আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

মৌলভীবাজার:

শহীদদের শ্রদ্ধার স্থান শহীদ মিনার; তরুণ তরুণীর গোপন আস্তানা।

তিমির বনিক মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পর্যটন কেন্দ্র ব্যস্ততম শহর মৌলভীবাজারের অন্যতম প্রাণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ফুরসত করে কাজের ফাঁকে অবসরে কুশল বিনিময়ে সময় কাটাতে ব্যস্ত শহরের বুকে সাধারণ মানুষজনদের পছন্দের একটি জায়গা শহীদ মিনার।

তবে শহরবাসীর স্বস্তির জায়গায় এখন আর স্বাচ্ছন্দে পরিবার কিংবা পছন্দের কোনো মানুষের সাথে গল্প করা বা ঘুরে বেড়ানোর পরিস্থিতি এখন আর নেই।

উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীর উচ্ছৃঙ্খল বিচরণে ও গোপন আস্তানায় পরিনত করে তুলেছে এনিয়ে অতিষ্ঠ শহরবাসী।

বলা হয়ে থাকে মৌলভীবাজারের অনত্যম প্রাণকেন্দ্র শহরের বুকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবস্থিত এই শহীদ মিনার।

কিশোর-কিশোরি থেকে বৃদ্ধ সকলেরই ব্যস্ততার মাঝে একটু স্বস্তির সময় কাটানোর ও কাছের মানুষের সঙ্গে গল্প করতে শহীদ মিনার পছন্দের একটি জায়গায়র মধ্যে অন্যতম।

সকলের প্রিয় এই শহীদ মিনার যেন এখন স্কুল-কলেজের কিছু শিক্ষার্থীদের আড্ডাখানা। পুরো শহীদ মিনারজুড়েই তাদের আনাগোনা এবং প্রকাশ্যেই চলে ধূমপান। এছাড়াও কিছু উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী প্রকাশ্যে করছে অবাধ মেলামেশা। এসবের সবই হচ্ছে প্রকাশ্যে দিবালোকে। এদের এমন দৃশ্যে আগতদের বিব্রত হলেও অজানা কারণে কেউ এসবের প্রতিবাদ করছে না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, কাশীনাথ আলাউদ্দিন হাই স্কুল এন্ড কলেজ , মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালীন সময়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শহীদ মিনারে এসে সময় কাটাচ্ছে। এসময় তাদের একে অন্যের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ট সময় কাটাতেও দেখা গেছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের সম্মানে নির্মিত শহিদ মিনারটিতে শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে জুতা পায়ে দিয়ে উঠছে, অনেককে আবার দেখা যায় বেশ স্বস্তির সঙ্গে বসে শহিদ মিনারের উপর জুতো পায়ে দিয়ে ধুমপান করছে। এদের এসব কর্মকান্ডের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে নানান ভোগান্তিতে।

শহরের অধিকাংশেই নেই এরকম খোলা মাঠ তাই বিকেলবেলা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে খেলতে আসেন অনেকেই। তবে কিছু উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের প্রকাশ্যে এরকম অবাধ মেলামেশার কারণে অনেকের পরিবার থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞাও করা হয়েছে এ জায়গায় না আসার জন্য বাধ্য করছে।

তাদের এসব কর্মকাণ্ডে নজর নেই যেমন অভিভাবকদের, একইভাবে শিক্ষক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্ব শীলদের তদারকির অভাবে অগোছালো পরিবেশের সৃষ্টি বলে মনে করছে সচেতনমহল।

এ বিষয় শহিদ মিনারে আসা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনেক সময় স্কুল ছুটির পর এখানে আসি, বসে আমাদের বন্ধু-বান্ধব মিলে অবসর সময় কাটাই। এমন সময় আমরা এসে দেখি আমাদের বড় ভাইয়েরা কিছু মেয়েদেরকে নিয়ে বসে আড্ডা দেন। এটা আড্ডা দেওয়ার জায়গা নয়, এটি শহীদ মিনার যেহেতু আমরা বসতে আসি তখন তাঁরা আমাদের তাড়িয়ে দেন। বলেন এখানে আসতে পারবে না। দেখছো আমরা এখানে বসা এমন মন্তব্য করে আমাদের তাড়িয়ে দেন। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের ঠিকমতো অধিকারটুকু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কিন্তু এটা নিয়ম নয়, আমাদের অভিযোগ করার মতো জায়গা নেই, কাকে জানাবো এমন প্রশ্ন রাখেন ওই শিক্ষার্থী!

তিনি আরও বলেন, বড় ভাইয়েরা যদি এমন কর্মকাণ্ড করেন তাহলে তাদের দেখে আমরা কি শিখবো! এমন কর্মকাণ্ডে একদিন আমাদের সমবয়সীরাও তো জড়াতে পারে।

প্রশাসনের প্রতি আমাদের একটাই দাবি এ সকল অসামাজিক কার্যকলাপ দ্রুত বন্ধ করা হোক। এখানে বিকেলে খেলাধুলা হয়। আর শহীদ মিনারটি আমাদের সংস্কৃতির আশেপাশে যেনো এরকম খারাপ দৃশ্য না দেখতে হয়।

একই কথা বলেন আরেক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, তাদের জন্য আমরা এখানে এসে বসতে পারিনা, তাদের থেকে দূরে সরে বসলেও আমাদের বলেন এখান থেকে চলে যাও। অনেক সময় তাঁরা পায়ে জুতা নিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে উঠেন এটা ঠিক নয়। আমরা চাই এটি বন্ধ হোক।

এ বিষয় পৌর মেয়র মো: ফজলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয় জেলা প্রশাসক পদক্ষেপ নিবেন। আর পৌর মেয়র হিসেবে আমি প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষজন এবং শিক্ষার্থীদের শহিদ মিনারে জুতো পায়ে দিয়ে না উঠার আহ্বান করেছি। এবং ইতিমধ্যে শহীদ মিনারের ভারসাম্য রক্ষায় মৌলভীবাজার পৌরসভার পক্ষ থেকে নানান ধরনের অভিযান করেছি, যে বা যারা শহীদ মিনারের সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। রোববার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।


অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন।
এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।


তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষার্থী সুরাইয়া হ-ত্যা-র বিচার দাবিতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. সুরাইয়া খাতুন হ-ত্যা-র প্রতিবাদ ও হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের ফাঁ-সি-র দাবিতে বি-ক্ষো-ভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার খেলার মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।


এ সময় জন্তিহার গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা, শিক্ষক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এস এম নাহিদ হাসানের ছায়া নির্দেশনায়, মানববন্ধনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানবন্ধনে বক্তারা নি-হ-ত সুরাইয়ার হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের দাবি জানান। তা না হলে, আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন বক্তারা।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ