আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

হাম-রুবেলার টিকা নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ালে ব্যবস্থা : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধকল্পে বর্তমান সরকার জরুরী ভিত্তিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে ঝুঁকির্পর্ণ ও দুর্গম এলাকাসহ সব জায়গায় এ বয়সের কোন শিশু যাতে হাম-রুবেলার টিকা থেকে বাদ যা পড়ে সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। হাম নিমূলে সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। হাম-রুবেলার টিকা নিয়ে কেউ গুজব ও অপপ্রচার ছড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। হাম-রুবেলার জরুরী টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে আজ রোববার সকাল ১১টায় বিভাগীয় কমিশনার কর্যালয়ের কনফারেন্স হলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অ্যাডভোকেসী সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগেও আগামীকাল ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে চলবে ১০ মে পর্যন্ত। সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে। আগামীকাল ২০ এপ্রিল সোমবার সকাল ৯টায় সীতাকুন্ডের জঙ্গল-সলিমপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হবে।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে সর্বত্র মাইকিং করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে হাম-রুবেলার টিকা নেয়া যাবে।এ ক্যা¤েপইনের প্রচার-প্রচারণার তদারকি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে দফাদার-চৌকিদারদের (গ্রাম পুলিশ) দায়িত্ব পালনে চিঠি ইস্যু করা হবে। অন্যান্য বারের মতো টিকাদান ক্যাম্পেইনে আমরা এবারও দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করবো, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে আমরা গৌরব অর্জন করবো-এ লক্ষ্যে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করবো।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু আলোকপাত করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. ইমং প্রু চৌধুরী।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবু সালেহ মোঃ ফোরকান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিয়া, মাউশি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোঃ ফজলুল কাদের, ইউনিসেফ’র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ নূরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের, কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোঃ বশীর আহমদ, চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নুর আলমদীন, লক্ষীপুর জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা, নূয়েন খীসা, পরিবার পরিকল্পনা লক্ষীপুর জেলার উপপরিচালক নাজমুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খান, পিআইডি’র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মোঃ সাঈদ হাসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী প্রমূখ। সভায় বিভিন্ন জেলা পরিবার পরিকল্পনা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, স্টেক হোল্ডারগণ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
অ্যাডভোকেসী সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় জরুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এ সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার রামু, মহেশখালী, চাঁদপুর জেলা সদর ও হাইমচর উপজেলাও কর্মসূচী শুরু হয়।

গত ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল ও ময়মনসিংহে দ্বিতীয় দফায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে ১০ মে পর্যন্ত চলবে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে হাম-রুবেলার টিকা নেয়া যাবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ১৬৪টি স্থায়ী কেন্দ্র, ২৪ হাজার ৬৪০টি ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ টিকা দেয়া হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে ১ হাজার ১৫টি মপ-আপ টিম ও সান্ধ্যকালীন ১৬টি টিম এ টিকা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। যে কোন মূল্যে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা হবে।

সভায় আইসিডিডিআর,বি’র বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হাম-রুবেলার জন্য সবাই হাসপাতালে আসবে না, তাদেরকে তৃণমূলে সেবা দিতে হবে। হাম বা মিজেলস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত জ্বর শুরুর ৭-১০ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। হাম থেকে রক্ষায় শিশুকে বেশি করে তরল খাবারের পাশাপাশি অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। জ্বর হলে কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছতে হবে।

প্রয়োজনে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিতে হবে এবং চোখ পরিস্কার রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ’এ’ খেতে হবে। শিশুর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হলে বা বুকের খাঁচা দেবে গেলে, তরল খাবার বা বুকের দুধ খেতে না পারলে, বারবার বমি হলে, খিঁচুনি, নিস্তেজ, তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ডাকে সাড়া না দিলে, মুখে ঘা, চোখে সমস্যা বা চোখ খুলতে না পারলে এবং তীব্র পানি শূন্যতা বা অপুষ্টি-এগুলোর যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরী না করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সর্বত্র প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ। এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত একাধারে সমাজ হিতৈষী, শিক্ষাবিদ সফল ক্রীড়াবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমাজ হিতৈষী, জন বান্ধব সফল শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একাধারে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সফল ক্রীড়াবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-১৩ সংসদ সদস্য সরওয়ার নিজাম বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তিনি কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁর নিরহংকারী স্বভাব ও দেশপ্রেমিক চেতনা তাঁকে সবার কাছে শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল।

‎সোমবার (৪ মে) বিকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের নাগরিক শোকসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের নাগরিক শোকসভা কমিটি আয়োজিত সভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলি চৌধুরী, লতিফা সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আনন্দ মোহন চৌধুরী, প্রকৌশলী ইমন দত্ত।

‎নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক তাপস হোড়ের সভাপতিত্বে সাংবাদিক সরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় শোক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন ছাবের আহমদ চৌধুরী।বক্তারা বলেন, প্রকৃতি রঞ্জন শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন তা নয়, তিনি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্ব বুঝতেন এবং তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতেন। পাশাপাশি সমাজ সংস্কারক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে অবদান রাখেন। সব মিলিয়ে, প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও প্রেরণার উৎস।

শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একাধারে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সফল ক্রীড়াবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-১৩ সংসদ সদস্য সরওয়ার নিজাম বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তিনি কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁর নিরহংকারী স্বভাব ও দেশপ্রেমিক চেতনা তাঁকে সবার কাছে শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল।‎শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের নাগরিক শোকসভা কমিটি আয়োজিত সভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলি চৌধুরী, লতিফা সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আনন্দ মোহন চৌধুরী, প্রকৌশলী ইমন দত্ত।নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক তাপস হোড়ের সভাপতিত্বে সাংবাদিক সরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় শোক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন ছাবের আহমদ চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, প্রকৃতি রঞ্জন শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন তা নয়, তিনি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্ব বুঝতেন এবং তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতেন। পাশাপাশি সমাজ সংস্কারক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে অবদান রাখেন। সব মিলিয়ে, প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও প্রেরণার উৎস।
তাঁর হাতে গড়া ছাত্ররা আজ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি – বেসরকারি দপ্তরে কর্মরত, শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা কর্তব্যবোধ তারই বহি:প্রকাশ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে: ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সকালে মেয়র নগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রজাপতি রোডস্থ সিডিএ খাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরে তিনি ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাটগড় মোড় থেকে চর পাথরঘাটা পর্যন্ত চলমান নালা নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকি করেন। এরপর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দার পাড়া থেকে টিজি অফিস সাগরপাড় পর্যন্ত পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে বিমানবন্দর থাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। তাই এই এলাকাসহ পুরো নগরীকে সবসময় জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশন ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যদি ড্রেন ও খালে ময়লা আবর্জনা ফেলে, তাহলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নগরী আমাদের সবার, তাই এটিকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জলাবদ্ধতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।

মেয়র আরও বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নালা নর্দমা ও খালসমূহ পরিষ্কার করার লক্ষ্যে চসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি খাল খনন, খালের গভীরতা বৃদ্ধি এবং বন্ধ মুখগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল থাকে এবং পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।

এসময় তিনি মুসলিমাবাদ খাল পরিদর্শন করে খালটি দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ও নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নেয়। এজন্য বাসাবাড়ি, মার্কেট, ভবনের ছাদ কিংবা এসির ভেতরে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে জনপ্রতিনিধি, সেবাদানকারী সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, সহকারী প্রকৌশলী রূপক চন্দ্র দাশ, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, সহকারী ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, ইন্জিনিয়ার মো: মোহাইমিনুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, মেয়রের এপিএস মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ), মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ