চট্টগ্রাম মহানগরে আকাশ ছুঁতে চায় সবজির বাজার, দূর্ভোগ ক্রেতাদের

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিসম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সবজির বাজার আকাশ ছুঁতে চায়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা। সকল রেকর্ড ভেঙে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, ফুলকপি ৩০০ টাকা। করোলা ১৬০, টমেটো ১৪০, বেগুন-বাঁধাকপি-মুলা-শসা ১২০ টাকা কেজি। ঝিঙ্গে ১০০ টাকা! ১০০ টাকার নিচে বিক্রি হওয়া সবজির দাম শুনেন এবার। পটল-মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকা, লাউ ৭০, আলু ৩৫। এতো বেশি দামে এসব তরি-তরকারি আর কখনো বিক্রি হয়নি। অতি বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এ অস্থিরতা।
কাজীর দেউড়ি কাঁচা বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা শেখ হাবিবা-হাসিবা ট্রেডার্সের পরিচালক শেখ মহিউদ্দিন বাবু জানালেন, বাজারের প্রায় সব সবজির দাম এখন ১০০ টাকার ওপরে। সপ্তাহের বাজার করতে আগের চেয়ে কয়েক’শ টাকা বেশি লাগছে। এভাবে সংসার চালানো খুব কষ্টকর।

জানা গেছে, ১৫ দিন আগেও এসব সবজি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি। ১০ দিন আগেও যেসব সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই এখন ১০০ টাকার ঘর অতিক্রম করেছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবেই বেশি দাম এখন প্রতিটির সবজির।
বাজারে দামের এ আগুন কতদিন চলতে থাকবে কেউ কিছু বলতে পারছে না। সাধারণ ক্রেতারা বাজারে এসেই চমকে যাচ্ছেন দাম শুনে। এ দাম নিয়ে আলোচনা চলছে আড্ডায়, অফিসে, বাসায়।

এদিকে ১০০ টাকার নিচে এখন মধ্যবিত্তের জন্য বিকল্প বলতে লাউ, আলু আর পটল। একসময় যে পরিবারগুলো এক বাজারে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনে সপ্তাহ পার করত, তারা এখন হিসাব কষে মাত্র দুই-একটি সবজি নিয়েই ফিরছে।
বাজারে আসা এক গৃহিনী বলেন, আগে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনতাম। এখন দুই-তিন ধরনের বেশি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ভালো মানের সবজির দিকে দামের কারণে তাকানোই যাচ্ছে না।

সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ শফিক (মিন্টু) বললেন, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত নষ্ট হয়েছে। আড়তে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শহরে অধিকাংশ সবজির যোগান এসে থাকে দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, নাজিরহাটসহ বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে। সম্প্রতি সেই সব এলাকায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে। এ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, চাপে সাধারণ ক্রেতারা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আয় না বাড়লেও বাজার খরচ বাড়ায় সংসারের খাবারের তালিকাতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে অনেককে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহের জটিলতায় বেড়েছে পণ্যের দাম।

শনিবার ৯২ (অক্টোবর) নগরের রেয়াজউদ্দিন, বকশিরহাট ও কাজীর দেউড়ি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে দামের পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলী সওদাগর বলেন, পাইকারি ক্রয়মূল্য, পরিবহন ও দোকান পরিচালনার ব্যয় বাড়ায় খুচরা দামেও প্রভাব পড়ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান নিয়মিত যাচাই এবং বাজার তদারকিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ বলেন, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ ও নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মাছের বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঙ্গাস ২৫০-৩০০, নাইলোটিকা ২৮০-৩২০, লইট্টা ২৮০-৩০০, রুই ৪৫০-৫৫০, কাতলা ৫০০-৬০০ এবং ইলিশ ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পোয়া ৫০০, কোরাল ১ হাজার, পাবদা ৫০০-৫৫০, পুঁটি ৩০০, দেশি কই ১ হাজার ৬০০, শিং ৮০০-১ হাজার, শোল ৮০০-১ হাজার, লাক্ষা ১ হাজার ২০০, ছুরি ৩৫০, মাইট্টা ৫০০-৬০০ ও মলা ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রুপেন দাস বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমেছে। পরিবহন ও বরফের খরচও বেড়েছে। আগে দিনে দুই মণ মাছ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ কেজি।
এদিকে মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৮০, সোনালি ৩৫০, পাকিস্তানি কক ৪০০, দেশি সোনালি ৪৫০, লেয়ার ৩৫০, দেশি মুরগি ৬০০-৮০০, হাঁস ৮৫০ ও বেলজিয়াম হাঁস ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর হাড়যুক্ত মাংস ৭৫০, হাড়হীন ৯৫০, খাসি ১ হাজার ২০০, ছাগল ১ হাজার ১৫০ এবং ভেড়ার মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫৫, সাদা ডিম ১৪৫, দেশি ডিম ২০০ ও হাঁসের ডিম ২৪০ টাকা।

সবজির বাজারগুলোতে দেখা যায়, আলু, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁপের মতো কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও বরবটি, বেগুন, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও পটল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১০০-১৪০ টাকায়। টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০-২৬০ টাকা, শিম ২৪০-২৬০ টাকা। ধনেপাতা ২০০-২৫০, পুদিনাপাতা ৩৫০-৪০০, গাজর ১২০-১৬০ এবং কাঁচা মরিচ ১৪০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বকশিরহাটে বাজার করতে আসা এক শিক্ষিকা বলেন, একই টাকায় এখন আর পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজি কেনা যাচ্ছে না। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাজারের বাড়তি ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, পাইকারি দাম, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু সবজির দাম বেশি। এতে ক্রেতারা কম কিনছেন, বিক্রিও কমেছে।
অন্যদিকে সরু চাল ৭৫-৯৫, মাঝারি চাল ৬৩-৭৫ এবং মোটা চাল ৫০-৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চিনিগুঁড়া খোলা চাল ১৫০-১৭০ এবং প্যাকেটজাত চাল ২২০-২৩০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে।

খোলা আটা ৪৮-৫০, প্যাকেটজাত আটা ৬৮-৭০, খোলা ময়দা ৬২-৬৫ ও প্যাকেটজাত ময়দা ৮০-৮৫ টাকা কেজি। আমদানিকৃত মসুর ডাল ৮৫-৯০, দেশি আস্ত মসুর ১৬০-১৬৫, দেশি ছোট মুগ ১৬৫-১৭০, আমদানিকৃত মুগ ১৪৫-১৫০, ছোলা ১১৫-১২০, খেসারি ৭৫-৮৫ এবং কলাই ডাল ১৫০-১৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বেসনের দাম ৮০-১৬০ টাকা।
খোলা সয়াবিন তেল ১৮৯-১৯০, পাম তেল ১৬৫-১৬৮ এবং দেশি সরিষার তেল ২৩০-২৬০ টাকা। আমদানিকৃত চিনি ১০৫-১১০, লাল চিনি ১৩০, প্যাকেটজাত লবণ ৩৬-৪২ ও খোলা লবণ ২২-২৪ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫, আমদানিকৃত রসুন ১৪০-১৬০, আদা ১৪০-১৫০, দেশি হলুদ ২২০-২৪০ এবং শুকনা মরিচ ২৫০-৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ফলের দোকানগুলোতে দেখা যায়, মাল্টায় ৪০ টাকা ছাড়ে দাম ৫০৫ টাকা, লাল আঙুরে ৫০ টাকা ছাড়ে ৫০৯ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ান গালা আপেলে ৪০ টাকা ছাড়ে ৪২৯ টাকা। কাঁচা মরিচে ১০ টাকা ছাড়ে ১২০ টাকা, গাজরে ১৫ টাকা ছাড়ে ১৪০ টাকা এবং চীনা রসুনে ১০ টাকা ছাড়ে ১৬০ টাকা।

এছাড়া হলুদ ও ধনিয়ার গুঁড়ায় ৪০ টাকা করে ছাড়ে দাম যথাক্রমে ৩৪০ ও ৩১০ টাকা। খেসারির ডালে ২১ টাকা ছাড়ে ৯৯ টাকা। পাঁচ লিটার স্টারশিপ ফোর্টিফায়েড সয়াবিন তেলে ২০ টাকা ছাড়ে দাম ৯৮০ টাকা। প্রাণ মিনিকেট চালের পাঁচ কেজির প্যাকে ২০ টাকা, পুষ্টি চিনিগুঁড়া চালে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা, প্রাণ ন্যাচারাল ফাইবার আটা ও পুষ্টি সাধারণ আটায় প্রতি কেজিতে ১০ টাকা এবং পুষ্টি মসুর ডালে ১৫ টাকা ছাড় রয়েছে। অন্যদিকে মার্কস ফুল ক্রিম গুঁড়া দুধে ৩০ টাকা, হ্যাপি কাউ ইনস্ট্যান্ট দুধে ২০ টাকা এবং ফার্মল্যান্ড ফুল ক্রিম দুধে ২৫ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সিলন ফ্যামিলি ব্লেন্ড অ্যারোমা ব্ল্যাক টির ৫০০, ৪০০ ও ২০০ গ্রামের প্যাকে যথাক্রমে ৫০, ৪০ ও ২০ টাকা ছাড় রয়েছে।

শুন ফ্যাট ক্রিম ক্র্যাকার্স স্পেশাল বিস্কুটের ৪০০ গ্রামে ১৪০ টাকা ও ২৮০ গ্রামে ১০০ টাকা ছাড়। কান্ট্রি ন্যাচারাল স্পাইসি চিকেন নাগেটসের ২৫০ গ্রামে ২৪ টাকা এবং ডুডলস ৩ এক্স স্পাইসি কোরিয়ান রামেন নুডলসের আট প্যাকে ৩০ টাকা ছাড় রয়েছে। রাজা দেশি ক্লাসিক পরোটার ১,৩০০ গ্রামের ২০ পিসে ৫০ টাকা, রোজা বাটারফ্লাই চিংড়ির ১০–১২ পিসে ২৫ টাকা এবং সাফোলা মধুর ২৫০ ও ৫০০ গ্রামের প্যাকে ৩৫ টাকা করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

মা আনন্দময়ী ধামের শ্যামা পূজা উদযাপন কমিটি গঠন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদন্ডী (দক্ষিণ কধুরখীল) এলাকার মা আনন্দময়ী ধামের আসন্ন শ্যামা পূজা উদযাপন কমিটি গঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে এক সভা গত শুক্রবার রাতে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থায়ী কমিটির সভাপতি দোলন রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিথুন চৌধুরী রণি, দিলীপ দে, জনি চৌধুরী, শিশু নাথ, অরুন সেন, বাপ্পু মল্লিক ,টিংকু দে, সঞ্জয় রায় টিকু, বাবলু দে, অর্ণিবান চৌধুরী রাজা, রাজু রায়, আপেল দে, উত্তম দে, রুবেল দে, রঘুনাথ সেন, হৃদয় দে, রিমন দে ও জুয়েল নাথ প্রমুখ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রাজু দে’কে সভাপতি, সঞ্জয় রায় টিকু’কে সাধারণ সম্পাদক ও রিমন দে’কে অর্থ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। এ সময় স্থায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী (বিশু) আশু রোগমুক্তি কামনায় মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট প্রার্থনা করেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ