আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, বা*ধা দেওয়ায় স্ত্রীর হাত ঝ*লসালেন চবি শিক্ষক।

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছাত্রীর সাথে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মা*রধর ও গ*রম পানি ঢেলে হাত ঝ*লসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নিশাত জাহান (৩০)।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়ে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। ভুক্তভোগী নিশাত জাহান চবির বাংলা বিভাগে এমফিল কোর্স করছেন। তিনি জামালপুর সদর থানার আরামবাগ বোস পাড়ার এস এম নজরুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত অনাবিল ইহসান চবির সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

এদিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে তদন্তের জন্য হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরীর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এরপর আদালতের আদেশ পেয়ে ৫ ডিসেম্বর ৩ আসামির বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় চবি শিক্ষক অনাবিল ইহসান ছাড়াও তার মা শরীফা আক্তার বানু (৫৩) এবং বাবা মো. আব্দুল খালেক বিশ্বাসকে (৬০) আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তথা দহনকারী গরম পানির মাধ্যমে ভুক্তভোগীর হাতের ক্ষতি, যৌতুকের দাবিতে মারাত্মক জখম ও সহায়তার অপরাধ- মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে নিশাত জাহানের সঙ্গে অনাবিলের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরযাত্রী আপ্যায়নের পাশাপাশি নিশাতের পরিবারের পক্ষ থেকে অনাবিলকে ৩৭ প্রকারের ফার্নিচার ও তৈজসপত্র উপহার দেওয়া হয়। বিয়ের সময় দেনমোহর ২ লাখ টাকা ধার্য করে এই মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিশাতকে দেওয়া হয়। বিয়ের পর নিশাতকে অনাবিলের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিশাতের স্বর্ণালঙ্কার খুলে নেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি। এরপর থেকে নানা সময় অনাবিলের জন্য মোটরসাইকেল এবং ভালো জিনিসপত্র উপহার না দেওয়ায় নিশাতকে অপমান করতেন শ্বশুর-শাশুড়ি।

একপর্যায়ে অনাবিল তার স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় চলে আসেন। সেখানে আসার পর থেকে অনাবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে জমি কেনার জন্য নিশাতকে তার বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। বাসায় চাপ সৃষ্টি করে নিশাতকে কথায় কথায় মারধর করতেন অনাবিল।

এরই মধ্যে আসামি অনাবিল সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনের মধ্যে আদান-প্রদান করা নানা মেসেজ দেখেন নিশাত। বিষয়টি অনাবিলের বাবা-মাকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চা বানানোর সময় নিশাতকে মারধর ও হাতে ফুটন্ত চায়ের পানি ঢেলে দেন অনাবিল। এতে নিশাতের বাম হাতের কনুই থেকে নিচের অংশ ঝলসে যায়। পরে ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ভুক্তভোগী নিশাত জাহান কালবেলাকে জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করছে স্বামী ও তার পরিবার। আমার পরিবার থেকে টাকা দাবি করেছে। এর মধ্যে অনাবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। রাতে-বিরাতে তার সঙ্গে কথা বলে। সে ঘুমালে আমি সেসব স্ক্রিনশট নিয়েছি তার ফোন থেকে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় গরম পানি ঢেলে দিলে হাত ঝলসে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এমনকি এ বিষয়গুলো গোপন করার জন্য আমাকে সে ফোর্সও করেছে। গত ৬ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আমি একটি দরখাস্ত করি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে কোন প্রত্যুত্তর দেয়নি। পরে আমি বাধ্য হয়ে মামলা করি তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত চবি শিক্ষক অনাবিল ইহসান কালবেলাকে বলেন, আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীনভাবে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, সেহেতু সত্য মিথ্যা আদালত সিদ্ধান্ত দিবে।

ছাত্রীর সাথে পরকীয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে যেসব স্ক্রিনশটের কথা বলছে, এসব মিথ্যা, বানানো। গত ২৪ অক্টোবর আমি নিশাত জাহানকে তালাক দিয়েছি। আমার ক্ষতি করার জন্য সে এসব করছে।

তালাকের বিষয়ে জানতে চাইলে নিশাত জাহান বলেন, তার থেকে আমি কোনো ডিভোর্স পেপার পাইনি। তার পরিবার থেকেও আমাকে কোনোকিছু জানানো হয়নি। এমনকি আমরা তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাইনি। তারা আমার এবং আমার পরিবারের সবার ফোন নম্বর ব্লক করে রেখেছে। তা ছাড়া, আমিও আর তার কাছে ফিরতে চাই না।

হাটহাজারী থানার ওসি মনিরুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অবৈধ স্থাপনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি অবৈধ দখল ও নাগরিক অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সোমবার সকালে মেয়র প্রথমে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন।

এ সময় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন মেয়র। পরে বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান খাল সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণেরও নির্দেশ দেন মেয়র।এরপর তিনি ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ফরিদার পাড়া এলাকায় পরিচালিত নালা ও খাল পরিষ্কার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেললে খাল-নালা আবারও ভরাট হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

মাত্র এক ঘণ্টায় পানি নেমে গেছে, এটি ইতিবাচক দিক—সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর চলমান খাল সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় পানি জমলেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “এবার পানি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে গেছে, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা।


শনিবার রাতে প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিদর্শনে এসে মেয়র বলেন, খাল সংস্কার ও বাঁধ অপসারণের কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। তবে নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও সিডিএ’কে অন্তত পাঁচ থেকে সাত দিন সময় দিতে হবে।তিনি জানান, হিজড়া খাল, জামালখান খাল, মুরাদপুর খাল ও রামপুর খালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৩০টি বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঁচ দিন সময় চাওয়া হলেও শনিবার আবারও বৃষ্টি হওয়ায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে তাই তিনি অতিরিক্ত আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে আরও কয়েকদিন সময় বাড়ানো হতে পারে।

মেয়র বলেন, “যেকোনো ভারী বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য পানি জমতেই পারে। কিন্তু সেটি দীর্ঘসময় স্থায়ী হলেই কেবল তাকে জলাবদ্ধতা বলা যায়। আগে অনেক এলাকায় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত পানি থাকত, এখন এক ঘণ্টার মধ্যেই নেমে যাচ্ছে। এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে।তিনি আরও বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চসিক ইতোমধ্যে ১৫ এপ্রিল থেকে নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে, যা আগামী ছয় মাস অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নগরীর ২১টি খাল খননের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, সিডিএর অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বিভিন্ন খাল ও সেতু সংলগ্ন এলাকায় কাজ করছে। তবে নগরবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় কিছু স্থানে সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত রেখে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।তিনি বলেন, “রিটেইনিং ওয়াল ও শিটপাইলের কিছু কাজ এখনই শেষ করা সম্ভব হবে না। কারণ এগুলো সরিয়ে ফেললে রাস্তা ও খালের ক্ষতি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

মেয়র আরও জানান, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে। তাই এর আগেই ২০ মে’র মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে।
জলাবদ্ধতায় সাময়িক ভোগান্তির জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, “আমরা সবাই মিলে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া জরুরি।”

তিনি দাবি করেন, আগে যেসব এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ছিল, তার অনেকগুলোতেই এবার পানি জমেনি। তবে হিজড়া খাল, কাট্টলী, গেইটস মোড়, চকবাজার ও জামালখান এলাকার কিছু অংশে পানি জমার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ