আজঃ সোমবার ৪ মে, ২০২৬

স্বতন্ত্রে হেভিওয়েট রয়েছে

চাঁদপুরে কাল ৩০ জনের ভোটের লড়াই শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে।। নির্বাচনের মাত্র একদিন বাকি

এস আর শাহ আলম, চাঁদপুর :

৩০ জনের নির্বাচনী লভাই চাঁদপুরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁদপুরে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারের লভাই হবে আাওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, পথসভা ও উঠোন বৈঠকের মধ্যে দিয়ে সকল প্রচার প্রচারণা শেষ করলো চাঁদপুর জেলার ৩০ জন পদ প্রার্থী , আর এই ৩০ জনই ভোট যুদ্ধের লড়াই করবে, কিন্তু এদের মধ্যে ৫ জনকে বেছে নিবে জেলার ভোটাররা, ভোটারদের স্বপ্ন পূরণে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের বিজয় করে জনগণের দায়িত্ব দিবেন। এমনটাই জেলা বাসির ইচ্ছে ও প্রত্যাশা, তবে কাকে বিজয় করবে বা কোন প্রতিকে ভোট দিবে, তাহা এখনো ভোটারদের মুখে ফুটে আসেনি, তার পরও মাঠ জরিপে চাঁদপুর ৫ টি আসনেই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে দলীয় নেতাকর্মী।

এদিকে গত কয়েক দিন নির্বাচন উৎসবমুখর এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং অফিস পুরোদমে কাজ করেছেন। এবং ভোটাররা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার সকল উৎসাহিত করেছিলেন। ফলে ভোটাররাও নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ভোটের মাঠে থাকা এমপি প্রার্থী এবং তাদের পক্ষের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণার সাথে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনসহ বেশকিছু রাজনীতিক দল নির্বাচনে না থাকায় ভোটের এ উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়েছে। নির্বাচন হবে এটি সবাই জানলেও ভোট দেয়ার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নেই তেমন কোনো উৎসাহ ও আগ্রহ। সাধারণত নির্বাচনের সময় ভোটারদের কদর বারে এমনটাই বলেন অনেকে, আর ভোটের পরে প্রার্থীদের দরজায় দারিয়ে কড়া নারতে নারতে অস্হির হন জনগন, তাহা বলতেও কাল কৃপন করেননি।

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন । গত কয়েক দিনে প্রার্থীদের প্রচারণায় ছড়িয়ে পড়েছে ভোটের উত্তাপ। তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীদের নির্বাচনী গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা সবচাইতে বেশি পরিলক্ষিত ছিলো,

স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো শক্তি তেমনটা দেখেন নি সাধারণ ভোটারা। তারা এই নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনেই নৌকার বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। এবারের সংসদ নির্বাচনে ৫টি আসনে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছে ৩০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে নৌকার প্রতিপক্ষ হিসেবে বিভিন্ন দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নৌকা বঞ্চিত একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা।

ভোটের মাঠে তারা নৌকা, ঈগল, ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়ে আসছেন । পাশাপাশি আছেন লাঙ্গল, মিনার, গোলাপ ফুল, মোমবাতি, মশাল, ফুলের মালাসহ অন্য প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকায় জেলার ৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০৯ জন। এদের প্রায় অর্ধেকই নারী ভোটার। এদের সংখ্যা ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩২ জন । পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৭ জন।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ২৫ হাজার ৭শ’ ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩শ’ ৩১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪শ’ ২৮জন।

চাঁদপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এ আসন থেকে তিনি তিনবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এ আসনে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মনোনীত মোঃ সেলিম প্রধান চেয়ার ও জাসদ মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মশাল প্রতীক নিয়ে। তবে আওয়ামী লীগের ড. সেলিম মাহমুদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এখানে। তাঁর বিজয়ী হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বলছেন স্থানীয়রা।

চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২শ’ ২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬ শ’ ৩৪ জন এবং নারী ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫ শ’ ৯৪ জন। অতীতে এই আসন থেকে যে দলের প্রতিনিধি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে। রাজধানীর সন্নিকটে হওয়ায় এই আসনের গুরুত্ব বেশি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট নেতা ও সরকারের আমলাদের জন্মস্থান এখানে। প্রায় সব সরকারের আমলে এই আসন মন্ত্রী পেয়েছে। তাই উন্নয়নও হয়েছে ব্যাপক। আগামী নির্বাচনেও তেমনটা চান তারা। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এ আসনেরই সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সহ-সভাপতি অ্যাডঃ রুহুল আমিন রুহুল। তাঁকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি।এখানে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মায়া চৌধুরীর জয়ী হবার সম্ভাবনা বেশি। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া (লাঙ্গল), সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ মনির হোসেন বেপারী (একতারা), স্বতন্ত্র এম. ইসফাক আহসান (ঈগল) ও জাসদের মোহাম্মদ হাছান আলী শিকদার (মশাল)।

চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজার ৯ শ’ ৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮ শ’ ৯৩ জন । নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ জন। চাঁদপুর-৩ আসনটি বিভিন্ন কারণে বেশ আলোচিত। আসনটিতে বর্তমান এমপি ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদের কন্যা, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নারী শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকও। জেলা সদর থেকে তিনি টানা তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। চতুর্থবারের মতো এমপি হবার লাইম লাইটে আছেন তিনি। একটি পৌরসভা, ২ টি উপজেলা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৬২ তম আসন। চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকা।

চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের ডাঃ দীপু মনির নৌকা মার্কার বিপরীতে ভোটে লড়ছেন একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া (ঈগল) ও মোঃ রেদওয়ান খান বোরহান (ট্রাক)। ভোটাররা বলছেন, মূলত এ তিন জনের মধ্যেই হবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হবার লড়াই।

অন্য দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মোঃ মহসীন খান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের আবু জাফর মোঃ মাঈনুদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মোঃ মিজানুর রহমান (ফুলের মালা) ও জাকের পার্টির মোঃ কাওছার মোল্লা (গোলাপ ফুল)।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ ) আসনটি ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ১২৯ জন । পুরুষ ভোটার হচ্ছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৮ জন। নারী ভোটার হচ্ছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩ শ’ ৬১ জন। চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)। আসনটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বলে জেলায় পরিচিত। ভোটার সংখ্যাও বেশি। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ আসনটি বেশিরভাগ সময় বিএনপির দখলে থাকলেও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে আসনটি হাতছাড়া হয়ে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। মূলত এ আসনটিতে রয়েছে বিএনপির বড় ভোট ব্যাংক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুন-অর রশিদকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সঙ্গে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া (ঈগল), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান (নোঙ্গর), জাতীয় পার্টির সাজ্জাদ রশিদ (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র জালাল আহমেদ (ট্রাক), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আব্দুল গনি (আম), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী (ফুলের মালা) ও তৃণমূল বিএনপির মোঃ আব্দুল কাদের (সোনালী আঁশ)।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫ শ’ ৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯ শ’ ৫১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬ শ’ ১০ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টানা তিনবারের এমপি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। এবারো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্যে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করে। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগেরই শীর্ষ নেতা গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন (ঈগল), মোঃ শফিকুল আলম (ট্রাক), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী (চেয়ার), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী (ফুলের মালা), জাসদের মনির হোসেন মজুমদার (মশাল) ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের আক্তার হোসেন (ছড়ি)। এই আসনে নৌকার মেজর রফিকের সাথে স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চান।

উল্লেখ্য, চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৮ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭ শতাধিক। চাঁদপুর-১ (কচুয়া)-১০৯ টি, চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও উত্তরে)-১৫৫ টি, চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে)-১৬৫টি, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জে)-১১৮টি ও চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) ১৫৩টি । এই জেলায় ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব আসনেই নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা। জেলার ৭টি পৌরসভা ও ৮৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। পরিশেষে রাঁত শেষে আগামী কালকের দিনের আলোতেই, বিজয়ী ভাগ্যবানরা নির্বাচিত হবেন, তাই সেটা দেখার অপেক্ষায় কে হবেন চাঁদপুর জেলার ৫ জন কর্ণধার,

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে রেলের সাতটি পাহাড়ে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানি এড়াতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে মাইকিং। প্রতিবছর ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য এ থেকে মাইকিং করা হয়। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ের পাহাড়গুলো সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেন।প্রতিবছর বর্ষা শুরুর আগে রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।তারপরও তারা আবার এই অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চলে আসে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ, সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে মাইকিং করেছি। বেলা ১১টা থেকে আমাদের লোকজন প্রতিটি পাহাড়ে মাইকিং করেছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা হয়েছে।এসব অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এসব পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন অনেক মানুষ।

দিন দিন এই অবৈধ বসতির সংখ্যা বাড়ছে। রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল পাহাড়ে। এখানে চার হাজার ৪৭৬টি পরিবার থাকে। ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে চট্টগ্রামে ভূমিধসের সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরপর রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাদের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু করে।

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে। এখানে চার হাজার ৪৭৬টি পরিবার থাকে। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় বসবাস ৪৩১টি পরিবারের।

লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। রেলওয়ের মালিকানাধীন ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরীর জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে।এছাড়া জেলার উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ বসতি বেড়েই চলছে। জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ে অসংখ্য অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ১২৭ জনের মৃত্যুর পর ৩৬ দফা সুপারিশ দিয়েছিল তদন্ত কমিটি। এর ১০ বছর পর ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যুর পর ৩৫ দফা সুপারিশের মধ্যেও একই ধরনের সুপারিশ ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হলে কিছু লোকজনকে সাময়িক সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কার্যত কোনো সুপারিশই বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১ নম্বর ঝিলে পাহাড়ধসে মারা গিয়েছিলেন একই পরিবারের দুজন।

শারজাহ্ সিলেট এফসি-কে হারিয়ে স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ঘরে তুলল চট্টগ্রাম এফসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর জমকালো ফাইনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শারজাহ ওয়ান্ডারার্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এই মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। শারজার অন্যতম জনপ্রিয় সংগঠন ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে টানা দুই মাসব্যাপী এই ফুটবল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল।

​আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা মোট ১২টি দলের অংশগ্রহণে দুই মাস ধরে চলে এই টুর্নামেন্ট। কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় চট্টগ্রাম এফসি বনাম সিলেট এফসি। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে সিলেট এফসি-কে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চট্টগ্রাম এফসি। পুরস্কার হিসেবে তারা জিতে নেয় বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল গাড়ি ‘মার্সিডিজ বেঞ্জ’।
​​দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে খেলার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন।

কামাল হোসেন সুমন ও জাহাঙ্গীর রুপুর যৌথ সঞ্চালনায় এবং আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন,দুবাই কনস্যুলটের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,প্রবাসীদের মাঝে যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা ছিল, তার মাঝে এমন আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। রাত ২টার সময়ও দর্শকদের এই উন্মাদনা প্রমাণ করে আমরা কতটা ঐক্যবদ্ধ। এই টুর্নামেন্ট শুধু জয়-পরাজয় নয়, বরং প্রবাসীদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, বাংলাদেশ সমিতি আবুধাবির সভাপতি প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন, দুবাই সমিতির সহ-সভাপতি ইয়াকুব সৈনিক, সিনিয়র কমিউনিটি নেতা প্রকৌশলী সালাহউদ্দীন,আব্দুল কুদ্দুস,সিনিয়র নেতা হাজী শরাফত আলী,ক্রীড়া সংগঠক হাবিবুর রহমান,সিডিএ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির,মোস্তাফা মাহমুদ, প্রকৌশলী করিমুল হক, নওয়াব সিরাজ,সালেহ আহমেদ, বদরুল চৌধুরী, আব্দুল কুদ্দুস মজনু,সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক,হাজী সেলিম,মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ মামুন,মোহাম্মদ ইমরান,মোহাম্মদ এনাম,মাহবুল আলম, মোস্তাফিজ রহমান, রফিক চেয়ারম্যান মজিবু হক মঞ্জু,মোতাহের হোসেন বাশার প্রমূখ।

প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিদেশের মাটিতে খেলাধুলার চর্চা দেশের ইমেজ বৃদ্ধি করে। বিদেশিরা জানবে বাংলাদেশিরা অপকর্মে নয়, বরং গঠনমূলক কাজে নিয়োজিত থাকে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।

খেলা মাঠে মাঝরাত অবধি চলা এই খেলায় দর্শকদের উপস্থিতি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রবাসীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস মাঠকে এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত করেছিল। আয়োজক কমিটিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ