আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টায় হত্যার রহস্য উদ্‌‌ঘাটন, আসামি গ্রেফতার এবং মোবাইল ফোন ও রিকশা উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টায় হত্যার রহস্য উদ্‌‌ঘাটন, আসামি গ্রেফতার এবং মোবাইল ফোন ও রিকশা উদ্ধার।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদের তদারকিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) জনাব মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনজুর কাদের মজুমদারের সহযোগিতায়, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব মোঃ আলমগীরের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) মোঃ হাছান আলী তার সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সগণ বন্দর থানার মামলা নং-২১, ধারা- ৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড রুজু হওয়ার পূর্বে পিবিআইয়ের সহায়তায় হত্যামামলার ভিকটিম মৃত আলমগীর ফকির (৬৫) এর পরিচয় শনাক্ত করেন। মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলার ঘটনাস্থলের পাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও বিশ্বস্ত গুপ্তচর হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে একপর্যায়ে আসামি মোঃ আরিফ (২৮)-কে বন্দর থানাধীন ধুপপুল এলাকাতে অবস্থিত তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেন এবং আসামির দখল থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি উদ্ধর করেব। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, সে ও ভিকটিম পূর্বে একই গ্যারেজে রিকশা চালাতো। তারা গ্যারেজের অভ্যন্তরে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে লুডু খেলছিল। তখন লুডু খেলা নিয়ে দুজনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম আসামিকে একটি থাপ্পড় মারে। থাপ্পড় মারার কারণে আসামি ভিকটিমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং সে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি ভিকটিমকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সে একটি রেঞ্চ তার সাথে রাখে এবং গত ৩০/০৫/২৪ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ০২.৫৫ ঘটিকায় সল্টগোলা ক্রসিং ফলের দোকানের সামনে থেকে তার পূর্বপরিচিত ভিকটিম আলমগীর ফকিরের রিকশায় উঠে (যা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়)। সে রিকশাযোগে ইসহাক ডিপোতে যাওয়ার পথে বন্দর থানাধীন কাস্টম ব্রিজের ১০০ গজ পশ্চিমে রাস্তার উপর পৌঁছালে সে আলমগীর ফকিরকে তার সাথে থাকা ০১টি রেঞ্চ দিয়ে ভিকটিমের মাথার ডান পাশে আঘাত মেরে রিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন ভিকটিম তাকে বাধা প্রদান করলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে সে পুনরায় রেঞ্চ দিয়ে ভিকটিমের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। লোকজন যেন তার মৃতদেহটি না দেখে সেজন্য আসামি তার মৃতদেহটি টেনেহিঁচড়ে একটু আড়ালে রেখে ঘটনায় ব্যবহৃত রেঞ্চটি ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে দেয়। অতঃপর সে ভিকটিমের ব্যবহৃত ফিচার ফোন ও রিকশাটি নিয়ে অন্যত্র চলে যায় এবং যন্ত্রাংশ খুলে খুলশী থানাধীন সর্দার বাহাদুরনগর এলাকার খলিলের স্ক্র‍্যাপের দোকানে কেজি হিসেবে ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি করে। তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক উক্ত স্ক্র‍্যাপের দোকান থেকে রিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেখানোমতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ০১টি রেঞ্চ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল দুই পেট্টোল পাম্প, ওজন কম ও হালনাগাদ নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে দুইটি পেট্টোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়। বুধবার বিএসটিআইয়ের পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব জরিমানা করা হয়। দুটি পেট্টোল পাম্পকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরীক্ষক প্রিময় মজকুরী জয়। অভিযানে নগরীর পাঁচলাইশ থানার নাসিরাবাদের বাদশা মিয়া অ্যান্ড সন্স পেট্টোল পাম্পের ডিসপেন্সিং ইউনিট যাচাই করে দেখা যায়, ডিজেল সরবরাহে প্রতি ৫ লিটারে ১২০ মিলিলিটার কম দেওয়া হয়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন মন্ডল অপু।

একইদিন, কাতালগঞ্জ এলাকার হাজি ইউনুস অ্যান্ড কোং নামের পেট্টোল পাম্পের ভেরিফিকেশন সনদ হালনাগাদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে তাদের ডিসপেন্সিং ইউনিটে পরিমাপের যথার্থতা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। এছাড়া একই এলাকায় খান ব্রাদার্স সিএনজি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিমাপ সঠিক এবং প্রয়োজনীয় সব সনদ হালনাগাদ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

চালের কার্ড দিবে বলে প্রতারনা স্বর্ণালংকার লুট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে শামসুন নাহার (৬০) নামের এক বৃদ্ধা কানের দুল ও স্বর্ণের রকেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে গোমদন্ডী বুড়ি পুকুর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগীরা হলেন বোয়ালখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদার তালুকদার বাড়ির শামসুন নাহার ও তার পুত্রবধূ খুরশিদা বেগম (২৭)।

খুরশিদা বেগম জানান, বুড়িপুকুরপাড় এলাকার একটি মাদ্রাসায় ছেলেকে দেখতে যান তারা। পরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক যুবক তাদের পথরোধ করে ‘চাউলের কার্ড’ করে দিলে সরকারি চাউলের বস্তা দেওয়া হবে বলে জানায়। পরে তাদের আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বলে। তিনি বলেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করছে না বলে ওই যুবক জানতে চায় তাদের কাছে কোনো স্বর্ণ আছে কি না। তখন তিনি এক জোড়া কানের দুল খুলে দেন। পরে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে তাকে সামনে একটি দোকানে যেতে বলে এবং শাশুড়ি শামসুন নাহারকে সেখানে রেখে যেতে বলে।এ সুযোগে তিনজন প্রতারক শামসুন নাহারকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

শামসুন নাহার জানান, তাকে সিএনজিতে করে অলিবেকারী এলাকায় নিয়ে গিয়ে এক জোড়া কানের দুল ও ধারালো কিছু দিয়ে গলার স্বর্ণের রকেট কেটে নেয় প্রতারকরা। পরে একটি স্থানে নামিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। প্রতারক চক্র শাশুড়ি ও পুত্রবধূর কাছ থেকে দুই জোড়া কানের দুল প্রায় ১২ আনা স্বর্ণ, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল হাতিয়ে নেয় তারা।
এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন খুরশিদা বেগম।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ