আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম:

থানায় নিয়ে চাঁদা-চেক আদায়, তিন পুলিশসহ ৫ জনের নামে মামলা

চট্টগ্রাম অফিস:

চন্দনাইশ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাদা পোশাকে তুলে থানায় নেওয়া হয় এক মাদরাসা শিক্ষককে। এরপর তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে প্রাণে মারার ভয়ভীতি দেখান। ভয়ে ধারে ওই পুলিশ সদস্যদের এনে দেন এক লাখ টাকা। তাতেও রেহাই মিলেনি। আরও টাকা দাবি করেন তারা। পরে ইসলামী ব্যাংকের দেড় লাখ টাকার খালি স্ট্যাম্পেও সই দিয়ে কোনোমতে ফিরে আসেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। তবে শুনে আসেন ঘটনা কাউকে বললে মামলায় ফাঁসবার হুংকার।

এমনকাণ্ডের অভিযোগে খুলশী থানার দুই উপ-পরিদর্শক ও এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জিনিয়ার আদালতে। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ওই শিক্ষক তিন পুলিশসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, নগরের খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমিত বড়ুয়া, ইকবাল বিন ইউসুফ ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. এমদাদ এবং নগরের খুলশীর আমবাগান এলাকার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর ও মো. ইয়াসিনকে।

মামলার বাদী আজিজুল হক নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার জালালাবাদ তালিমুল কোরবান বড় মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি ওই মাদরাসার স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকায়।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পরিচিত মো. তৌফিকের কাছ থেকে গত ৭ এপ্রিল ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি এয়ারকন্ডিশন (এসি) কেনেন। কিন্তু বিদ্যুতের সমস্যার কারণে সেটি চালু করতে পারেননি। পরে তিনি ওই এসি তৌফিককে ফেরত দিতে চান। তিনি সেটি নিতে দেরি হবে বলায় তার আরেক পরিচিত গোলজার বাবুর মাধ্যমে সেই এসিটি একটি দোকানে বিক্রির জন্য পাঠান। তখন গোলজার বাবু খুলশী থানার আমবাগান এলাকার জাহাঙ্গীর ও ইয়াসিনের মালিকানাধীন উত্তরা রেফ্রিজারেটর নামক দোকানে এসিটি বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

ওই দোকানের লোকজন দাবি করেন, তাদের দোকান থেকে সম্প্রতি চুরি হওয়া কয়েকটি এসির মধ্যে এটিও আছে। তখন বাদী আজিজুল হককেও সেই দোকানে ডেকে নেন গোলজার বাবু। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে জাহাঙ্গীর, ইয়াছিন ও তাদের কর্মচারীরা আজিজুলকে মারধর করেন।

এরইমধ্যে সেখানে সাদাপোশাকে হাজির হন খুলশী থানার এসআই সুমিত বড়ুয়া ও এএসআই এমদাদ। তারা আজিজুলকে পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর থানা হাজতে নিয়ে আজিজুলকে মারধর করেন তারা।

ওইদিন রাতেই বাদীকে থানায় আটকে রেখে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে এএসআই এমদাদ আড়াই লাখ টাকা নগদ দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে প্রস্তাব দেন আজিজুলকে। পরে বাধ্য হয়ে ৮ এপ্রিল রাত ১টার দিকে আজিজুলের এক বন্ধু এক লাখ টাকা এনে পাঁচ আসামির উপস্থিতিতেই এএসআই এমদাদকে দেন।

এতেও তারা থেমে থাকেননি। বাকি দেড় লাখ টাকার জন্য আজিজুলকে নির্যাতন করতে থাকেন তারা। পরে ইসলামী ব্যাংকের দেড় লাখ টাকার একটি চেকও দেওয়া হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের। পরে তারা খালি স্ট্যাম্পেও সই নেন। এই ঘটনা কাউকে বললে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। পরে চেকটি ফেরত চাইলে তারা দেননি। এক লাখ টাকার কথা বললে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, আদালত বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এ প্রদঙ্গে জানতে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমিত বড়ুয়াকে একাধিকবার কল করা হলেও তার মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সৌদিফেরত এক প্রবাসীর ১৬ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় গত ১৯ মে খুলশী থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমিত বড়ুয়া। বারবার একই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ঘটা এমন সব বিব্রতকর ঘটনায় নগরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ