভরাট, ডোবা ভরাট করে আবাসন প্লট, রাস্তা উঁচু না করা, খাল দখল এবং ক্রস কালভার্ট বন্ধ করাসহ ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই প্রতিবেদন শীঘ্রই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী।

জানা গেছে, বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে ৩৪ ব্রিগেডের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় জলাবদ্ধতা হয়নি। এছাড়া, আগ্রাবাদের পানি একদিনে নেমে গেলেও মোহরা ও কুয়াইশ এলাকার পানি প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকা এলাকাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এর কারণ অনুসন্ধান করে একটি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রস্তুত করেছে ৩৪ ব্রিগেড। যা কিছুদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রধানদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম নগরী একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবে। সেনাবাহিনীর এই অনুসন্ধান ও কারিগরি সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ অনেকটাই সুগম হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, শিগগিরই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতার কারণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় নগরীর পাঁচটি স্থানে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্ত পানি স্থায়ী ছিল। তবে কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় পানি উঠলেও আগাম পরিকল্পনার কারণে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। আমরা আগে থেকেই জানতাম সেখানে পানি উঠবে এবং বৃষ্টি থামার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।

সে অনুযায়ী কুইক রিঅ্যাকশন টিম পাম্পিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন আরো জানান, আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল ও ব্যাংকিং এলাকায় প্রায় একদিন ধরে দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত পানি জমে ছিল। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা উঁচু না করায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে চসিকের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করি। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীতে পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে রাস্তা উঁচু করার পাশাপাশি সমান উচ্চতায় ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল। আমরা ড্রেন নির্মাণ করলেও রাস্তা উঁচু করার কাজ হয়নি। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সিএন্ডবি ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার পেছনে তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রথমত, এলাকার পানি পাশের বিলে যেতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান তিনটি ক্রস-কালভার্টের দুই পাশে পানি চলাচলের চ্যানেল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, ড্রেন ও নালা দখল করে ঘরবাড়ি, দোকান ও গুদাম নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে দোকান বা গুদামে যানবাহন প্রবেশের সুবিধার জন্য ড্রেনের ওপর বালির বস্তা ফেলে পরে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পানি না নামায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মতিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হলে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কোমরসমান পানি নেমে যায়।

অক্সিজেন-কুয়াইশ এলাকার জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, অনন্যা আবাসিক এলাকা একসময় প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করত। আশপাশের বৃষ্টির পানি সেখানে জমা হতো। পরে জলাভূমি ভরাট করে আবাসিক প্লট নির্মাণ করায় প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। এই এলাকার পানি সংরক্ষণে বামনশাহী খালের পাশে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত কয়েকটি জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। তবে ব্যয় সংকোচনের কারণে বাদ দেওয়া হয়। সেই জলাধারগুলো থাকলে এলাকার পানি সেখানে জমা থাকত এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যেত।

তিনি আরও জানান, কুয়াইশ খাল দিয়ে আগে শিল্পকারখানা ও আশপাশ এলাকার বর্জ্য ও পানি হালদা নদীতে যেত। হালদা নদী রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেই প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালগুলোর নাব্যতা ও প্রস্থ কমে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ছোট ছোট খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়েছে। আপাতত পাম্পিংয়ের মাধ্যমে পানি সরানো হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি। সিটি কর্পোরেশন নগরীর ৪০টি খাল সংস্কারের যে প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সেখানে, কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল অন্তর্ভুক্ত করা এবং এলাকার পানি সংরক্ষণে জলাধার নির্মাণ করা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ভিড়তে পারবে বড় আকারের জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালে টার্মিনাল-১ এর অপারেশন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এই বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের যে অবকাঠামো রয়েছে তার চেয়েও বড় হবে এই টার্মিনাল। ভিড়তে পারবে আরও বড় আকারের জাহাজ (মাদার ভেসেল)। চ্যানেলের গভীরতা কম হওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আনা-নেওয়া করতে হয় জোয়ারের সময়।

কিন্তু বে-টার্মিনালসংলগ্ন চ্যানেলের গভীরতা বেশি থাকার কারণে ভাটার সময়ও জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটি পুরোদমে চালু হলে আগামী একশ’ বছর আর নতুন কোনো টার্মিনালের চিন্তা করতে হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, মেগা প্রকল্পটির প্রস্তাবিত তিনটি টার্মিনালের একটি নির্মাণ ও পরিচালনায় শিগগিরই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে চলছে থ্রি-ডি সিমুলেশনের (ডিজিটাল মডেল) কাজ। সিমুলেশন শেষ হলে শুরু হবে প্রথম ধাপ অর্থাৎ, ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ব্রেক ওয়াটার, অ্যাক্সেস নেভিগেশন চ্যানেল ও মূল অবকাঠামো নির্মাণপ্রক্রিয়া।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের কাজটি বন্দর নিজেই করবে। টার্মিনাল নির্মাণ ও হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সংযোজন করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট সময় টার্মিনালটি পরিচালনার সুযোগ পাবে। এতে প্রয়োজন হবে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের।

এক্ষেত্রে সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বে-টার্মিনালে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বন্দর পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে পৃথক তিনটি টার্মিনাল থাকবে। এর মধ্যে একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল অর্থাৎ এখানে কনটেইনার ও খোলা পণ্য খালাস হবে।

অন্য দুটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে বে-টার্মিনাল-১ নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সিঙ্গাপুরের পিএসএ’র সঙ্গে বোঝাপড়া বা এমওইউ হয়েছে। তাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন নৌপরবিহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অন্য দুটি টার্মিনাল নির্মাণেও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বে-টার্মিনালের থ্রি-ডি সিমুলেশনের কাজ চলছে। আশা করা যায়, অল্পসময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করা হবে এবং চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তিনি জানান, নেভিগেশন চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বে-টার্মিনালের আওতায় সাগরে ৮০০ থেকে ১২০০ মিটার প্রস্থের চ্যানেল রয়েছে। যা দিয়ে ১২ মিটার ড্রাফট ও ২৮০ মিটার লম্বা জাহাজ ভিড়তে পারবে। একসঙ্গে ছয় হাজার কনটেইনার বহন করতে পারে, এমন জাহাজও আসবে এই টার্মিনালে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফট ও ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩৪ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে থাকে। বে-টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে প্রতিবছর ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টিইউউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

পুলিশের সদস্যের জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : সিএমপি কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স ২০২৬’ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ওয়াচার কনস্টেবলদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ ও কার্যকর করে গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ কোর্সের গুরুত্ব তুলে ধরে সিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন, পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি দক্ষ, মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত); উপ-পুলিশ কমিশনার (ইন-সার্ভিস ট্রেনিং) অনিন্দিতা বড়ুয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ