আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

কক্সবাজার:

অপহৃত সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হলো হতভাগা মা

আবু বক্কর সিদ্দিক বিশেষ প্রতিনিধি উখিয়া:

উখিয়া:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়ন এর ৭নং ওয়ার্ডের রুপপতি এলাকার আজগর আলী মার্কেটের পূর্ব পাশে নির্জন পাহাড়ে বসবাস করে এক রোহিঙ্গা নারী।জানা যায় গত ১৬ই জুন ২০২৪ ইংরেজি রোজ রবিবার প্রবাসী মোঃ ছিদ্দিকের পুত্র ইমামের ডইল আল করিম ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র নেজাম উদ্দিন(১২) কে অপহরণ করে। অপহৃত নেজাম উদ্দিন এর মাতা সাবিনা ইয়াসমিন(৩৮) বিভিন্ন জায়গায় খুঁজাখুঁজির পর সে জানতে পারে যে, তার ছেলেকে তার প্রতিবেশি রোহিঙ্গা নারী ফাতেমা(৪০) অপহরণ করছে।জানার পর গত ২০ই জুন ২০২৪ ইং রোজ রবিবার সকাল আনুমানিক ১১.০০টার সময় নেজাম উদ্দিন(১২) এর মা সাবিনা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গেলে ফাতেমা(৪০) এবং তার বাবা রোহিঙ্গা নুরুল হক(৬০), রোহিঙ্গা সাদেকা(১৯) ও তার সহযোগী আরও ৪/৫ জন নারী পুরুষ মিলে অপহৃত নেজাম উদ্দিন এর মা সাবিনা ইয়াসমিনকে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন করেন।এক পর্যায়ে সাবিনা ইয়াসমিন চিৎকার করলে তার চিৎকার শুনে ফাতেমার প্রতিবেশী আতিকুল্লাহ সহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।পরে ৯৯৯ এ কল করেন তারা। পরবর্তীতে পুলিশি সহায়তায় সাবিনা ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার ছেলে নেজাম উদ্দিন(১২) এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ নেজাম উদ্দিন এর মা সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে উখিয়া থানায় রোহিঙ্গা নুরুল হক(৬০) ও রোহিঙ্গা ফাতেমা(৪০)রোহিঙ্গা সাদেকা(১৯)সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় এক অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আতিক উল্লাহ বলেন রোহিঙ্গা ফাতেমার বাড়িতে মহিলার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে দেখি যে, একটা মহিলাকে হাত পা-বেঁধে মাঠিতে ফেলে তার বাবা, বোন ও ৪/৫ জন মিলে কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতেছে।এ-সময় আমি তাঁকে উদ্ধার করতে চাইলে তখন তারা আমার উপর হামলার চেষ্টা করে। তখন আমি নিজেই আমার অন্য প্রতিবেশীদের ডাকি ও ৯৯৯ এ কল করি পুলিশের সহায়তায় ভিকটিম সাবিনাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করি।

জালিয়া পালং ইউনিয়ন এর স্থানীয় রুপপতি এলাকার বাসিন্দা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য আব্দুল হকের পুত্র লুৎফর রহমান জানান এই রোহিঙ্গা নারী ফাতেমা(৪০) ও তার বাবা এবং আরও অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় এই অঞ্চলে দীর্ঘ দিন ধরে একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।শোনা যায় সে ও তার বাবা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিষিদ্ধ সংঘটন আল ইয়াকিনের সাথে যোগ স্বাজসে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যা স্থানীয়দের দৃষ্টিগোছর হলে সাধারণ মানুষদের অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়।তার বাড়ি গহীন পাহাড়ের মধ্যে হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি পড়েনি তার এসব কর্মকাণ্ডে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে এই রোহিঙ্গা নারী ফাতেমা (৪০) তার স্বামীঃ মাহমুদুল হক মালয়েশিয়া প্রবাসী সে স্থানীয় ছেলে তাই সে এই এলাকায় সহজে চলাচল করে এবং তার কর্মকাণ্ডের প্রতি তেমন কেউ নজর দেয় না এই ঘটনার পর থেকে এক এক করে তার সব কর্মকাণ্ড বেরিয়ে আসছে, সে মানব পাচার,মাদক পাচার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিষিদ্ধ সংঘঠন আল ইয়াকিন এর ইন্টারনাল সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

স্থানীয় জনসাধারণের দাবী আমরা এই ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সাথে অপহৃত শিশু নেজাম উদ্দিনকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সিএমপির নতুন কমিশনার মো. শওকত আলী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিআইজি হাসান মো. শওকত আলী।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

এছাড়া বিশেষ শাখা (এসবি) ঢাকার ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) পদায়ন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ