চট্টগ্রাম বন্দর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টায় হত্যার রহস্য উদ্‌‌ঘাটন, আসামি গ্রেফতার এবং মোবাইল ফোন ও রিকশা উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টায় হত্যার রহস্য উদ্‌‌ঘাটন, আসামি গ্রেফতার এবং মোবাইল ফোন ও রিকশা উদ্ধার।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদের তদারকিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) জনাব মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনজুর কাদের মজুমদারের সহযোগিতায়, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব মোঃ আলমগীরের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) মোঃ হাছান আলী তার সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সগণ বন্দর থানার মামলা নং-২১, ধারা- ৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড রুজু হওয়ার পূর্বে পিবিআইয়ের সহায়তায় হত্যামামলার ভিকটিম মৃত আলমগীর ফকির (৬৫) এর পরিচয় শনাক্ত করেন। মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলার ঘটনাস্থলের পাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও বিশ্বস্ত গুপ্তচর হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে একপর্যায়ে আসামি মোঃ আরিফ (২৮)-কে বন্দর থানাধীন ধুপপুল এলাকাতে অবস্থিত তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেন এবং আসামির দখল থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি উদ্ধর করেব। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, সে ও ভিকটিম পূর্বে একই গ্যারেজে রিকশা চালাতো। তারা গ্যারেজের অভ্যন্তরে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে লুডু খেলছিল। তখন লুডু খেলা নিয়ে দুজনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম আসামিকে একটি থাপ্পড় মারে। থাপ্পড় মারার কারণে আসামি ভিকটিমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং সে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি ভিকটিমকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সে একটি রেঞ্চ তার সাথে রাখে এবং গত ৩০/০৫/২৪ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ০২.৫৫ ঘটিকায় সল্টগোলা ক্রসিং ফলের দোকানের সামনে থেকে তার পূর্বপরিচিত ভিকটিম আলমগীর ফকিরের রিকশায় উঠে (যা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়)। সে রিকশাযোগে ইসহাক ডিপোতে যাওয়ার পথে বন্দর থানাধীন কাস্টম ব্রিজের ১০০ গজ পশ্চিমে রাস্তার উপর পৌঁছালে সে আলমগীর ফকিরকে তার সাথে থাকা ০১টি রেঞ্চ দিয়ে ভিকটিমের মাথার ডান পাশে আঘাত মেরে রিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন ভিকটিম তাকে বাধা প্রদান করলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে সে পুনরায় রেঞ্চ দিয়ে ভিকটিমের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। লোকজন যেন তার মৃতদেহটি না দেখে সেজন্য আসামি তার মৃতদেহটি টেনেহিঁচড়ে একটু আড়ালে রেখে ঘটনায় ব্যবহৃত রেঞ্চটি ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে দেয়। অতঃপর সে ভিকটিমের ব্যবহৃত ফিচার ফোন ও রিকশাটি নিয়ে অন্যত্র চলে যায় এবং যন্ত্রাংশ খুলে খুলশী থানাধীন সর্দার বাহাদুরনগর এলাকার খলিলের স্ক্র‍্যাপের দোকানে কেজি হিসেবে ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি করে। তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক উক্ত স্ক্র‍্যাপের দোকান থেকে রিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেখানোমতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ০১টি রেঞ্চ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

চট্টগ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন, যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যায় আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। দণ্ডিত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিঠুর (৩২) বাড়ি হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামে।একই রায়ে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের খিল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছোট্ট মিয়ার মেয়ে মোছাম্মৎ কলি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হন। পরদিন সন্ধ্যায় তার লাশ বাড়ির অদূরে পুকুরপাড়ে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়।অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার অভিযোগে ১৮ অক্টোবর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তাতে বলা হয়, নজরুল ও কলি তালতো ভাই-বোন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন নজরুল তাকে পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে রেখে যায়।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী জানালেন, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। তবে একই আইনের ৭ ধারায় অপহরণের অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন। লাশ গুমের অভিযোগ প্রমাণ হলেও একই ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় আদালত দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আসামিকে কোনো সাজা দেননি।

তিনি বলেন, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হলেও আসামিকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার বিষয়টি আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, আদালতের কাছে ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত মনে হয়নি। আসামি ছিলেন নিরস্ত্র। ঘটনার সময় বয়স ছিল মাত্র ২৪। গ্রেফতারের পরদিনই দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। আগের কোনো সাজাও নেই। ইতোমধ্যে আসামির আট বছর হাজতে কেটেছে। ভবিষ্যতে সংশোধনের অযোগ্য এমন কিছু রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেননি আসামি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ