আজঃ শনিবার ৩০ মে, ২০২৬

ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি

প্রেস রিলিজ

ওয়াসিম

চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম সহ শহীদদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে -----ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরামসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন,আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দীর্ঘ ১৬-১৭টি বছর জনগণের উপর হত্যা নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছিল। তাদের জুলুম নির্যাতনের কারণে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের অনেক নেতা ঘর ছাড়া হয়েছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী চট্টগ্রাম শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। প্রকাশ্যে তারা অস্ত্র উঁচিয়ে খুন রাহাজানি ও নির্যাতন চালাত। গত ১৬ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে সাধারণ ছাত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল । ছাত্রলীগ, যুবলীগের সেই গুলিতেই চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ হয় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক ওয়াসিম আকরাম। শহীদ ওয়াসিম আকরাম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের একজন বীর। শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ যতদিন থাকবে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে চট্টগ্রামে একের পর এক অনেক শহীদ হয়েছে। প্রতিটি হত্যাকান্ডের বিচার হবে।
তিনি আজ ১১ আগষ্ট, রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম সহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে অবিলম্বে ঔ সকল হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ মুগ্ধদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত করেছি। নতুন ভাবে গণতন্ত্র পেয়েছি, মুক্ত ভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, মুক্তভাবে কথা বলছি, মুক্ত ভাবে চলাফেরা করছি, আর কেউ আমাদের টুটি চেপে ধরবে না।এই দেশের জনগণের আশাও আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার এই বিজয় বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভাষা আন্দোলন করতে গিয়েও এত শহীদ হতে হয় নাই, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এত শহীদ হয় নাই। কিন্তু স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৬ বছর শাসন আমলে বিএনপির সহ বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের গুম, হত্যা, নির্যাতন -নিপীড়ন এবং পিলখানার হত্যাকান্ডে ৭৪ জন সেনা অফিসারদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে। এই আন্দোলনের অন্যতম বীর চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের রক্ত বৃথা যায়নি।স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের বিচার এই বাংলাদেশের মাটিতে হবে। কিন্তু অবিলম্বে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে এবং তাদের গডফাদারদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ জনগণ মধ্যে যে আতঙ্ক ও ভয় রয়ে গেছে তা যাবে না। তাই অবিলম্বে খুনি, অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
ডা. শাহাদাত হোসেন ছাত্রদলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি ষড়যন্ত্রকারী চক্র ছাত্র- জনতার বিজয়কে নস্যাৎ করতে পারে। তোমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে। এলাকায় এলাকায় পাহারা বসাতে হবে যেন কোন ষড়যন্ত্রকারী, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও ঘর- বাড়িতে হামলা করতে না পারে। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অব্যাহত রাখতে পারলে আমাদের এই বিজয় সফল হবে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাফরাশ নুরী সিজ্জির সভাপতিত্বে সাইফুল করিম আরিয়ান এর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম,এ সময় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক সালাহউদ্দীন সাহেদ,সামিয়াত আমিন জিসান,আমজাদ হোসেন শাকিল,মুহসিন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন সারজিল,যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,শরিফুল ইসলাম আবির,আমজাদ হোসেন জিহান,এনামুল হক,শাকের উল্লাহ,আজিজুল হক, নাইম ভুঁইয়া,সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,মো: মঞ্জুর ,শোয়াইবুল ইসলাম, আব্দুল কাদের ইভান,মো: নবাব, মো:শরিফ,মো:ইমতিয়াজ অমি, তাহমিনুল হক, মারুফুল ইসলাম সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার (৩০ মে)। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে হত্যা করে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

কর্মসূচিতে রয়েছে, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা। দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটেও একই কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করা হবে।

একই দিন বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

পরদিন ৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম-ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে
এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম-ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নিজের ফেইসবুকে এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চালায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং পরে হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনজনের মাথা ফেটে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
এসময় তাকে ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য তারেক রেজাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল মজিদ এবং বিএনপি কর্মী রাশেদ খানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ফেইসবুক পোস্টে দাবি করেন তিনি।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান করছেন এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে থানার সামনে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পুনরায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।এঘটনার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে এনসিপির কর্মীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ