আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

মার্চ ফর জাস্টিস চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভে যোগ দিলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা প্রায় ১৫দিন পর প্রকাশ্যে এসেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’র দুই সমন্বয়ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলনকারীরা। এর আগে পুলিশ মূল প্রবেশপথে অবস্থান নেওয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মিছিল করে আন্দোলনকারীদের আদালত প্রাঙ্গনে নিয়ে যান। পরে মূল আদালত ভবনের পাশে আইনজীবী এনেক্স ভবনের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিকেল পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। তাদের বিক্ষোভকে ঘিরে আদালত অঙ্গনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
গতকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভের পর আন্দোলনকারীরা আদালত থেকে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেটে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। মিছিলে কিশোর-তরুণ থেকে মধ্যবয়সী হাজারখানেক লোক অংশ নেন। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়, তবে ঠিক কতজনকে আটক করা হয়েছে সেটি জানানো হয়নি।
‘শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়াসহ ৯ দফা দাবিতে’ কেন্দ্রঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন, যদিও পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা মূল আদালত ভবনের সামনে পৌঁছাতে পারেননি।
আদালত প্রাঙ্গনে ঘোষিত কর্মসূচি শুরুর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে লালদিঘীর পাড়ে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে জড়ো হয়। আগে থেকেই লালদিঘীর পাড়, আদালত প্রাঙ্গন থেকে কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত এলাকায় পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে কোনো যানবাহন ঢুকতে দিচ্ছিল না পুলিশ।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দুইদিকের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে আদালতে প্রবেশে বাধা দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পুলিশ দেখলেই আন্দোলনকারীরা ‘ভূয়া, ভূয়া’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। মূল ফটকে পুলিশের শক্ত অবস্থানের কারণে আন্দোলনকারীরা সেদিকে না এগিয়ে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনেই অবস্থান করতে থাকেন।
সকাল ১১টার দিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিছিল করে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে যান। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের বেষ্টনী সরিয়ে আদালত প্রাঙ্গনে যান। তারা আইনজীবী এনেক্স ভবনের সামনে তিন রান্তার মোড়ে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার, আমার ভাই মরল কেন, সরকার জবাব চাই’- এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের ঘিরে থাকেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভস্থলের একপাশে ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ’র ব্যানারে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা মিছিল করার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা মিছিল করেননি। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ায় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এসে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের সরিয়ে নেন।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। এ সময় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’র সহ সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ তিনজন শিক্ষার্থী বক্তব্য দেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্তির ঘোষণা দেন। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়দুল হক বলেন, আন্দোলনকারীরা আদালত প্রাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে শান্তিূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছে। পুলিশের অবস্থান থাকলেও কাউকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভ শেষে তারা চলে গেছেন। কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়নি।
তবে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, প্রাণহানিসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রায় ১৫দিন পর প্রকাশ্যে এসেছেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’র দুই সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ ও খান তালাত মাহমুদ রাফি।
দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন তারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানান।
সমবেতদের উদ্দেশে খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, খুনিদের বিচার না নিয়ে ঘরে ফিরব না আমরা। আমার ভাইদের জেল থেকে বের না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। হয় আমার ভাইদের ছাড়তে হবে, নয়তো কারাগারের আয়তন বড় করতে হবে। সারা বাংলাদেশ জেগে গেছে। ঘরে বসে থাকার সুযোগ আর নেই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ