যাদের নয়া পল্টন কার্যালয়ের তালা খোলার মানুষ নেই তারা আবার কি নির্বাচন করবে -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি বলেছিল তাদের জোটের সঙ্গীদের নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। অথচ তাদের সঙ্গীরা তাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। গতকাল জেনারেল ইব্রাহীমের নেতৃত্বে ৬ টা দল ১২ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে গেছে। যাদের নয়া পল্টন কার্যালয়ের তালা খোলার মানুষ নেই তারা আবার কি নির্বাচন করবে।

আজ রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় এডভোকেট নুরুচ্ছফা তালুকদার অডিটোরিয়ামে উপজেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ইসরাইলিরা ফিলিস্তানের ১৪ হাজার মানুষ মেরেছে। তার মধ্যে সাড়ে ৯ হাজার শিশু এবং নারী। তা নিয়ে ইসরাইলে বসবাসরত ইহুদীরাও প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ইসরাইল ও তাদের সমর্থকদের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখতে তা নিয়ে বিএনপি কোন বিবৃতি দেয়নি। তাদের পক্ষে কিভাবে দেশের মানুষ থাকবে। অথচ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়াও দলের পক্ষে থেকে আমি প্রতিদিন প্রতিবাদ জানিয়েছি। তারা এখন ইঁদুরের মতন গর্ত থেকে বের হয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। তাদের কর্মসূচি হচ্ছে আন্দোলনের নামে গাড়ি পুরানো আর মানুষ হত্যা করা। এমন কি তারা বিদ্যালয়ে পর্যন্ত আগুন দিয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আরো বলেন, চট্টগ্রামের সাগরের তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মিত হয়েছে। ১৩৩ বছর আগে কক্সবাজারে ট্রেন চালু করা সমীক্ষা হয়েছিল। এরপর ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান হয়েছে, পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হয়েছে। তার পর সাড়ে ৩ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে যার কারণে তখনও সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে সে স্বপ্নও সত্যি হয়েছে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ অভূতপূর্ব উন্নয়নে বিরোধীতাকারীদের জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে টানেল কিংবা কক্সবাজার ট্রেনে উঠতে অনুরোধ জানিয়েছেন। কারন তারা পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে জনসভায় যায় আর সেখানে বক্তব্যে বলে দেশে কোন উন্নয়ন হয়নি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনারা জানেন নির্বাচন কে বাধাগ্রস্ত করতে দেশ বিদেশে অনেক অপতৎপরতা চলছে। তা স্বত্তেও নির্বাচন নিয়ে যেভাবে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃস্টি হয়েছে তা অভাবনীয়। আমি ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নমিনেশন ফরম কিনতে গিয়েছি সোয়া কিলোমিটার হেঁটে। কারণ গাড়ির এতো চাপ ছিল গাড়ি নড়ছিল না। পরে সচিবালয়ে যাওয়ার সময়ও হেঁটে যেতে বাধ্য হয়েছি।

উপজেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সভাপতি এম ইসকান্দর মিয়া তালুকদার এর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সভাপতি উদ্বোধক এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য আবুল কাশেম চিশতী পৌরসভার মেয়র শাহজাহান শিকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিডিএ’র বোর্ড সদস্য আলীশাহ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আকতার হোসেন খান বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী মৎসজীবী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।এসময় বক্তারা আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে আবারও বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ করা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

৩৫ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

৩৫ জন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান যাচ্ছেন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার পাঁচজন এবং যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ৩০ জন লাহোরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসিতে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামী ৯ নভেম্বর থেকে চলবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চারজন রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুজন করে কর্মকর্তা অংশ নেবেন। অন্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তাদের নাম নির্বাচন করে।ইতিপূর্বে গত মে মাসে প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান সফর করেন বাংলাদেশের ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন এবং যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ১১ জন ছিলেন। লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে (সিএসএ) ৪ মে শুরু হওয়া ওই প্রশিক্ষণ শেষ হয় ২১ মে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে পাকিস্তান সরকার। এর মধ্যে যাতায়াত, আবাসন, খাবার ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সফরে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন সময়ে আমন্ত্রণ জানালেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাতে সাড়া দেওয়া হয়নি।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। সেই আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ