চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের সেমিনার

সহনশীল আচরণের অভাবে রোগীর বিদেশযাত্রা ঠেকানো যাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিকিৎসা ব্যবস্থায় নৈতিকতার চর্চা ও চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক বিষয়ে এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, শুধুমাত্র আন্তরিকতা, নৈতিকতার চর্চা ও সহনশীল আচরণের অভাবে রোগীর বিদেশযাত্রা ঠেকানো যাচ্ছে না। গত শুক্রবার রাতে নগরীর ও আর নিজাম রোডে হোটেল ওয়েল পার্কে এ সেমিনারের আয়োজন করে চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, চট্টগ্রাম’। সংগঠনের জেলা সভাপতিত্বে ডা. চন্দন দাশের সভাপতিত্বে সেমিনারের শুরুতে ‘মেডিকেল ইথিকস এন্ড ডক্টর-পেশেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা. নন্দন কুমার মজুমদার। এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এনেস্থেশিয়া (অবেদন) বিশেষজ্ঞ ডা. দুলাল দাস ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস সি ধর।
ডা. দুলাল দাস বলেন, পৃথিবী অস্থির, দেশ অস্থির, সমাজ অস্থির। অস্থিরতার প্রভাব থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থা মুক্ত থাকবে, এটা আশা করা বোকামি। স্বাভাবিকভাবেই অস্থিরতার প্রভাব চিকিৎসকদের মধ্যেও পড়েছে। ৫৪ বছরের প্র্যাকটিসিং লাইফে কোনোদিন এমন দুর্নীতিপরায়ণ চিকিৎসা ব্যবস্থা আমি দেখিনি। রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। ডাক্তাররা এখন ব্রোকার (দালাল) পোষেন, ব্রোকারদের কাছ থেকে রোগী নেন, তারপর ১০ হাজার টাকার পরীক্ষা দেন আর কমিশন খান, তাহলে সুচিকিৎসা হবে কিভাবে? বড় বড় ডাক্তার, উনার নম্বর নেয়ার জন্য তার স্টাফকে ১০০ টাকা দিতে হয়। কোনো হাসপাতাল-ক্লিনিকে কোনো সিস্টেম নেই। ব্রোকারনির্ভর ডাক্তার, এমনও দেখা যায়, সার্জনের চেয়ে ব্রোকারের ফি বেশি।
রোগীর বিদেশযাত্রা ঠেকানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলেন, আমরাও বলি, চিকিৎসা না পেয়ে রোগীরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এটা সত্য নয়। আমাদের মেধা-যোগ্যতা কোনো অংশে বিদেশের ডাক্তারদের চেয়ে কম নয়। ওরা যা পড়েছে, আমরাও তা পড়েছি। হয়তো আমাদের লজিস্টিকস কম থাকতে পারে। কিন্তু রোগী চিকিৎসা পাচ্ছে না, এমন নয়। আমি রোগীদের অনেককে জিজ্ঞেস করেছি। তারা বলছে- ডাক্তার কথা বলে না, জিজ্ঞেস করলেও বলে না, শুধু স্লিপের পর স্লিপ লিখে দেয়।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস সি ধর বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের মানুসের নৈতিকতা-অনৈতিকতায়ও পরিবর্তন হয়েছে। মাথায় পচন ধরেছে, সেটার চিকিৎসা না করে শুধুমাত্র পেশা ধরে ধরে ব্যক্তি মানুষকে ইথিকস মানানোর চেষ্টা করা হলে এটা হাস্যকর হবে। চিকিৎসকদের সম্পর্কে বদনামগুলো যদি দূর করতে হয়, তাহলে আগে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ সমস্যা শুধুমাত্র চিকিৎসকের সমস্যা, এটা ভাবলে ভুল হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন ডাক্তারের কাছে রোগীর অনেক জিজ্ঞাসা থাকে, তাকে সেগুলোর জবাব দেয়া আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আপনি যদি মনে করেন, আপনার পক্ষে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাহলে ছেড়ে দেন, অন্য কোনো ডাক্তারের কাছে পাঠান, কিন্তু তাকে ধরে রেখে বদনামের ভাগীদার হবেন না। একজন রোগী যখন আপনার কাছে আসবে, তাকে আগে অবজার্ভ করেন। শুধুমাত্র তার রোগ অবজার্ভ নয়, ফিজিক্যালি, মেন্টালি, তার ইকোনমিক্ কন্ডিশন অবজার্ভ করতে হবে। আপনি প্রয়োজন ছাড়া তাকে ৮টা-১০টা পরীক্ষা লিখে দিলেন, সক্ষমতা আছে কি না তো দেখতে হবে। সক্ষমতা থাকলেও সে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে কেন ?
এস সি ধর আরও বলেন, একজন চিকিৎসকের আচরণ হতে হবে ইক্যুয়েল। রোগী মন্ত্রীর ছেলে না কি রিকশাওয়ালার ছেলে, সে হিন্দু না কি মুসলিম, ধনী না কি গরীব- এটা দেখা আপনার দায়িত্ব নয়। সে আপনার রোগী, শুধু এটা মাথায় রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। বিত্তশালী কাউকে আপনি খুব মনযোগ দিয়ে চিকিৎসা দিলেন, গরীব পেশেন্টকে আপনি অবহেলা করলেন, এটা নয়, ইক্যুয়েল হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. চন্দন দাশ বলেন,আসলে সংকটটা রাষ্ট্রে, আমাদের সমাজে। এর প্রভাবে আমাদের মূল্যবোধে, মননে সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নানা অজুহাতে চিকিৎসকদের হয়রানি করা হচ্ছে। সেটা মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। সেই আইন প্রণয়নের জন্য আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। আজকের পৃথিবীতে সবকিছুকেই পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেও পণ্যের জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা মানুষের মৌলিক চাহিদা, মৌলিক অধিকারগুলোকে পণ্যের ধারণা থেকে বের করে আনতে কাজ করছি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন, কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নারীনেত্রী লতিফা কবির, ডা. দিলীপ দে, ডা. পূর্ণেন্দু বিকাশ সাহা, আইনজীবী জহীর উদ্দীন মাহমুদ ও নাসির উদ্দিন।

কামরুল হাসান বাদল বলেন, আমরা সবাই অস্থিরতায় আক্রান্ত। কেউ কারও কথা শুনতে চাচ্ছি না, শোনার আগ্রহ নেই, শোনাতে আগ্রহী সবাই। ডাক্তাররা এমন, আইনজীবীরা এমন, সাংবাদিকরা এমন- এভাবে টার্গেট করে বলার সুযোগ নেই। অনেকে ডাক্তারদের কসাই বলেন, মানসিক অস্থিরতা কোন পর্যায়ে গেলে এমন কথা মানুষ বলতে পারেন, এটা তার একটা বাস্তব উদাহরণ। এর থেকে বের হতে হলে সমাজে মানবিকতা, উদারতা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, সামাজিক অস্থিরতার প্রভাব শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে পড়েছে এমন নয়, রোগীদের মধ্যেও পড়েছে। চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে আস্থার একটা সংকট তৈরি হয়েছে। আগে যে বলা হতো- ডাক্তার মানে ঈশ্বরের পরে, সেই ধারণা আর নেই। ডাক্তারের কাছে গিয়েও রোগী কিংবা তাদের স্বজনরা জিততে চান। এর ফলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগী কিংবা স্বজনদের চড়াও হওয়া, বিভিন্ন অভিযোগ তোলা এসব ঘটনা ঘটে। এসবের অবসান হওয়া দরকার। একজন চিকিৎসকের ভূমিকা হচ্ছে রোগীর স্বজনদের প্রাসঙ্গিক বিষয় জানানো। আর রোগী কিংবা রোগীর স্বজনদের উচিৎ অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশ্ন না করা।
ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, মেডিকেলে একজন রোগীকে আমি মনপ্রাণ দিয়ে চিকিৎসা করলাম, যাবার সময় তিনি বললেন, ডাক্তার আমাকে একটা বেড পর্যন্ত দিল না, আমাকে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। রোগী মনে করেন তাকে বেড দেয়ার মালিক ডাক্তার। সমাজের মানুষের এমন ধারণার মধ্যে ইথিকসের চর্চা কঠিন। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু- এ চারটা শব্দ জেনেই অনেকে চিকিৎসা সাংবাদিকতা শুরু করে দিচ্ছেন। ডাক্তার সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য ছড়ানোই যেন সংবাদপত্রের একমাত্র কাজ। আমি পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস পাস করলাম, সার্ভিস ট্রেনিং ছাড়াই আমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছে গ্রামগঞ্জে।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা খারাপ কাজের নিন্দা করতে ভুলে গেছি। খারাপ লোকের প্রশংসায় মশগুল থাকি। এর ফলে সমাজে নৈতিকতা-অনৈতিকতার চর্চাটা, শৃঙ্খলাটা ভেঙ্গে গেছে। আমরা মারাত্মক অবক্ষয়ের জায়গায় চলে এসেছি। সকল ইনস্টিটিউশন আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। সেগুলো আমরা রক্ষা করতে পারছি না। নীতিবিদ্যাই তো আমরা শিখাচ্ছি না। ধর্মের সঙ্গে নীতিবিদ্যা যোগ করে দেয়া হয়েছে। ধর্ম দিয়ে নীতিবোধের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। অথচ ধর্ম এক বিষয়, নীতিবিদ্যা আরেক বিষয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হাসপাতালের সাফল্য কি শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, কতটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব? নাকি এর পাশাপাশি দেখতে হবে, রোগী কত সহজে সেবা পেলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য কতটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন, অভিযোগ জানালে কত দ্রুত সাড়া পেলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করা হলো? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চিকিৎসার মান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যথাযথ রোগনির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর কাছে স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় আরও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া, অপেক্ষা, বিলিং, চিকিৎসা-পরবর্তী নির্দেশনা—প্রতিটি পর্যায় তাঁর আস্থা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জবাবদিহির প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে, রোগী প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে না পারলে কিংবা অভিযোগের যথাযথ সমাধান না হলে শুধু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায় তখনই, যখন সে নিজের কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে, দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দায়িত্ব নেয়।

এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিমাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু রোগীর সংখ্যা বা সেবার পরিমাণ নয়, অপেক্ষার সময়, অভিযোগের ধরন ও সমাধান, তথ্য প্রদানের স্বচ্ছতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যোগাযোগের মতো বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব সূচককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সংখ্যার পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করে না। তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্ব নির্ধারণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কেবল আরও কিছু রিপোর্ট তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে জবাবদিহিকে শাস্তিমূলক সংস্কৃতি হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার কারণ বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সংশোধন করা এবং পুনরাবৃত্তি কমানো। যেখানে অবহেলা বা অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে যথাযথ তদন্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যেখানে সমস্যার উৎস জটিল প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত সমন্বয় বা অস্পষ্ট দায়িত্ব, সেখানে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন জরুরি। এই দুই দিকের ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি, খরচ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য রোগীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগাযোগ শুধু তথ্য পাঠানোর কাজ নয়; রোগী তথ্যটি বুঝেছেন কি না, তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা গড়ে ওঠে এমন ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই।

এই দায়িত্ব কোনো একক বিভাগ বা পেশাজীবীর নয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি প্রশাসন, রোগীসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সব উন্নয়ন উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই শুধু অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর দিকে তাকালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের কাজের মান যাচাই করে, রোগীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিরোধী নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে তা চর্চা করতে পারলে সুনামের ভিত্তি আরও শক্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উৎকর্ষ শুধু ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতায় নয়, বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেও নিহিত। এই মানসিকতাই স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও একইদিন কাটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। চক্ষু পরীক্ষায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী ও শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেফার করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক, চিকিৎসক ডা. অভিক দে ইমু, ডা. পূজা চৌধুরী, ডা. উম্মায় সালমা মুমু ও ডা. জনি পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক (আইসিও) মোশরাফাতুল জান্নাত আখি, অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি)মো. মাইন উদ্দিন খান,
অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি) সনি দাস, অপটোমেট্রি প্রশিক্ষক (আইসিও) নিশিতা আফরিন, সহকারী ফিল্ড অফিসার বোরহান উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা ও ফটোগ্রাফার মো. আবু শহীদ ফারুকী প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করার আহ্বান জানান।

এ কার্যক্রমটি এনায়েতপুর গণ পাঠাগার ও সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও চক্ষু স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, গ্রাম চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ