আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

পার্বত্য জেলা বান্দরবান।

রুমা ও থানচিতে সন্ত্রাস দমনে নামানো হয়েছে ৪টি অস্ত্র সজ্জিত সাঁজোয়া যান।

চট্টগ্রাম অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় ব্যাংক ডাকাতিসহ কেএনএফের একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকা-ের ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কেএনএফের সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করতে এরই মধ্যে দুই উপজেলায় বিশেষ সাঁজোয়া যান এপিসি আনা হয়েছে। যা দিয়ে এই দুই উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল দেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এই সাঁজোয়া যান হচ্ছে যুদ্ধে ব্যবহৃত এক প্রকার অস্ত্র সজ্জিত যানবাহন, যা মূলত পদাতিক বাহিনীর যুদ্ধের ময়দানে আসা-যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এ ব্যাপারে বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, রবিবার (৭ এপ্রিল) গভীর রাতে থানচিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে কেএনএফ’র ৩ সদস্যকে আটক করে। তাদের মধ্যে একজন ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ব্যাংক ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে, সঙ্গে চালককেও আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, উপজেলাগুলোতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে চারটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) আনা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বাড়ানো হবে। চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব সাঁজোয়া যানগুলো রুমা-থানচি উপজেলায় ব্যবহার করা হবে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত শনিবার বান্দরবানের রুমা উপজেলা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সেনা প্রধানকে নির্দেশনা দিয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িতরা যদি দেশের বাইরেও থাকে তাদের ইন্টারপোলের সাহায্যে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় রবিবার বান্দরবান আসেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি বেশ কিছু নির্দেশনা দেন।
এসময় তিনি বলেন, শান্তি আলোচনার ছত্রছায়ায় কেএনএফ দিনের পর দিন সন্ত্রাসীরা অপরাধ কর্মকা-ে লিপ্ত হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ তারা যে উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেছে সেটিকে সমন্বিতভাবে যৌথবাহিনী পরিচালনা মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিহত করা হবে বলে জানান সেনা প্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী পাহাড়ে অভিযানের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। দৃশ্যমান কিছু কার্যক্রম আপনারা দেখতে পাবেন।
এদিকে যৌথ অভিযানে আটক হয়েছেন রুমা, থানচি উপজেলায় হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত কেএনএফের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক চেওসিম বম (৫৫) ও কেএনএফ নেতা রোয়ান লিন বম (৫৫)।
র‌্যাব জানায়, রুয়াছড়ি উপজেলায় জুরভাং পাড়া, খামতাং পাড়া, পাইনক্ষিয়াং পাড়া এবং রৌনিন পাড়া এলাকাগুলো সশস্ত্র কেএনএফ সদস্যদের নেতৃত্ব দেন রোয়ান লিন বম। অন্যদিকে বম জঙ্গি নেতা নাথান বমের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে চেওসিম বমের। বান্দরবানের শারণ পাড়ার মৃত রোয়াল খুব বমের ছেলে চেওসিম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে যুবককে পেটানোর পর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায় চুরির অভিযোগে যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। রোববার দুপুরে নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।কোতোয়ালী থানার ডিউটি অফিসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভাঙ্গুড়ায় মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদন্ড সহ কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একজন কে বিনাশ্রম কারাদণ্ড সহ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার ২০ জুন সকাল রাত ৮ টার দিকে উপজেলার কাশিপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মোঃ তানভীর আহমেদ শিমুল (২৮), পিতা-মোঃ সামছুল হক, সাং- চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া, ভাঙ্গুড়া, পাবনা কে ১০০০/= (এক হাজার) টাকা অর্থদন্ড ও ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে তাকে সহযোগীতা করেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ