আজঃ শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

বরেণ্য সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ মিহির লালা না ফেরার দেশে চলে গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক বরেণ্য সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ মিহির লালা আর নেই।তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেছেন সঙ্গীতশিল্পী তাপস কুমার বড়ুয়া। শনিবার সকাল আটটার দিকে তিনি পরলোকে গমন করেন।
বরেণ্য সংগীতজ্ঞের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকে। সঙ্গীতশিল্পী আবদুর রহিম লিখেছেন, ‘তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
শ্যামল মিত্র বড়ুয়া নামে তার এক ছাত্র লিখেছেন, বিনম্র শ্রদ্ধায় ওস্তাদজীকে স্মরণ করছি। উনার এহেন প্রস্থানে শুদ্ধ সংগীত জগতে অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, যা সহজে পুরণ হবার নয়। আমি ওস্তাদজীর সরাসরি ছাত্র। আজ উনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনন্তপথের যাত্রী হয়েছেন। আজ কিছুই দেবার নেই ওস্তাদজীর চরণতলে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং উনার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি।
অসিত দে নামে আরেকজন লিখেছেন, গভীর শোক জ্ঞাপন করছি। চট্টগ্রাম তথা সারা দেশের সংগীতাঙ্গনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। আত্মার শান্তি কামনা করছি ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
নিখিল কৃষ্ণ মণ্ডল লিখেন, সংগীত ভুবনের এক অনন্য দিকপাল প্রিয় দাদার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো , যা কোনদিন পূরণীয় নয়। হয়তো ওনার সংগীত আলো তাঁর শিষ্যদের মাঝে বহুবছর প্রদীপ হয়ে জ্বলবে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা ও পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
জানা গেছে, ওস্তাদ মিহির লালার জন্ম ১৯৪১ সালের ৪ জানুয়ারি। জন্মস্থান কক্সবাজার হলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়ার পোপাদিয়া গ্রামে। বাবা অ্যাডভোকেট চন্দ্র বিনোদ লালা ও মায়ের নাম কুলদাবালা লালা। ৮ সন্তানের মধ্যে মিহির লালা তৃতীয় সন্তান। বড় ভাই রবীন্দ্র নাথ লালা বিখ্যাত ওস্তাদ পণ্ডিত ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম ছাত্র ছিলেন। তিনি অল ইন্ডিয়া মিউজিক কলেজ থেকে প্রফেসর অব ক্লাসিক্যাল মিউজিক ডিগ্রি লাভ করেন। ওস্তাদ মিহির লালার স্ত্রী জয়ন্তী লালা নজরুল সঙ্গীতশিল্পী। তিনিও শাস্ত্রীয় শিক্ষায় দীক্ষা দিয়ে থাকেন। মেয়ে চন্দ্রিমা লালা সঙ্গীতে ডিগ্রি নিয়েছেন ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর ছেলে সুমন লালা একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। সঙ্গীতজীবনে মিহির লালার অর্জন বেশ সমদ্ধ। ২০১৮ সালে মে মাসে সঙ্গীতে অবদান রাখায় তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক হিসেবে অবদান রাখায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি (ঢাকা) তাকে বিশেষ শিল্পী সন্মাননা প্রদান করে।আমৃত্যু উপমহাদেশের শতবর্ষীয় ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র ‘আর্য্য সঙ্গীত সমিতি’ ও সুরেন্দ্র সংগীত বিদ্যাপীঠ’ এর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বরেণ্য সংগীতজ্ঞ
ওস্তাদ মিহির লালা
ছবি-৫
চট্টগ্রাম ব্যুরো: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক বরেণ্য সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ মিহির লালা আর নেই।তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেছেন সঙ্গীতশিল্পী তাপস কুমার বড়ুয়া। শনিবার সকাল আটটার দিকে তিনি পরলোকে গমন করেন।
বরেণ্য সংগীতজ্ঞের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকে। সঙ্গীতশিল্পী আবদুর রহিম লিখেছেন, ‘তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
শ্যামল মিত্র বড়ুয়া নামে তার এক ছাত্র লিখেছেন, বিনম্র শ্রদ্ধায় ওস্তাদজীকে স্মরণ করছি। উনার এহেন প্রস্থানে শুদ্ধ সংগীত জগতে অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, যা সহজে পুরণ হবার নয়। আমি ওস্তাদজীর সরাসরি ছাত্র। আজ উনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনন্তপথের যাত্রী হয়েছেন। আজ কিছুই দেবার নেই ওস্তাদজীর চরণতলে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং উনার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি।
অসিত দে নামে আরেকজন লিখেছেন, গভীর শোক জ্ঞাপন করছি। চট্টগ্রাম তথা সারা দেশের সংগীতাঙ্গনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। আত্মার শান্তি কামনা করছি ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
নিখিল কৃষ্ণ মণ্ডল লিখেন, সংগীত ভুবনের এক অনন্য দিকপাল প্রিয় দাদার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো , যা কোনদিন পূরণীয় নয়। হয়তো ওনার সংগীত আলো তাঁর শিষ্যদের মাঝে বহুবছর প্রদীপ হয়ে জ্বলবে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা ও পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
জানা গেছে, ওস্তাদ মিহির লালার জন্ম ১৯৪১ সালের ৪ জানুয়ারি। জন্মস্থান কক্সবাজার হলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়ার পোপাদিয়া গ্রামে। বাবা অ্যাডভোকেট চন্দ্র বিনোদ লালা ও মায়ের নাম কুলদাবালা লালা। ৮ সন্তানের মধ্যে মিহির লালা তৃতীয় সন্তান। বড় ভাই রবীন্দ্র নাথ লালা বিখ্যাত ওস্তাদ পণ্ডিত ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম ছাত্র ছিলেন। তিনি অল ইন্ডিয়া মিউজিক কলেজ থেকে প্রফেসর অব ক্লাসিক্যাল মিউজিক ডিগ্রি লাভ করেন। ওস্তাদ মিহির লালার স্ত্রী জয়ন্তী লালা নজরুল সঙ্গীতশিল্পী। তিনিও শাস্ত্রীয় শিক্ষায় দীক্ষা দিয়ে থাকেন। মেয়ে চন্দ্রিমা লালা সঙ্গীতে ডিগ্রি নিয়েছেন ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর ছেলে সুমন লালা একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। সঙ্গীতজীবনে মিহির লালার অর্জন বেশ সমদ্ধ। ২০১৮ সালে মে মাসে সঙ্গীতে অবদান রাখায় তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক হিসেবে অবদান রাখায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি (ঢাকা) তাকে বিশেষ শিল্পী সন্মাননা প্রদান করে।আমৃত্যু উপমহাদেশের শতবর্ষীয় ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র ‘আর্য্য সঙ্গীত সমিতি’ ও সুরেন্দ্র সংগীত বিদ্যাপীঠ’ এর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বাংলার জয়যাত্রা*হরমুজ প্রণালি শুরুর পরও আবারও বাধার মুখে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রা শুরুর পর আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন-এর জাহাজ *বাংলার জয়যাত্রা*। ইরানি বাহিনীর নির্দেশে প্রণালিতে প্রবেশের পর জাহাজটির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ইরান হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করলে রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের কাছ থেকে নোঙর তুলে ফুজাইরার উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা থামিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের মতোই ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অনুমতি ছাড়াই প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে জাহাজটি। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে।বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, অনুমতি চাওয়া হলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা ধরে নিয়েছিলেন প্রণালি উন্মুক্ত করা হয়েছে। সে সময় প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজের উদ্দেশে যখন যাত্রা করে তখন *বাংলার জয়যাত্রা*ও তাদের অনুসরণ করে এগিয়ে যায়। হঠাৎ নির্দেশে সব জাহাজের গতিরোধ করা হয়।এর আগে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে ৩১ জন নাবিকসহ প্রায় ৪০ দিন আটকে ছিল জাহাজটি। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ১০ এপ্রিল প্রথমবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি। পরে আবার শারজাহ বন্দরে ফিরে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ